বিয়ের ৮ বছর পর চাইলেন স্ত্রীর মর্যাদা ও জীবনের নিরাপত্তা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ জুন ২০২২,   ১৪ আষাঢ় ১৪২৯,   ২৮ জ্বিলকদ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

বিয়ের ৮ বছর পর চাইলেন স্ত্রীর মর্যাদা ও জীবনের নিরাপত্তা

কুমিল্লা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৫৮ ২৩ জুন ২০২২  

সংবাদ সম্মেলনে নিশাত আহম্মেদ খান ও তার স্বজনরা- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সংবাদ সম্মেলনে নিশাত আহম্মেদ খান ও তার স্বজনরা- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বিয়ের ৮ বছর পর স্ত্রীর মর্যাদা ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন নিশাত আহম্মেদ খান নামে এক নারী। বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে স্বামী ইতালি প্রবাসী মো. মিনহাজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিশাত আহম্মেদ খান বলেন, ২০১১ সালে মিনহাজুর রহমান ইতালি থাকাকালীন তার ভাগনে শহিদুল হক স্বপনের মাধ্যমে পরিচয় হয়। ২০১৩ সালে সে দেশে এসে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। ঐ বছরের ১০ সেপ্টেম্বর নূরপুর হাউজিংয়ের বাসায় মাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়।

তিনি আরো বলেন, বিয়ের আগ মুহূর্তে মিনহাজ জানায়- সে কাবিন রেজিস্ট্রি করতে পারবে না, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে একটা মামলা আছে। ঐ মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাবিন রেজিস্ট্রি করা যাবে না। দুই মাসের মধ্যে মামলা শেষ হবে, এরপরই কাবিন রেজিস্ট্রি করবে। সেই শর্তে বিয়ের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। সেদিন থেকেই আমরা নূরপুর হাউজিংয়ের বাসায় বসবাস শুরু করি। বিয়ের ১৯ দিন পর মিনহাজ আবারো ইতালি চলে যায়। পরে ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর সে দেশে ফিরে আসে। পরদিন বাসায় কাজী ডেকে এনে বিভিন্ন কাগজে আমার স্বাক্ষর নিয়ে বলে বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়ে গেছে।

নিশাত বলেন, বিয়ের আগে আমি জানতাম না মিনহাজের বিরুদ্ধে ইতালিতে জালিয়াতি ও মানবপাচার মামলা আছে। বিয়ের পর সে ইতালি থেকে ইংল্যান্ডে গিয়ে বলে- ওখানে নতুন ব্যবসা করবে। লন্ডনে ব্যবসার কথা বলে আমার ঠিকাদারি ব্যবসার সব টাকা, কুমিল্লার বাড়ি, ঢাকার ফ্লাট বন্ধক রেখে ও ভাড়া দিয়ে টাকা নিয়ে নেয় মিনহাজ। এরপর বিভিন্ন সময় আমাকে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দিতো মিনহাজ। হঠাৎ একদিন জানতে পারি জালিয়াতি ও মানবপাচার মামলায় ইটালির আদালতে মিনহাজের ৮ বছর ৯ মাসের সাজা ও ৫ লাখ ৫৪ হাজার ইউরো জরিমানা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এদিকে মিনহাজ আমাকে বলে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ৬-৭ কোটি টাকা লোন নিতে অথবা অন্য কোনো ব্যাংকে চেষ্টা করতে। এরই মধ্যে মিনহাজের প্রথম স্ত্রী উম্মে সালমা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং মিনহাজ সম্পর্কে সবকিছু জানায়। সালমা ও তার ভাইয়ের নামে লোন করে মিনহাজ অনেক টাকা নিয়ে গেছে কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই লোনের টাকা পরিশোধ করেনি।

নিশাত বলেন, সব জানার পর আমি মিনহাজের ফাঁদে পা না দিয়ে ধার নেয়া টাকা ফেরত চাই। এটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় আমার জন্য। সে বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু করে মিথ্যা মামলা, বাড়ি থেকে উচ্ছেদ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এরই মধ্যে হঠাৎ আমার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় মিনহাজ। আমি সব ঝামেলা থেকে মুক্তি, মিনহাজের স্ত্রী হিসেবে মর্যাদা ও আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই।

সংবাদ সম্মেলনে নিশাত আহম্মেদ খানের পরিবারের সদস্য, স্বজন ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর

English HighlightsREAD MORE »