কাস্টমস ও ভ্যাট: করোনাকালেও চলছে ২৪ ঘণ্টা সেবা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৮,   ০৫ শাওয়াল ১৪৪২

কাস্টমস ও ভ্যাট: করোনাকালেও চলছে ২৪ ঘণ্টা সেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৪৩ ১০ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৯:০১ ১০ এপ্রিল ২০২১

কাস্টমস ও ভ্যাট: করোনাকালেও চলছে ২৪ ঘণ্টা সেবা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কাস্টমস ও ভ্যাট: করোনাকালেও চলছে ২৪ ঘণ্টা সেবা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দেশে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে ২৪ ঘণ্টা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন কাস্টম হাউস, বিমানবন্দর ও শুল্ক স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। করোনা পরিস্থিতিতেও জরুরি সেবা দিতে তারা পিছপা হচ্ছেন না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত ‘চলাচল নিষেধাজ্ঞা’র মধ্যেও আমদানি-রফতানি সচল রাখতে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ওষুধ ও অন্যান্য শিল্পের ভ্যাট আদায়, হোটেল রেস্তোরাঁ মনিটরিংসহ রফতানি উৎসাহে মাঠে জরুরি সেবা দিচ্ছেন তারা। অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলসহ সব ধরনের ভ্যাট সেবা ও রাজস্ব আদায় অব্যাহত আছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, করোনা আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত একজন কাস্টমস কমিশনারসহ নয়জন কর্মকর্তা মারা গেছেন। তাদের সংস্পর্শে এসে করোনা আক্রান্ত হয়ে পরিবারের অনেক সদস্যও মারা গেছেন। এছাড়া ৫ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো আক্রান্ত হয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে আক্রান্ত হচ্ছেন ১০ জনেরও অধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, আমদানি-রফতানি বন্ধ হলে পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। আর রাজস্ব আদায় না হলে উন্নয়নের চাকা অচল হয়ে যাবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করোনার মধ্যেও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে পিছপা হচ্ছেন না।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত (জুলাই-মার্চ) ৯ মাসে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৬৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা (সাময়িক)। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় আহরণ প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এরমধ্যে কাস্টমস খাতে আদায় হয়েছে ৫৩ হাজার ৯৯৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এ খাতে আহরণ প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ, যা তিন বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া ভ্যাট খাতে আদায় হয়েছে ৬৭ হাজার ৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আয়কর খাতে আদায় হয়েছে ৫৫ হাজার ৮০৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা, প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

শুল্ক স্টেশনের কমিশনাররা বলছেন, কাস্টমস হাউসে কর্মকর্তাদের আমদানিকারক-সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ অল্প জায়গায় শত শত লোকের মধ্যে সেবা প্রদান করতে হয়। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি নিয়ে পণ্য পরীক্ষা করতে হয়। পণ্য খালাসের জন্য সরেজমিন তদারকি, প্রিভেন্টিভ কার্যক্রম ও চোরাচালান দমন, রামেজিংয়ের জন্য গভীর সমুদ্রে বিদেশি জাহাজে গমন ও তল্লাশি করতে হয়। অন্যদিকে বিমানবন্দরগুলোয় প্রতিদিন শত শত বিদেশি যাত্রী হ্যান্ডেলিং, যাত্রীসেবা দ্রুতকরণ, শুল্কযোগ্য পণ্য পরীক্ষণ ও শুল্কায়ন এবং চোরাচালান দমনে কাজ করতে হয়। এছাড়া বিমানবন্দরের শত শত জরুরি কার্গো ব্যবস্থাপনা করতে হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/এইচএন