অক্সিজেন সরবরাহে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর তিন ফর্মুলা

ঢাকা, রোববার   ২০ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৬ ১৪২৮,   ০৮ জ্বিলকদ ১৪৪২

অক্সিজেন সরবরাহে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর তিন ফর্মুলা

নিজস্ব প্রতিবেদক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪৩ ৬ মে ২০২১  

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান- ফাইল ফটো

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান- ফাইল ফটো

দেশের হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহের তিন ফর্মুলা (পদ্ধতি) অনুসরণ করার ব্যাপারে মতামত প্রদান করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।

বৃহস্পতিবার প্রতিমন্ত্রী তিনটি ফর্মুলার কথা সাংবাদিকদের জানান। ফর্মুলাগুলো হচ্ছে- সিলিন্ডারের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ, অক্সিজেন লিকুইড ট্যাঙ্ক স্থাপন ও তিনটি ব্যাক আপ লাইনের মাধ্যেমে অক্সিজেন জেনারেটর স্থাপন।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, করোনার সংক্রমণে অক্সিজেনের সংকট নিরসনে প্রথমত, পুরনা যে পদ্ধতি সিলিন্ডারের মাধ্যমে পাইপ লাইনে অক্সিজেন সরবরাহ করা (যেটা প্রত্যেক হাসপাতালেই আছে, এ সংখ্যা আরো বাড়ানো উচিত)। দ্বিতীয়ত, অক্সিজেন লিকুইড ট্যাঙ্ক একবার ভর্তি করতে পারলে ৪০০-৫০০ বেডের হাসপাতালে ১৫ দিন নিরবছিন্নভাবে অক্সিজেন সরবরাহ করা যায়। 

তৃতীয়ত, অক্সিজেন জেনারেটর, যার মাধ্যমে বাতাস থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করা যায এবং পাইপ লাইনের মাধ্যমে তা রোগীদের কাছে পৌঁছে দেয়া যায়। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, অক্সিজেন জেনারেটর নষ্ট হতে পারে, ব্লাস্ট হতে পারে কিংবা যেকোনো কারণে বিকল হতে পারে। এজন্য অক্সিজেন জেনারেটরের তিনটি লাইন মজুত থাকতে হবে, যাতে করে ফার্স্ট লাইন বিকল হলে সেকেন্ড, থার্ড লাইন চালু থাকে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনা নিয়ে দেশের মানুষের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দিক-নির্দেশনায় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিরলস প্রচেষ্টায় আমরা এখন এমন একটা অবস্থানে দাঁড়িয়েছি যে সংকট আরো বাড়লেও আমরা তা সামলাতে পারব।

তিনি বলেন, করোনার সংক্রমণমুক্ত হতে চাইলে যত বেশি মানুষকে সম্ভব টিকা দিতে হবে। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রেজেনেকার টিকার সংকট দেখা দেয়ায় বিকল্প টিকার উৎসের সন্ধান করতে হবে। এরই মধ্যে সরকার চীনের সঙ্গে কথা বলেছে। তারা শিগগিরই পাঁচ লাখ ডোজ টিকা দেবে। রাশিয়ার উদ্ভাবিত টিকার ব্যাপারে আলোচনা চলছে। এই টিকাও চলে আসবে। দেশীয় বঙ্গভ্যক্স টিকা তৈরির ব্যাপারেও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি) অনুমোদন দিয়েছে।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে যত মহামারি হয়েছে, সবগুলো টিকাদানের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। আমাদের ৬০-৮০ শতাংশ জনগণকে টিকা নিয়ে করোনার সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব। আমরা অক্সিজেনের ব্যাপারে ভারতের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। ভারত থেকে রিফিল অক্সিজেন অনার পর সিলিন্ডারগুলো রিফিল হতো। আমাদের অক্সিজেন লিকুইড ট্যাঙ্কে সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে ভারতে অক্সিজেনের ক্রাইসিস বলে আমাদের দেশেও অক্সিজেন নিয়ে কিছুটা অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। পরনির্ভরশীলতা কমাতে এজন্য দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়াতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ