রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেনের আস্তানায় বন্দি মাদরাসাছাত্র

ঢাকা, শনিবার   ২৫ জুন ২০২২,   ১১ আষাঢ় ১৪২৯,   ২৬ জ্বিলকদ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেনের আস্তানায় বন্দি মাদরাসাছাত্র

এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন, কক্সবাজার ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০৩ ২২ জুন ২০২২   আপডেট: ১৯:২৫ ২২ জুন ২০২২

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ক্যাডার রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেনের আস্তানায় জিম্মি মাদরাসাছাত্রের দীর্ঘ ২৭ দিনেও মুক্তি মেলেনি। মিয়ানমারের ওপারে চিংড়ি ঘেরে আটকে রাখা হয়েছে উখিয়ার পালংখালী ফারিরবিল ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার ৭ম শ্রেণির ছাত্র দীল মোহাম্মদকে (১৪)।

ঐ ছাত্রকে বন্ধক রেখে এ পারের ইয়াবা সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা বাকিতে ৫০ লাখ টাকার ইয়াবা কিনে আনে নবী হোসেনের কাছ থেকে। ইয়াবার টাকা পরিশোধ না করায় মাদরাসাছাত্র দীল মোহাম্মদকে আটকে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার বড় ভাই নুর কামাল। রোহিঙ্গা জঙ্গি নেতা নবী হোসেনকে ধরার জন্য সম্প্রতি কক্সবাজার-৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ান ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত ২৫ মে উখিয়া পালংখালী ইউনিয়নের ফারিরবিল মাদরাসার রাস্তা থেকে কয়েকজন যুবক দীল মোহাম্মদকে মাছ ধরার কথা বলে নাফ নদীতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে নৌকায় তুলে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি চিংড়ি ঘেরে নবী হোসেনের লোকজনের জিম্মায় রেখে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ইয়াবা নিয়ে আসে স্থানীয় পালংখালীর বটতলী আনজুন পাড়ার রশিদ আহমদের পুত্র জাফরুল ইসলাম বাবুল, ফরিদ আলমের পুত্র মো. রাজু, গফুর আলমের পুত্র মোহাম্মদ রাফাইল, সোহেল, শামসুল আলমের পুত্র বাপ্পারাজ, তার ভাই সাইফুল ইসলাম, মৃত ফরিদ আলমের পুত্র বাবুইয়া, গফুর আলমের পুত্র মোহাম্মদ রাসেল, মৃত রশিদ আহমদের পুত্র এনামুল কবির ও ভুলু মিস্ত্রির পুত্র মোহাম্মদ রিদোয়ানসহ আরো ৬/৭ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী। তারা পরস্পর যোগসাজশে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা নিয়ে আসলে পালংখালী (বিওপি) ফাঁড়ির বিজিবির হাতে তা ধরা পড়ে।

পরে মিয়ানমারের বন্দি শিবির থেকে ফোন আসে দীল মোহাম্মদের বড় ভাই নুর কামালের কাছে। কারা তার ভাইকে সেখানে নিয়ে গেছে এবং বন্ধক রেখেছে তা জানতে চাইলে উল্লিখিত লোকদের নাম-ঠিকানা বলা হয়। অপহৃত দীল মোহাম্মদ পালংখালী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোনার পাড়ার আবদুল গফুরের পুত্র।

তার মা মোস্তফা খাতুন জানান, তার ছেলে দীল মোহাম্মদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন, অভিযুক্তরা তার ছেলেকে অপহরণ করে রোহিঙ্গা জঙ্গিগোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইয়াবার চালান নিয়ে আসে। শর্ত দেওয়া হয়- বাকিতে আনা ইয়াবার টাকা পরিশোধ করা হলে ঐ ছেলেকে ফেরত পাঠানো হবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সে মিয়ানমারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেনের কাছে বন্দি রয়েছে।

এদিকে আটকে পড়া দীল মোহাম্মদের বড় ভাই নুর কামাল বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উখিয়া থানা, র‍্যাব-১৫ ও বিজিবির কাছে পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অপরদিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দীন চৌধুরী জানান, তিনি এ বিষয়ে অবগত রয়েছেন। ঘটনার পরপর তার কাছে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন এসেছিলেন। তাদের কথামত পুলিশ এবং র‍্যাবকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

উখিয়ার পালংখালী ফারিরবিল ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ জমির উদ্দীন জানান, দীল মোহাম্মদ তার মাদরাসার ৭ম শ্রেণির ছাত্র। তবে দীর্ঘদিন ধরে সে অনুপস্থিত।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম/এইচএন

English HighlightsREAD MORE »