বশেমুরবিপ্রবির তিন হলে খাবার বন্ধ, বিপাকে শিক্ষার্থীরা 

ঢাকা, রোববার   ২৬ জুন ২০২২,   ১২ আষাঢ় ১৪২৯,   ২৬ জ্বিলকদ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

বশেমুরবিপ্রবির তিন হলে খাবার বন্ধ, বিপাকে শিক্ষার্থীরা 

বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:১৭ ২২ জুন ২০২২  

বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল হল। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল হল। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দীর্ঘদিন ধরে হলের নিয়মিত ডাইনিংয়ের খাবার সরবারাহ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 

গত মে মাস থেকে নিয়মিত খাবার সরবারাহ বন্ধ রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস হল ও শেখ রেহানা হল। এদিকে বাবুর্চিদের বেশি লাভ ও সিন্ডিকেট তৈরি করে গত মঙ্গলবার থেকে বন্ধ রয়েছে শেখ রাসেল হলের ডাইনিং। একইসঙ্গে ঐ হলের বাবুর্চি ও সিন্ডিকেটের নেতৃত্বদানকারী মো. মহিদুল ফকিরের সহকারী প্রভোস্ট হাসেম রেজার সঙ্গে অসদাচারণকে কেন্দ্র করে তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।  

অন্যদিকে ছেলেদের বিজয় দিবস হল ও মেয়েদের বেগম ফজিলাতুন্নেছা হলে নিয়মিত খাবার সরবারাহ করা হলেও, খাবারের মান ও দাম নিয়ে অসন্তোষ জানান  শিক্ষার্থীরা। একদিকে চড়া দামে খাবার ক্রয় ও অন্যদিকে  অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করে তাদের পোহাতে হচ্ছে নানা সমস্যা।
   
এ দিকে সহকারী প্রভোস্ট হাশেম রেজা সঙ্গে বাবুর্চির অসদাচরণের বিচার চেয়ে ও হলের খাবারের সমস্যা দূর করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর আবেদন করেছেন শেখ রাসেল হলের শিক্ষার্থীরা। 

তাদের দাবি, শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণ ও নানা দুর্নীতির জন্য দোষী মহিদুলকে বরখাস্ত করতে হবে। 

অন্যদিকে মেয়েদের শেখ রেহানা হল ও ছেলেদের স্বাধীনতা দিবসের হলে খাবার বন্ধের বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে রাজি নন বেশিরভাগ শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, প্রভোস্টদের খারাপ ব্যবহার ও সিট হারানোর ভয়ে অনেকেই অধিকার নিয়েও মুখ খুলবে না। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, বর্তমানে আমাদের বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা চলমান। হলের এই খাবার বিড়ম্বনায় আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আমাদের জন্য বিষয়টি আরো অধিকতর কঠিন হয়ে যাবে। 

এ নিয়ে কথা হয় শেখ রেহানা হলের প্রভোস্ট মো. রোকনুজ্জামানের সঙ্গে৷ তিনি জানান, পূর্বে হলের ক্যান্টিন পদ্ধতি চালু থাকলেও বর্তমানে নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীরা খাবার না খাওয়ায় আপাতত খাবার সরবারাহ বন্ধ রয়েছে। আমরা বাবুর্চিদের সঙ্গে আলোচনা করছি। আশা করি দ্রুত ছাত্রীদের খাবারের জোগান দিতে পারবো। 

অন্য দিকে স্বাধীনতা দিবসের হল প্রভোস্ট মাহবুব আলমের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোরাদ হোসেন জানান, হলে খাবার বন্ধ থাকার বিষয়টি আসলে দুঃখজনক। আমরা বাবুর্চিদের সিন্ডিকেট ভেঙে সংশ্লিষ্ট দোষীদের প্রতি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এরইমধ্যে আমরা শেখ রাসেল হলের প্রভোস্টের সঙ্গে বেয়াদবি করায় এক বাবুর্চিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। আশা করি এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »