৭ মার্চের ভাষণ প্রকৃত অর্থেই স্বাধীনতার ঘোষণা: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, সোমবার   ১২ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ২৯ ১৪২৭,   ২৮ শা'বান ১৪৪২

৭ মার্চের ভাষণ প্রকৃত অর্থেই স্বাধীনতার ঘোষণা: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:১৩ ৭ মার্চ ২০২১   আপডেট: ২৩:২৪ ৭ মার্চ ২০২১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন- পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন- পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল প্রকৃত অর্থেই স্বাধীনতার ঘোষণা। এতে একদিকে যেমন গেরিলা যুদ্ধের নির্দেশনা, অন্যদিকে জনগণকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতের রণকৌশলও ছিল।

রোববার বিকেলে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন উপলক্ষে সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি গণভবন থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণে ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’ দুইবার এই কথাটা বলেছেন এবং শেষেরবার সব থেকে জোর দিয়ে বলেছেন। অর্থাৎ এটা যে স্বাধীনতা সংগ্রাম বা যুদ্ধটা যে স্বাধীনতা যুদ্ধ হবে তা তিনি স্পষ্ট বলে গেছেন। কাজেই একভাবে বলতে গেলে ৭ মার্চের ভাষণই ছিল প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষণা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ মার্চের ভাষণে বাঙালির অত্যাচার-নির্যাতন ও বঞ্চনার ইতিহাস এবং সব থেকে বড় কথা, এই ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিকে যুদ্ধপ্রস্তুতি নেয়ার সঠিক দিক নির্দেশনা জাতির পিতা দিয়ে গেছেন। কারণ, একটা গেরিলা যুদ্ধ করতে হলে কী কী করতে হবে, কিভাবে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তুলতে হবে, কিভাবে যার যা কিছু রয়েছে তা নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে, সে সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা জানতেন, যে সময়ে তার স্বাধীনতার ঘোষণা অফিশিয়ালি দেয়ার কথা, সে মুহূর্তে তিনি হয়তো বেঁচে নাও থাকতে পারেন। সে কারণেই এই ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্যেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণাটা দিয়ে গিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর থেকে সে সময়ের পূর্ব-পাকিস্তান কীভাবে চলবে জাতির পিতা তার সবদিক নির্দেশনা দিয়েছেন। সব থেকে ঐতিহাসিক ব্যাপার হলো তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তার ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি থেকে যে ঘোষণা দিতেন সে নির্দেশনাতেই দেশ চলতো। অফিস-আদালত থেকে শুরু করে ট্রেজারি চালান সবকিছু বন্ধ, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তখন ওই ৩২ নম্বরে। কেমন ছিল সেই নিয়ন্ত্রণ? এর উদাহরণ হিসেবে তিনি স্মৃতি রোমন্থনে বলেন, সে সময় ইয়াহিয়া খান বাংলাদেশে আসলে কোনো বাবুর্চি বাবুর্চিখানায় কাজ করতে চায়নি। বাধ্য হয়ে তখন প্রেসিডেন্ট হাউজ থেকে টেলিফোন আসে যেন ৩২ নম্বর থেকে বলে দেয়া হয় ‘রান্নাঘরে যেন বাবুর্চিরা কাজ করে।

শেখ হাসিনা বলেন, এ ধরনের অসহযোগ আন্দোলন পৃথিবীতে আর কোথাও হয়েছে বলে আমার জানা নেই। কেননা জাতির পিতা যা যা নির্দেশনা দিয়েছেন তা দেশের মানুষ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা জনগণের ম্যান্ডেট (সমর্থন) পেয়ে জনগণের নেতায় পরিণত হয়েছিলেন এবং তার সব কথাই এ দেশের মানুষ মেনে নিয়েছিলো। যুদ্ধে কে আক্রমণকারী হবে, আর কে আক্রান্ত হবে—সেটা একটা বড় ইস্যু হওয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলেন এবং বাংলাদেশের মানুষ যেন স্বাধীনতা পায়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এই রণকৌশল অবলম্বন করেছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ঠিক যে মুহূর্তে পাকিস্তানি শাসকেরা নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো, সেই মুহূর্তেই তিনি তার স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করা শুরু করিয়েছিলেন। ফলে বাঙালিরা পাকিস্তানিদের দ্বারা আক্রান্ত হবার পরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আন্তর্জাতিক সমর্থন পেতে কোনো বেগ পেতে হয়নি। তখন বিশ্ব জনমত চলে গিয়েছিলো তার পক্ষে।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের বন্ধুপ্রতীম দেশ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছিলাম। জাতির পিতা তার ৭ মার্চের ভাষণে জাতির জন্য শুধু রণকৌশলই দিয়ে যাননি। নিজের জীবনটাকেও উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বলতেন- যা কিছুই হোক, দেশ স্বাধীন হবে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে নয়, যুদ্ধের রণকৌশলেও তার এই বক্তৃতা খুবই কার্যকর এবং বাস্তবমুখী ছিলো।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদের সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব বদরুল আরেফিন স্বাগত বক্তব্য দেন।

জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উদযাপন বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, এমপি, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা, বিভিন্ন দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর