রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা, বুধবার   ১৪ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ২ ১৪২৮,   ০১ রমজান ১৪৪২

রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:০২ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৫:২৮ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন

কোভিড-১৯ এর কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যগত ও আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের গৃহীত ব্যাপকভিত্তিক পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি এ প্রশংসা করেন। 

দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের অভূতপূর্ব সাফল্যের অতীত রেকর্ডের উদাহরণ টেনে মহাসচিব গুতেরেস বলেন, যেকোনো ঝুঁকি নিরসনে বৈশ্বিক নেতৃত্বে বাংলাদেশ সর্বদাই র্শীষস্থানীয়। তাই কোভিড-১৯ এর মোকাবিলায় বাংলাদেশের সাফল্য দেখে আমি মোটেও অবাক হইনি।

আলোচনাকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ মহাসচিব কোভিড-১৯ এর টিকাকে ‘বৈশ্বিক সম্পদ’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে একমত হন।

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদানে বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করে মহাসচিব বলেন, আমাদের লক্ষ্য অভিন্ন, আর তা হলো রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো। সমস্যাটির সমাধানে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে জাতিসংঘ সদা প্রস্তুত রয়েছে।

ভাসানচরে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহাসচিবকে অবহিত করেন এবং সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের মানবিক সহায়তার অনুরোধ জানান।

জলবায়ু কর্মসূচিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জলবায়ু-অর্থায়নকে সচল করতে মহাসচিবের আহ্বানকে স্বাগত জানান। 

জলবায়ু-পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করা তার জীবনের যুদ্ধ বলে অভিহিত করে মহাসচিব বলেন, অভিযোজন কৌশল বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত জলবায়ু তহবিলের ৫০ ভাগ বরাদ্দ পেতে দাতাদের বোঝানোর চেষ্টা করবো। 

উপকূলবর্তী অঞ্চলে ব্যাপক অভিযোজন কর্মসূচি এবং নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপসমূহকে অসাধারণ হিসেবে উল্লেখ করেন গুতেরেস।

উন্নয়ন অংশীদার ও  আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ উত্তরণ পর্ব সময়েও যেন নতুন সহায়তা-ব্যবস্থার আওতায় সদ্য উত্তরিত দেশগুলোকে বিবেচনা করে সেজন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করতে মহাসচিবের দফতরের পূর্ণ সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণ কেবল জিডিপি দ্বারা পরিমাপকৃত কোনো কারিগরি বিষয় নয়, এটি বিবেচনার ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক নাজুক সূচকসমূহেরও ব্যবহার করা যেতে পারে মর্মে মত প্রকাশ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

তিনি বলেন, উত্তরণ কোনো শাস্তি হতে পারে না এটি হতে পারে পুরস্কার।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ