বন্যার পানিতে আটকে পড়াদের উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তারা

ঢাকা, রোববার   ২৬ জুন ২০২২,   ১২ আষাঢ় ১৪২৯,   ২৭ জ্বিলকদ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

বন্যার পানিতে আটকে পড়াদের উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তারা

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:২৭ ২২ জুন ২০২২  

বন্যার পানিতে আটকেপড়া ছয়টি পরিবারের ২৬ জন মানুষকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে সোহানের মতো আশিক, ফিরোজ, হাফিজুর, আবির, রুবেলসহ আরো সাত আটজন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বন্যার পানিতে আটকেপড়া ছয়টি পরিবারের ২৬ জন মানুষকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে সোহানের মতো আশিক, ফিরোজ, হাফিজুর, আবির, রুবেলসহ আরো সাত আটজন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘আসলে সেদিন নামাজের পর বন্যার পানি দেখার উদ্দেশ্যে যাই। দূর থেকে মনে করি বন্যার পানি আসছে। তা দেখে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড দেই।  বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে বা কাছে গেলে বুঝা যায়, তারা কতোটা কষ্টে আছে।’ 

গত শুক্রবার বিকেলে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের সৃষ্ট বন্যার পানিতে আটকেপড়া ছয়টি পরিবারের ২৬ জন মানুষকে উদ্ধারের ঘটনায় বুধবার দুপুরে অনুভূতি জানতে চাইলে সোহান নামের এক স্বেচ্ছাসেবী যুবক এসব কথা বলেন।

সোহান বলেন, ওই দিন গিয়ে দেখি স্কাউট সদস্য আশিক তার টিম নিয়ে রাস্তায় কাজ করছেন। ফায়ার সার্ভিস তাদের মতো করে কাজ চালাচ্ছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদুল হক মনির সেদিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। মহারশি নদীর ভাঙনের সম্মুখের এক বাড়িতে গর্ভবতী নারী, শিশুসহ ১৭ থেকে ১৮ জন মানুষ আটকা পড়ে। 

সৃষ্টি হিউম্যান রাইটস্ সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবীরা

তিনি বলেন, সবাই বলতেছিল, যেকোনো সময় পানির স্রোতে ওই বাড়িটা ভেসে যেতে পারে। বাড়িটা ভেসে গেলে মারা যেতে পারে অনেকেই। পরে আমরা কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী ওই বাড়িতে যাওয়ার জন্য ফায়ার সার্ভিসের লাইফ জ্যাকেট পড়ে পানিতে নামি। কিছু দূর যাওয়ার পর দেখি, ফায়ার সার্ভিসের একজন সদস্য লাইফ জ্যাকেট ছাড়া ওই বাড়িতে যাচ্ছেন। পরে আমার নিজের লাইফ জ্যাকেট খুলে ওই সদস্যকে দেই। খালি গায়েই পানির স্রোত অতিক্রম করে অনেক চেষ্টার পর ওই বাড়িতে পৌঁছি।

তিনি আরো বলেন, ওই বাড়িতে গিয়ে দেখি ১২ জন লোক আছেন। পরে চেয়ারম্যান শাহাদতের ব্যবস্থা করা নৌকা এক ঘণ্টা চেষ্টা করে ওই বাড়িতে নিয়ে যাই। পরে নৌকা দিয়ে একজন গর্ভবতী নারীকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করি আমরা। পরে বাকিদের নৌকা দিয়ে পার করি।  

শুধু সোহান নয়। ওইদিন পাহাড়ি ঢলের সৃষ্ট বন্যার পানিতে আটকেপড়া ছয়টি পরিবারের ২৬ জন মানুষকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে সোহানের মতো আশিক, ফিরোজ, হাফিজুর, আবির, রুবেলসহ আরো সাত আটজন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেন।

খৈলকুড়া গ্রামের আক্কেল আলী বলেন, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা আমার নাতনিসহ পরিবারের সবাইকে উদ্ধারে যে ভূমিকা রেখেছে তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। দোয়া করি আল্লাহ তাদের দীর্ঘজীবী করুক।

সৃষ্টি হিউম্যান রাইটস্ সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবীরা বন্যার্তদের মাঝে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

ঝিনাইগাতী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদস্য মান্নান বলেন, ঢলের পানিতে সৃষ্ট বন্যায় আটকে পড়া পরিবারগুলোকে জনপ্রতিনিধিসহ স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরানোর কাজ করেছি। আমাদের কাজে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদৎ হোসেন, সদস্য মো. জাহিদুল হক মনির সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা যে কাজ করেছে, তাতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তারা।

সৃষ্টি হিউম্যান রাইটস্ সোসাইটির সহকারী পরিচালক মো. নাঈম ইসলাম বলেন, ‘কিছু কাজ আছে যা নিজের বিবেকের তাড়নায় করতে হয়। সেগুলো জীবনে প্রশান্তি এনে দেয়, তা আরো নতুন করে ভালো কিছু কাজের উৎসাগ যোগায়। বন্যায় আটকেপড়াদের উদ্ধারে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবীদের স্যালুট জানাই।’ 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে

English HighlightsREAD MORE »