শিকলবাহা খালের খনন শেষ হলে চট্টগ্রাম শহরের সৌন্দর্য বাড়বে

ঢাকা, রোববার   ২২ মে ২০২২,   ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ২০ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

শিকলবাহা খালের খনন শেষ হলে চট্টগ্রাম শহরের সৌন্দর্য বাড়বে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১৩ ২১ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৫:২৮ ২২ জানুয়ারি ২০২২

লেংগ্যা-শিকলবাহা চৌমুহনী নয়াহাট খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক- ছবি: সংগৃহীত

লেংগ্যা-শিকলবাহা চৌমুহনী নয়াহাট খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক- ছবি: সংগৃহীত

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক বলেছেন, শিকলবাহা খাল পুরোটাই ভরাট এবং অবৈধ স্থাপনা ছিল। খালের পাড় দখল করে বানানো হয়েছিল গরুর ঘর। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ শুরু করে। খাল খনন ও ড্রেজিং করা হয়েছে। অনেকবার স্থানীয়দের সাবধান ও পরিবেশ অধিদফতর থেকে দখলদারদের জরিমানা করা হয়েছে। এরপরও দূষণ থেমে নেই। তবে খননকাজ শেষ হলে শিকলবাহা খালের পানি লোকজন ব্যবহার করতে পারবে এবং শহরের সৌন্দর্য বাড়বে।

শুক্রবার দুপুরে কর্ণফুলী উপজেলায় লেংগ্যা-শিকলবাহা চৌমুহনী নয়াহাট খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেলটা প্ল্যানের আওতায় সারাদেশে ৫১২টি খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে। আমরা আশা করছি, ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারব। তারপর দ্বিতীয় ধাপে কাজ শুরু হবে, যেখানে তালিকায় রয়েছে ৪ হাজার ২৬টি খাল। দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু করতে তিন-চার বছর সময় লাগবে। সব কাজ শেষ হলে বর্ষায় উজান থেকে আসা পানির ধারণক্ষমতা বাড়বে।

তিনি আরো বলেন, গত বছর একাধিকবার বন্যা হওয়ার পরও সেভাবে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়নি। বাঁধ ভেঙে যায়নি, বাঁধের পানি উপচে পড়েছে। যেখানে গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানেও বাঁধের ক্ষতি হয়নি। আমরা যদি ৬৪ জেলায় ছোট নদী ও খাল খনন কাজ শেষ করতে পারি তাহলে বর্ষায় এসব নদী ও খালে পানি ধারণক্ষমতা বাড়বে। তখন গ্রাম প্লাবিত হবে না। ক্ষতির পরিমাণ কমে সহনীয় অবস্থায় আসবে। প্রকল্প জনগণের কল্যাণের জন্য। সেখানে জনগণের সহযোগিতা লাগবে। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া প্রকল্পের কাজ শেষ করা যাবে না। একজন লোকের জন্য পাঁচ হাজার মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন উল্লেখ করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা উন্নয়নশীল দেশে চলে এসেছি। ২০৩০ সালে মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে ও ৪১ সালে সমৃদ্ধশালী দেশে পৌঁছে যাব। সমৃদ্ধশালী দেশে পৌঁছাতে গেলে ছোটখাট কাজগুলো করতে হবে। সেখানে কোনো ধরনের বাধা মানা হবে না। জনগণকে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে, কারণ দেশটা সবার। আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে চাই, তাহলে সবাইকে একসঙ্গে মিলে কাজ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, আমরা কর্ণফুলীর তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিলাম। করোনার জন্য উচ্ছেদের কাজটা স্থগিত রেখেছি। কারণ, করোনাকালে লোকজনের আয় ও উপার্জন সব থেমে গিয়েছিল। শুধু কর্ণফুলী নয়, সারাদেশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজটা সাময়িক স্থগিত করে রেখেছি। করোনার প্রভাব কমে আসলে উচ্ছেদ  কার্যক্রম শুরু করব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম পৌর বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী তন্ময় কুমার ত্রিপুরা, কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ফারুক চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনা সুলতানা, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম পৌর বিভাগ-১ এর কর্মকর্তা সিজেন চাকমা, মো. মানজুর এলাহী প্রমুখ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ/এমএস

English HighlightsREAD MORE »