‘স্থায়ী শিক্ষক না থাকায় ক্লাস শুরু হতে দেরি’

ঢাকা, শনিবার   ২৫ জুন ২০২২,   ১১ আষাঢ় ১৪২৯,   ২৬ জ্বিলকদ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

‘স্থায়ী শিক্ষক না থাকায় ক্লাস শুরু হতে দেরি’

রাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৫ ২২ জুন ২০২২  

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ১২টি অনুষদের অধীনে রয়েছে মোট ৫৯টি বিভাগ। এসব বিভাগগুলোর মধ্যে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান অন্যতম। বিভাগটিতে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এরই মধ্যে বিভাগটি পার করেছে অর্ধযুগ।

তবে এখনো নিয়োগ দেয়া হয়নি স্থায়ী কোনো শিক্ষক। ধার করা (খন্ডকালীন) শিক্ষক দিয়েই চলছে বিভাগটির শিক্ষা কার্যক্রম। ফলে বিভাগের কোর্স সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগছে। দীর্ঘ সেশনজটের আশঙ্কায় শিক্ষার্থীরা।  

শিক্ষার্থীরা জানান, স্থায়ী শিক্ষক না থাকায় সব বর্ষের ক্লাস শুরু হচ্ছে দেরিতে। নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে তিন-চার মাস বেশি সময় লাগছে কোর্স শেষ হতে। আর অস্থায়ী শিক্ষক চলে গেলে, মাঝপথেই থেমে যায় কোর্সের ক্লাস।
 
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভাগটি ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে পর্যন্ত কোনো স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। চলতি বছরের মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সালাহ উদ্দিনকে তিন বছরের জন্য সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তুষার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক আমাদের এখানে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে ক্লাস নেন। এমনটি চলতে থাকলে দীর্ঘ সেশনজটে পড়ব আমরা। তাই দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, স্থায়ী শিক্ষক না থাকায় কিছুটা সমস্যা হয়। প্রতিটা বর্ষ শেষ হতে অতিরিক্ত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। আমাদের একজন শিক্ষক চলে গিয়েছেন, ঐ শিক্ষকের ক্লাস এখনো শুরু হয়নি। নতুন শিক্ষক যোগদান করলে এ ক্লাস আবার শুরু হবে। কিন্তু স্থায়ী শিক্ষক থাকলে এ সমস্যার সৃষ্টি হতো না। 

আরেক শিক্ষার্থী জনি মাহমুদ বলেন, আমাদের বিভাগে ইতিহাসে কোন স্থায়ী শিক্ষক নেই। ধার করা শিক্ষক দিয়ে আমাদের ক্লাস চলছে। খুব বেশি একটা সমস্যা হয় না। তবে ক্লাসগুলো নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতে পারি না।

এ বিষয়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সালাহ উদ্দিন বলেন, নিজস্ব কিছু শিক্ষক থাকলে বিভাগের বিষয়ে ভালোভাবে সার্বক্ষণিক চিন্তা করা যায়। শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিভাগ থেকে আমরা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলাম। কিন্তু পূর্বের প্রশাসনের সময়ে নানা কারণে নিয়োগ আটকে যায়। সব কোর্সের ক্লাস নিয়মিত হচ্ছে। কোন কোর্সের ক্লাস আটকে নেই বলেও জানান বিভাগের সভাপতি।  
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একটা বিভাগ যখন খোলা হয়, তখন তার শিক্ষার সব আয়োজন করা হয়। স্থায়ী শিক্ষক না থাকায় আমি মনে করি শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। পূর্বের প্রশাসনের দুর্নীতির কারণে এ মুহূর্তে আমরা কোনো নিয়োগ দিতে পারছি না। ছাত্ররা বঞ্চিত হোক, এটা আমরা চাই না। তাই আশপাশের বিভাগের থেকে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা করছে বিভাগ। এ বিষয়ে বিভাগের কোনো সহায়তা লাগলে, আমরা তাদের সাহায্য করবো।

শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে প্রো-ভিসি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেই আমরা শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »