হেফাজতের তাণ্ডবের ৮ বছর আজ

ঢাকা, রোববার   ০৯ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৭ ১৪২৮,   ২৬ রমজান ১৪৪২

হেফাজতের তাণ্ডবের ৮ বছর আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৩৯ ৫ মে ২০২১   আপডেট: ১০:৪০ ৫ মে ২০২১

মতিঝিলে হেফাজতের নেতাকর্মীদের তাণ্ডব। ফাইল ছবি

মতিঝিলে হেফাজতের নেতাকর্মীদের তাণ্ডব। ফাইল ছবি

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে ব্যাপক সহিংসতা ও তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম। ‘নাস্তিক ব্লগারদের’ বিচারের দাবির নামে হেফাজতের ওই আন্দোলনের লক্ষ্যই ছিলো সরকার পতন ঘটিয়ে দেশে তালেবানি সরকার গঠন করা। আর এ ঘটনায় দায়ের মামলাগুলোতে বিএনপি-জামায়াতের সম্পৃক্ততার দালিলিক প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। 

আট বছর আগে মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ওই ভয়াবহ তাণ্ডবের ঘটনায় করা মামলাগুলোর তদন্ত প্রায় শেষ। ৭০টি মামলার মধ্যে ১৬টির অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাকীগুলোরও অভিযোগপত্র দেয়া হবে শিগগিরই। 

২০১৩ সালের এ দিনে শাপলা চত্বরে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য অবস্থানের কথা বলে হেফাজতে ইসলাম শেষ পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করে। সেই সঙ্গে ওই এলাকাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

সেদিন ভোর থেকেই রাজধানীর প্রবেশপথগুলোর দখল নেয় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। গাবতলী বাস টার্মিনাল, টঙ্গী, কাঁচপুর ব্রিজসহ রাজধানীকে ঘিরে ছয়টি প্রবেশমুখেই অবস্থান নেয় কওমি মাদরাসার হাজার হাজার ছাত্র, শিক্ষক ও ক্যাডাররা।

এতে সারাদেশে ব্যাপক অস্বস্তি নেমে আসে। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংকের বুথে আগুন দেয়া, লুটপাট ও সড়কের মাঝের শত শত গাছ উপড়ে ফেলা হয়। ফুটপাতের শত শত বইয়ের দোকানও পুড়িয়ে দেয়া হয়।

পুলিশের সঙ্গে দিনভর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কয়েক হাজার হেফাজতকর্মীর এ সমাবেশে নেতারা উত্তেজনাকর বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করে। দেশের বিভিন্ন স্থানেও শুরু হয় ব্যাপক সহিংসতা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মধ্য দিয়ে তাদের অবস্থান কর্মসূচির অবসান ঘটে।

সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর ঘিরে সারাদেশে হেফাজতের ফের তাণ্ডবের পর নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নতুন মামলার সঙ্গে ‘শাপলা চত্বরের’ মামলাগুলোও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

এসব পুরনো মামলায় সম্প্রতি হেফাজতের অনেক রথী-মহারথীকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বেরিয়ে আসছে সরকার পতনের চেষ্টাসহ অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। 

সেদিন হেফাজত মসজিদকে আশ্রয় করে বোমা হামলা ও সহিংসতা চালায় বলেও অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের। ২০১৩ সালের মামলায় হেফাজত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরীর দেয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিকে গুরুত্বে নিয়ে তদন্ত এগুচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে পল্টন থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিকি বলেন, ২০১৩ সালের পুরনো মামলার আসামিদের নতুন সহিংসতার মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের পুরনো মামলায়ও গ্রেফতার করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

ওই ঘটনায় রাজধানীর ৫৩টি মামলার মধ্যে রমনা থানায় ৩টি, শাহবাগ থানায় ৪টি, কলাবাগান থানায় ২টি, শেরেবাংলা নগর থানায় ১টি, মতিঝিল থানায় ৬টি, পল্টন থানায় ৩৩টি, রামপুরা থানায় ১টি ও যাত্রাবাড়ী থানায় ৩টি মামলা হয়। 

এতে হেফাজতের অর্ধশতাধিক কেন্দ্রীয় নেতাসহ কয়েক হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। এগুলোর মধ্যে রমনার ১টি, শাহবাগের ১টি ও কলাবাগান থানার ২টি মামলায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর