মেয়ে দেশে ফিরলে সৈয়দ আবুল মকসুদের দাফন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১২ ১৪২৭,   ১২ রজব ১৪৪২

মেয়ে দেশে ফিরলে সৈয়দ আবুল মকসুদের দাফন

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৩:৪৩ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

মেয়ে দেশে ফিরলে সৈয়দ আবুল মকসুদের দাফন

মেয়ে দেশে ফিরলে সৈয়দ আবুল মকসুদের দাফন

ভারত থেমে মেয়ে জিহাদ মকসুদ দেশে ফেরার পর বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদের দাফন করা হবে বলে মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নিশ্চিত করেছে পারিবারিক সূত্র। 

এ বিষয়ে সৈয়দ আবুল মকসুদের ছেলে সৈয়দ নাসিফ মকসুদ বলেন, তার বোন বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফিরছেন। তার ফেরার পর সৈয়দ আবুল মকসুদের দাফনসহ অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এদিন বিকেল থেকেই সৈয়দ আবুল মকসুদের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। ওই অবস্থায় তাকে দ্রুত পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি স্ত্রী সুলতানা মকসুদ, ছেলে সৈয়দ নাসিফ মকসুদ ও মেয়ে জিহাদ মকসুদসহ অসংখ্য স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। 

ধানমন্ডির মসজিদে তাকওয়ায় রাত ১০টার দিকে সৈয়দ আবুল মকসুদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

সৈয়দ আবুল মকসুদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো আলাদা শোকবার্তায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। 

সৈয়দ আবুল মকসুদের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান শোক প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া শোক প্রকাশ করেছে বিএনপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), গণফোরাম, বাসদ, গণসংহতি আন্দোলন, ঐক্য ন্যাপ ও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন।

১৯৪৬ সালের ২৩ অক্টোবর মানিকগঞ্জের এলাচিপুরে সৈয়দ আবুল মাহমুদ ও সালেহা বেগম দম্পতির ঘরে জন্ম নেয়া আবুল মকসুদ ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করেন। পরে তিনি তৎকালীন পশ্চিম জার্মানি থেকে সাংবাদিকতা বিষয়ে ডিপ্লোমা করেন।

১৯৬৪ সালে এম আনিসুজ্জামান সম্পাদিত সাপ্তাহিক নবযুগ পত্রিকায় সাংবাদিকতার মাধ্যমে সৈয়দ আবুল মকসুদের কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ বার্তা সংস্থায় যোগ দেন তিনি। ২০০৮ সালের ২ মার্চ বার্তা সংস্থার সম্পাদকীয় বিভাগের চাকরি ছেড়ে দেন। তবে জাতীয় দৈনিকগুলোতে সমাজ, রাজনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি নিয়ে কলাম লেখা চালিয়ে যেতে থাকেন তিনি।

চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আবুল মকসুদের সাহিত্যচর্চা শুরু হয় ষাটের দশকে কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ দিয়ে। জীবনের শেষ পর্যন্ত সৃজনশীলতার এসব ক্ষেত্রে তিনি সরব ছিলেন।

তার উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে—কবিতা: বিকেলবেলা (১৯৮১), দারা শিকোহ ও অন্যান্য কবিতা (১৯৮৭), সৈয়দ আবুল মকসুদের কবিতা (২০১২); প্রবন্ধ: যুদ্ধ ও মানুষের মূর্খতা (১৯৮৮), গান্ধী, নেহেরু ও নোয়াখালী (২০০৮), ঢাকার বুদ্ধদেব বসু (২০১১), রবীন্দ্রনাথের ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন, প্রভৃতি (২০১২); জীবনী: মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানীর জীবন, কর্মকাণ্ড, রাজনীতি ও দর্শন (১৯৮৬), সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর জীবন ও সাহিত্য (২০১১), ভাসানী কাহিনী (২০১৩), স্মৃতিতে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ (২০১৪); ভ্রমণকাহিনি: জার্নাল অব জার্মানি, ভ্রমণ সমগ্র।

ডেইলি বাংলাদেশ/SA