যুবককে পেতে তার প্রেমিকাকে হত্যা করলেন হিজড়া

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৬ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১২ ১৪২৭,   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২

যুবককে পেতে তার প্রেমিকাকে হত্যা করলেন হিজড়া

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:১১ ২২ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৯:৫৯ ২২ নভেম্বর ২০২০

পাপিয়া হত্যায় গ্রেফতারকৃতরা

পাপিয়া হত্যায় গ্রেফতারকৃতরা

আরিফুল নামে এক যুবককে পেতে তার প্রেমিকা পাপিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন সাম্মি নামে এক হিজড়া। পাপিয়া ও সাম্মি একই মায়ের সন্তান। তাদের বাবার নাম জয়নাল।

হত্যার কথা স্বীকার করে শনিবার (২১ নভেম্বর) আরিফুল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। সে জানায়, পাপিয়াকে হত্যা করেছে সাম্মি। রোববার (২২ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ পিবিআইয়ের এসপি মনিরুল ইসলাম এ তথ্য জানান। এর আগে বুধবার (১৮ নভেম্বর) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরিফুলকে গ্রেফতার করে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই জানায়, আরিফুলের সঙ্গে পাপিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এই সম্পর্ক সাম্মি (হিজড়া) মেনে নিতে পারেনি। সাম্মি চাইতো আরিফুল তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলুক। বিষয়টি পাপিয়া জানতে পারলে দুজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। গত ২৭ মে আসামি আরিফুল, পাপিয়া এবং সাম্মি সবাই পাপিয়ার বাসায় ছিল।

দুজনের ঝগড়ার কারণে আরিফুল বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে চাইলে বৃষ্টির কারণে যেতে না পারায় তার পরিচিত একজনের বিল্ডিংয়ের ২য় তলায় অবস্থান করে। কিছুক্ষণ পর পুনরায় আরিফুল পাপিয়ার ঘরে এসে তার লাশ ঘরের বিছানার উপর দেখতে পায়। এ সময় তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল এবং সাম্মি ঘর থেকে বের হয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। আরিফুল ঘরের ভেতরে চলে আসায় সাম্মি আরিফুলকে বলে যে, পাপিয়া বেঁচে আছে। পরে তারা একজন স্থানীয় ডাক্তারকে ডেকে এনে জানতে পারে পাপিয়া মারা গেছে।

সাম্মির মাধ্যমে তার বাবা জয়নাল, পাপিয়ার মৃত্যুর খবর জানতে পেরে ঘটনাস্থলে আসে। পরে পাপিয়ার বাবা জয়নালের পরিকল্পনামতে আরিফুল ইসলাম, জয়নালের ছেলে মামুন এবং সাম্মি মিলে পাপিয়ার লাশ ভৈরব ব্রিজ থেকে নদীতে ফেলে দেয়ার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনামতে তারা সবাই মিলে একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে পাপিয়ার লাশ অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নিয়ে রওনা হয়। কিন্তু পথে পুলিশের চেক পোস্ট থাকায় তারা আড়াইহাজারের শিমুলতলায় রাস্তার পাশে জঙ্গলের ভেতরে পাপিয়ার লাশ ফেলে রেখে চলে যায়।

গত ২৮ মে আড়াইহাজারের শিমুলতলায় পুলিশ এক  যুবতীর লাশ পেলে পুলিশ বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় ২৯ মে একটি মামলা করে। প্রথমে মামলাটি পুলিশের কাছে তদন্তনাধীন থাকলেও পর ২৩ জুলাই পিবিআইয়ের কাছে মামলাটি হস্তান্তর করা হলে তারা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে।

আড়াইহাজার থানার শিমুলতলায় পাওয়া যুবতীর লাশের আঙ্গুলের ছাপের মাধ্যমে তার পরিচয় সনাক্ত করে পিবিআই।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ