টাকা আত্মসাৎ করায় চাকরি হারালেন এনবিআর কর্মকর্তা

ঢাকা, শনিবার   ০৬ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২২ ১৪২৭,   ২১ রজব ১৪৪২

টাকা আত্মসাৎ করায় চাকরি হারালেন এনবিআর কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৪:২৬ ২৭ জানুয়ারি ২০২১  

মো. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ (ছবি: সংগৃহীত)

মো. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ (ছবি: সংগৃহীত)

করের টাকা আত্মসাৎ করায় সহকারী কমিশনার মো. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মঙ্গলবার এনবিআর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। 

মেজবাহ উদ্দিন সর্বশেষ খুলনা কর অঞ্চলে সহকারী কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, মেজবাহ উদ্দিন বিভিন্ন কর সার্কেলে কর্মরত থাকাকালে কর পরিশোধের জন্য করদাতাদের দেয়া পে-অর্ডার, ডিডি, চেক সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে অন্য ব্যাংক হিসাবে জমা করেছেন এবং নিজ স্বাক্ষরিত চেকের মাধ্যমে তা তুলে নিয়েছেন। এভাবে তিনি করের মোট তিন কোটি ৫০ লাখ ২৬ হাজার ৯২৯ টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেন। মাগুরা সার্কেলে থাকাকালীন তিনি সোনালী ব্যাংকে কর্মচারীদের বেতন-ভাতার অ্যাকাউন্টে এ রকম কয়েকটি পে-অর্ডার, ডিডি ও চেক জমা করেন। পরে ওই হিসাব থেকে নিজ চেকের মাধ্যমে ৩১ লাখ ৪০ হাজার টাকা তুলে নেন। একইভাবে সোনালী ব্যাংক নোয়াপাড়া শাখা থেকে তিন লাখ আট হাজার, সোনালী ব্যাংকের বাগেরহাট শাখা থেকে দুই কোটি ১০ লাখ, ব্র্যাক ব্যাংকের বাগেরহাট শাখা থেকে চার লাখ ৭০ হাজার, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংকের মোংলার দিগরাজ শাখা থেকে ৩০ লাখ, জনতা ব্যাংকের দিগরাজ শাখা থেকে ২৯ লাখ, জনতা ব্যাংকের কুষ্টিয়া ভেড়ামারা শাখা থেকে ২৯ লাখ টাকা তুলে নেন।

বিষয়টি এনবিআরের তদন্তে প্রমাণিত হয়। পরে এনবিআর অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগ আনে এবং বিভাগীয় মামলা করে তার বিরুদ্ধে। তাকে কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না মর্মে নোটিশ জারি করা হয়। মেজবাহ উদ্দিন নোটিশের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি এবং ব্যক্তিগত শুনানিও চাননি। এনবিআর এ বিষয়ে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মতামত নিয়েছে। সংস্থাটি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার বিষয়ে এনবিআরের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে। গত ২৩ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছেন। এরপর মঙ্গলবার এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করল। এদিন থেকেই এ আদেশ কার্যকর হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম