শব্দদূষণ ও বন্যপ্রাণী নিধন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ১৭ ১৪২৭,   ১৭ রজব ১৪৪২

শব্দদূষণ ও বন্যপ্রাণী নিধন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৩৭ ২৭ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১২:৪২ ২৮ জানুয়ারি ২০২১

মো. শাহাব উদ্দিন। ফাইল ছবি

মো. শাহাব উদ্দিন। ফাইল ছবি

সচিবালয়ের চারপাশসহ সারাদেশের শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং হাতিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী নিধন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।

এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চাই উল্লেখ করে মন্ত্রী শব্দদূষণ রোধে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নিতেও নির্দেশনা দেন।

বুধবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-র বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় ভার্চুয়ালি সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সভায় পরিবেশ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, সচিবালয়ের চারপাশ ও আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকায় নীরব এলাকা বাস্তবায়ন করতে অতি শিগগিরই কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হাতি নিধন রোধ বিষয়ে ‘বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও আবাসস্থল উন্নয়ন প্রকল্প’ এর পরিচালক মিহির কুমার দে বলেন, চলমান প্রকল্পে হাতি নিধন রোধ বিষয়ক কোনো কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও বন বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় হাতি নিধন রোধে সচেতনতা মূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যাপক ভিত্তিতে কাজ করার জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে, যা অনুমোদিত হলে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়ক হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পরিবেশ মন্ত্রীর এক প্রশ্নের জবাবে ‘ইন্টিগ্রেটিং কমিউনিটি বেইজড এফরেস্ট্রেশন অ্যান্ড রিফরেস্ট্রেশন’ প্রকল্পের পরিচালক ও মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মাহমুদ হাসান জানান, উপকূলের সর্বাধিক বিপন্ন ৫টি জেলার ৮টি উপজেলায় ১০ হাজার ৫শ’ পরিবারের প্রায় ৬০ হাজার মানুষের জীবিকায়নে জলবায়ু সহিষ্ণু প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসিত হয়েছে।

তিনি জানান, এ প্রকল্পের আওতায় বন বিভাগের মাধ্যমে ৩৬০টি পুকুরে থ্রি এফ মডেল (ফরেস্ট, ফিস, ফ্রুট) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাধ্যমে ৩৪০ পরিবারে জলবায়ু সহনশীল কৃষিকাজ বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া মৎস্য অধিদফতরের মাধ্যমে ৩৪০ পরিবারে জলবায়ু সহনশীল মৎস্য প্রদর্শনী খামার স্থাপন এবং প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মাধ্যমে জীবন-জীবিকার জন্য ২৫শ’ খানায় হাঁস, মুরগি ও টার্কি পালনের ব্যবস্থাসহ একটি করে গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, সচিব জিয়াউল হাসান, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মাহমুদ হাসান, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) আহমদ শামীম আল রাজী, অতিরিক্ত সচিব (জলবায়ু পরিবর্তন) মো. মিজানুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ) মো. মনিরুজ্জামান, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. এ কে এম রফিক আহাম্মদ প্রমুখ অংশ নেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/এইচএন