কেন ঝুঁকিপূর্ণ ছিল ‘ক্রিমিয়া সেতু’ নির্মাণ?

ঢাকা, শনিবার   ২৫ জুন ২০২২,   ১১ আষাঢ় ১৪২৯,   ২৬ জ্বিলকদ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

কেন ঝুঁকিপূর্ণ ছিল ‘ক্রিমিয়া সেতু’ নির্মাণ?

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২৫ ২২ জুন ২০২২  

ক্রিমিয়া সেতু। ছবি: সংগৃহীত

ক্রিমিয়া সেতু। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ক্রিমিয়াকে সংযুক্ত করতে ক্রেচ প্রণালীর ওপর নির্মাণ করা হয় ১৯ কিলোমিটার লম্বা ‘ক্রিমিয়া সেতু’। এ সেতুটি নির্মাণ করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বলা হয়, রাশিয়ার গৃহীত সব ঝুঁকিপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে এটি অন্যতম। কিন্তু কেন?  

সাত হাজার পাইলের ওপর নির্মিত এই সেতুর সবচেয়ে গভীর পাইল সমুদ্রের তলদেশে ১০০ মিটার গভীরতায় বিস্তৃত। আবার জাহাজ চলাচলের জন্য দুটি আর্চ তৈরি করতে হয়েছে। সেতুটি করতে সেগুলোর পিলারও অনেক উঁচু করতে হয়েছে। এই সেতুতে চার লেনের সড়ক পথ ও ডাবল ট্র্যাক রেললাইন রয়েছে। 

ক্রিমিয়া সেতু। ছবি: সংগৃহীত

সেতুটির ১৯৯৩ সাল থেকে নির্মাণের চিন্তা করা হলেও ২০১৪ সালে এই চিন্তাটি অধিক গুরুত্ব পায়। জানুয়ারি ২০১৫ সালে সেতু নির্মাণের জন্য মাল্টিবিলিয়ন- ডলার চুক্তি অরকাডয় রোটেনবার্গের স্টোগাজমোনটাজ সংস্থা জয়ী হয়। মে ২০১৫ সালে সেতু নির্মাণ শুরু হয়। সড়ক সেতুটি ১৬ মে ২০১৮ তারিখে খোলা হয় এবং রেল লাইনটি সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২০১৯ সালে এটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত টোলমুক্ত সেতুটিতে দৈনিক গড়ে ২০ হাজার মোটরযান এবং ৫০টি ট্রেন চলাচল করে থাকে।

ক্রিমিয়া সেতু। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের সবচেয়ে দীর্ঘ সেতুটি চলমান ইউক্রেন যুদ্ধে সামরিক কৌশলে বড় ভূমিকা পালন করছে। কৃষ্ণ সাগর উপত্যকায় যুদ্ধ সরঞ্জাম এবং সৈন্য পরিবহনে এই সেতু ব্যবহার করছে রাশিয়া।

তবে সেতুটি নির্মাণ করার কাজ বেশ জটিল হয়ে উঠেছিল।  এই সেতু নির্মাণ করা হয়েছে প্রচণ্ড বৈরী আবহাওয়ার ব্ল্যাক সির ওপর দিয়ে। এছাড়া সাগরের তলদেশে ৭০টি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি থাকায় এই সেতুটি নির্মাণ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।

ক্রিমিয়া সেতু। ছবি: সংগৃহীত

তাছাড়া আক-বুরুণ কেপের নিকটে পানির তলদেশে খননের সময় ক্রিমিয়া সেতু নির্মাণ স্থানে একটি বড় গ্রীক পোড়ামাটির মূর্তির একটি অংশ পাওয়া যায়। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে এটি একটি অনন্য আবিষ্কার, যেহেতু এটি উত্তর কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে প্রথম এই ধরনের প্রত্নতাত্ত্বিক দ্রব্য পাওয়া যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি

English HighlightsREAD MORE »