রায়পুরে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৬ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১২ ১৪২৭,   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২

রায়পুরে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০২ ২২ নভেম্বর ২০২০  

কিশোর গ্যাং (প্রতীকী ছবি)

কিশোর গ্যাং (প্রতীকী ছবি)

লক্ষ্মীপুরের প্রান্তিক জনপদ রায়পুরে সম্প্রতি কিশোর অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকার পাড়ায় পাড়ায় চলছে কিশোর অপরাধীদের দাপট। মোটরসাইকেল স্টান্ট, বখাটেপনা, যত্রতত্র বিপজ্জনক ঘোরাঘুরি, এমনকি ছিনতাইয়ে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে উঠতি বয়সী এসব তরুণ ও যুবকরা। তাদের নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে থানা পুলিশ। এসব অপরাধীদের অনেকে আবার মাদকাসক্ত। অস্ত্র ও মাদক ব্যবসাতেও আছে তাদের পদচারণা।

সম্প্রতি তাদের একটি গ্রুপ কর্তৃক এক যুবককে পিটিয়ে জখম ও মেয়েদের উত্ত্যক্তের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও সচেতন মহল। বিভিন্ন এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী পরিবারের বখে যাওয়া কিশোর ও তরুণদের নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়ে আসছে এসব গ্যাং। তাদের দমনে পুলিশ তৎপর হলেও সংশ্লিষ্টদের পরিবার রাজনৈতিক এবং সামাজিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় অনেক সময় তাদের দমনে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভব হয় না। 

সরেজমিন অনুসন্ধানে রায়পুর উপজেলায় বেশ ক’টি কিশোর গ্যাংয়ের খোঁজ পাওয়া গেছে। শহরসহ ইউনিয়নগুলোর বিভিন্ন এলাকায় তৎপর রয়েছে কিশোর গ্যাং। 

পৌরসভার রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতার নির্দশনায় পৃথক গ্যাং, দক্ষিণ রবংশী ইউপির মোল্লারহাটে তিন নেতার তত্ত্বাবধানে আখনবাজারে একটি গ্রুপ, উত্তর চরবংশী ইউপির খাসেরহাট বাজার, বেড়িবাঁধের উপর, উত্তর চরআবাবিল ইউপির উদমারা এলাকা, মিতালী বাজার, হায়দরগঞ্জ বাজারের কয়েকটি স্থানে, ক্যাম্পের হাট-বাজার, ঝাউডুগি এলাকা, চরমোহনা ইউপির স্টিল ব্রিজ এলাকা, সোনাপুর ইউপির রাখালিয়া বাজারের কয়েকটি স্থান, বাসাবাড়ী বাজার এলাকা, বামনী ইউপির বাংলাবাজার ও কাফিলাতুলি বাজার, চরপাতা ইউপির বোয়াডার বাজার, গাজিনগর এলাকা, কেরোয়া ইউপির মীরগঞ্জ বাজার, পানপাড়া বাজারে, জোড়পুল এলাকা, সুনামগঞ্জ বাজার, ওয়াইজ্জার পুল, রায়পুর ইউপির সোলাখালী ব্রিজ এলাকা ও চালতাতুলি এলাকায় ১৫-২০ জন গ্রুপের কিশোর গ্যাংয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে। 

জানা গেছে, উপজেলাব্যাপী দাপিয়ে বেড়ানো এসব কিশোর গ্যাংয়ের সংগ্রহে রয়েছে বেশকিছু মোটরসাইকেল। এছাড়া ধারাল দেশীয় অস্ত্র, লেজার নিয়ন্ত্রিত ইন্ডিয়ান চাকু ব্যবহার করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষুদ্রাকৃতির এসব মরণাস্ত্র দিয়ে তারা ছিনতাইসহ মারামারি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে থাকে। যত্রতত্র রাজপথে দাপিয়ে বেড়ানো, মহড়া দিয়ে ভয় দেখানো, সিনিয়র সিটিজেনদের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ, মাদক গ্রহণ, মদ্যপ অবস্থায় মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, এসবের কারণে অনেক এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। এছাড়া করোনার কারণে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠাগুলো বন্ধ থাকায় এসব কিশোর ও যুবকরা বিপথে পা বাড়িয়েছে বলে সচেতন মহল দাবি করেছে।

সম্প্রতি বামনী ইউপির বাংলাবাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে তরুণ ব্যবসায়ী জাকারিয়া নির্মমভাবে জখম হন। এ ঘটনার কয়েক মাস আগে সাগর্দি গ্রামে এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের ঘটনায় হামলা ও মামলা হয়। তারপর থেকে নড়েচড়ে বসে থানা পুলিশ। মূলত এ ঘটনার পর থেকেই প্রকাশ্যে আসে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। 

এ ব্যাপারে রায়পুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু বলেন, মাদক, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধ রোধে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি দরকার। পাশাপাশি প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক প্রশ্রয় বন্ধ করা প্রয়োজন। এছাড়া কোনো শিক্ষার্থী তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না গেলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অভিভাবককে অবহিত করতে হবে। অভিভাবকের উচিত ছেলেরা কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেলামেশা করে তার খোঁজ-খবর নেয়া।

ইউএনও সাবরিন চৌধুরী বলেন, প্রশাসন অপরাধীদের দমন করবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে এসব অপকর্ম রোধে সর্বাগ্রে পরিবার তথা অভিভাবকদের মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে। যে পরিবারে শুদ্ধাচারের অনুশীলন রয়েছে সেখানে কেউই বখাটে হতে পারে না। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও এসব প্রতিরোধে সহায়ক।

রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল বলেন, অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের বিষয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্ধ্যার পর তার সন্তানরা কোথায় আছে তা খোঁজ রাখতে হবে। সন্ত্রাস, মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রতিটি সভার মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম