জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সামগ্রিক পরিকল্পনার আহ্বান

ঢাকা, রোববার   ১৭ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৪ ১৪২৭,   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সামগ্রিক পরিকল্পনার আহ্বান সায়মা’র

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০২:০৩ ২ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৮:১৬ ২ ডিসেম্বর ২০২০

সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। ফাইল ছবি

সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। ফাইল ছবি

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে সামগ্রিক প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন।

গত সোমবার লন্ডনে ‘সিভিএফ-সিওপি ২৬ ডায়লগ: মিটিং দ্য সার্ভাইভাল, ডেডলাইন টুওয়ার্ডস ম্যাক্সিমাল রেসিলিয়েন্স’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানের সময় এ আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশ হাই কমিশন এ আলোচনার আয়োজন করে।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যাডভাইসরি কমিটি অন নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার্স অ্যান্ড অটিজম -এর চেয়ারপার্সন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুটি একটি বড় ধরনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। কিন্তু আমরা যদি ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জীবনযাত্রার দিকে লক্ষ্য করি, তবে দেখতে পাই যে কীভাবে তারা জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট প্রাকৃতিক সংকটের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। কী উপায়ে তারা টিকে আছে, আমরা সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সাহায্য করতে পারি।

তিনি বলেন, আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিরূপ পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এই মানুষগুলোর জীবনযাত্রার দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাই যে, অধিকাংশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো তাদের সবটুকু সামর্থ্য দিয়ে টিকে আছে। আমাদের এই সব মানুষেরা কীভাবে টিকে থাকতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিৎ।

তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বলার সময় আমরা তাপমাত্রা হ্রাস ও গ্রিন হাউস গ্যাস এবং যেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোর ওপর জোর দেই। কিন্তু আমাদের নিজ দেশের মানুষের ঝুঁকিপূর্ণতার ব্যাপারে বলতে গিয়ে আমরা ওই সব মানুষের কথা ভুলে যাই।

সায়মা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অবকাঠামো ধ্বংস হয়। এছাড়া জীবন, জীবিকা ও মানুষের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং ইকো-সিস্টেমও ধ্বংস হয়। এই সবকিছুর প্রভাব পড়ে সেই সব মানুষের ওপর যারা অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ। অধিকন্তু সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাস এবং অক্ষমতা ও স্বাস্থ্যগত কারণে তাদের অবস্থা আরো বিপন্ন হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, চলমান বৈশ্বিক মহামারির কারণে আমরা এই সব বৈশ্বিক সংকটের ভয়াবহতা সম্পর্কে যখন অবগত হচ্ছি, তখন এ বিষয়টি ভালোভাবে উপলব্ধি করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার  একটি সুযোগ। উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে আমরা বুঝতে পারছি যে ‘যতক্ষণ না সবদিক বিবেচনা করে সামগ্রিকভাবে সমস্যাটিকে চিহ্নিত করতে না পারছি, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো ইস্যুই আলাদা নয়।’

তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং আমি মনে করি আলাপ-আলোচনায় আমরা প্রচুর সময় নষ্ট করি। স্বাস্থ্য বলতে আমি শারীরিক ও মানসিক উভয়কেই মনে করি। অধিকন্তু আমরা অক্ষমতার বিষয়টিকে প্রায়ই ভুলে যাই। এটি আমাদের মাথায় থাকে না শারীরিক অক্ষমতা ছাড়াও অনেক মানুষ মানসিকভাবেও প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে পারে।

সায়মা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক অধিকার তুলে ধরতে সিভিএফ’র এর আহ্বানের পক্ষে প্রচারণা চালাতে আমাদের সিওপি২৬-সিভিএফ অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।

ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ)-এর সব সদস্য আলোচনায় যোগ দিয়ে আগামী বছর অনুষ্ঠেয় কোপ-২৬ সম্পর্কে তাদের পরামর্শ ও সুপারিশ ব্যক্ত করেন।

এতে যুক্তরাজ্যের প্রশান্ত মহাসাগর, পরিবেশ ও কোপ-২৬ বিষয়ক মন্ত্রী লর্ড জ্যাক গোল্ডস্মিথ গেস্ট অব অনার হিসেবে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশন-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রফেসর ড. প্যাট্রিক ভার্কুইজেন এবং সিভিএফ এক্সপার্ট অ্যাডভাইসরি গ্রুপ এর চেয়ারম্যান এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর পরিচালক প্রফেসর ড. সলিমুল হক বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম প্রেসিডেন্ট’র বিশেষ দূত আবুল কালাম আজাদ সিভিএফ এর ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। লন্ডনে বাংলাদেশি হাই কমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম ভার্চুয়াল আলোচনা সভার সঞ্চালনা করেন।- বাসস

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/এইচএন