চিহ্নিত মহল ছাত্রসমাজকে বিভ্রান্তের চেষ্টা করছে: শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা, সোমবার   ১২ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ২৯ ১৪২৭,   ২৮ শা'বান ১৪৪২

চিহ্নিত মহল ছাত্রসমাজকে বিভ্রান্তের চেষ্টা করছে: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৫২ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৩:৪৬ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি- ফাইল ফটো

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি- ফাইল ফটো

সবকিছুতে ব্যর্থ হয়ে একটি চিহ্নিত মহল দেশকে অস্থিতিশীল এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ছাত্রসমাজকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

বৃহ্স্পতিবার রাতে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি চিহ্নিত মহলের বারবার অপচেষ্টা চালানো আমরা দেখছি। চিহ্নিত মহলটি কখনো ভাস্কর্যের নামে আন্দোলন করছে, কখনো বিদেশি একটি সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা নানান তথ্য এবং সাজানো নাটক প্রচার করাচ্ছে। সেগুলোর সবকিছুতে বিফল হয়ে এখন আমাদের ছাত্রসমাজকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

তিনি আরো বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের হাতেই আমরা আমাদের ভাষা আন্দোলন পেয়েছি, ভাষার অধিকার পেয়েছি, স্বাধীনতা পেয়েছি, গণতন্ত্রের আন্দোলনে ছাত্রসমাজ অনন্য ভূমিকাও পালন করেছে। আজকে যখন বৈশ্বিক সংকট চলছে, সেই সময়ে শিক্ষাবান্ধব সরকার, বঙ্গবন্ধুকন্যার সরকার পরীক্ষা স্থগিতের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সব উপাচার্যদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা একান্তই মানবিক কারণে সাত কলেজের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম করছি। কারণ তারা তিন বছর পিছিয়ে আছে।

তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে সাত কলেজের পরীক্ষা নেয়ার (যেগুলো চলছিল, যেগুলো ঘোষিত আছে) সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাদের সারাদেশে আছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য মহোদয় এখানে আছেন। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ যে, তারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ সেশনজটমুক্ত করেছেন। সে কারণে আজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, কোনো ধরনের আন্দোলনে যাবেন না এবং তিন মাস পর পরীক্ষা দেবেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ৪৩তম বিসিএসের আবেদনের একটা তারিখ দেয়া আছে। পরীক্ষারও একটা নির্ধারিত তারিখ ছিল। এখানে সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান মহোদয়ও আছেন। ওনাদের সঙ্গেও আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি। ৪৩তম বিসিএসে আবেদনের সময়, পরীক্ষার সময় এবং এই কতদিন পরীক্ষা পেছানোর কারণে কারো যদি বয়সের সমস্যাও দেখা দেয়, সেই সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থাটা সরকার করবে। এই সিদ্ধান্তও আমরা সেদিনই দিয়েছিলাম। কাজেই এ তিন মাস স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য, সার্বিক নিরাপত্তাসহ বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা স্থগিত রাখার বিষয়টি বুঝবেন বলে আমি মনে করি।

তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা বৃহত্তর স্বার্থ বুঝেন, জাতীয় স্বার্থ বুঝেন। তাই সবাই বিষয়টিকে মেনে নেবেন। সাময়িক অসুবিধা হয়তো অনেকেরই হবে। অনেকে টিউশনি করে পড়াশোনা করেন, অনেকে নিজ অর্থায়নে এখন হলের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় মেস ভাড়া করে আছেন, অনেকেই কষ্টে আছেন। আমরা তাদের এই কষ্টগুলো বুঝি।

নানা সীমাবদ্ধতা স্বত্ত্বেও বৃহত্তর স্বার্থে এখন আন্দোলন না করার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধ করে বাংলাদেশ সাফল্য অর্জন করেছে, সেই সাফল্য যেন ম্লান না হয়ে যায়। তাই একটু কষ্ট হলেও সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ