একনেকে তৃতীয় সাবমেরিন প্রকল্প অনুমোদন

ঢাকা, বুধবার   ২০ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৬ ১৪২৭,   ০৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

একনেকে তৃতীয় সাবমেরিন প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১৩ ১ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ২০:০৩ ১ ডিসেম্বর ২০২০

দেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপিত হবে ৬৯৩ কোটি টাকায়। ফাইল ছবি

দেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপিত হবে ৬৯৩ কোটি টাকায়। ফাইল ছবি

উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে তৃতীয় সাবমেরিন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক)। 

একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সভায় ৬৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-সচিবরা একনেক সভায় অংশ নেন। 

তৃতীয় সাবমেরিন প্রকল্পের বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশব্যাপী আধুনিক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানসহ বর্ধিষ্ণু চাহিদা পূরণে বিএসসিসিএল’র সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হতে কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশন হতে গভীর সমুদ্রের মূল লাইনের দূরত্ব হবে ১ হাজার ৮৫০ কিলোমিটার। এ সংযোগের জন্য খরচ হবে ৬৯৩ কোটি টাকা, যার ৮৯ শতাংশ খরচ হবে শুধু ক্যাবল বাবদ। এর মধ্যে প্রায় ৩০১ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেয়া হবে। বাকি ৩৯২ কোটি টাকার জোগান দেবে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কোম্পানি বিএসসিসিএল। 

আরো পড়ুন: দেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপিত হবে ৬৯৩ কোটি টাকায়

এ ক্যাবলের সক্ষমতা হবে ১০ হাজার জিবিপিএস। এর ব্যান্ডউইথ ক্যাবলের দুই প্রান্ত থেকে আসবে। কক্সবাজারের ল্যান্ডিং স্টেশনে সিঙ্গাপুর প্রান্ত থেকে ৫ হাজার এবং ফ্রান্স প্রান্ত থেকে ৫ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ আসবে বলে জানা গেছে। 

একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দুই হাজার ১১৫ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ৪টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন এক হাজার ৪৪০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩০০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ ৩৭৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। 

সভায় অনুমোদন পাওয়া বাকি প্রকল্পগুলো হলো- পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘নরসিংদী জেলার অন্তর্ভুক্ত আড়িয়াল খাঁ নদী, হাড়িদোয়া নদী, ব্রহ্মপুত্র নদ, পাহাড়িয়া নদী, মেঘনা শাখা নদী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র শাখা নদ পুনঃখনন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ‘ডিজিটাল সংযোগের জন্য টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘মিউনিসিপ্যাল গভারন্যান্স অ্যান্ড সার্ভিসেস (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প। 

সভার কার্যক্রমে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক অংশগ্রহণ করেন। 

সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে/এইচএন/AN/আরএইচ