ক্রিকেটের বাইরে রবি শাস্ত্রীর যত নারীঘটিত কান্ড

ঢাকা, বুধবার   ২৫ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১১ ১৪২৭,   ০৮ রবিউস সানি ১৪৪২

ক্রিকেটের বাইরে রবি শাস্ত্রীর যত নারীঘটিত কান্ড

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২১ ২২ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৬:৩২ ২২ নভেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় ক্রিকেট দলের বর্তমান কোচ রবি শাস্ত্রী অভিষেক টেস্টে ব্যাট করেছিলেন ১০ নম্বরে। দেড় বছরের মধ্যে উঠে এসেছিলেন ওপেনারের জায়গায়। ভারতীয় দলে এক থেকে ১০ নম্বর, সব পজিশনে ব্যাট করেছেন তিনি। নিয়মশৃঙ্খলার তুলনায় বরাবরই রঙিন এবং বিতর্কিত জীবনের জন্যই বেশি পরিচিত হয়েছেন রবিশঙ্কর জয়দ্রথ শাস্ত্রী।

স্কুলজীবন থেকেই রবি শাস্ত্রী ছিলেন দলের নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার। আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতায় তার কারণে বহু বার শিরোপা পেয়েছে তখনকার বোম্বের (বর্তমান মুম্বাই) ডন বস্কো হাই স্কুল। ১৭ বছর ২৯২ দিনে বোম্বের রঞ্জি দলে সুযোগ পেয়েছিলেন শাস্ত্রী। অনেক দিন পর্যন্ত সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে এই রেকর্ড তার অধীনে ছিল।

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, শাস্ত্রী ভারতের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের মধ্যে অন্যতম। ব্যাটিং-বোলিংয়ের পাশাপাশি তার ক্ষিপ্রগতির ফিল্ডিং ছিল দলের বড় ভরসা। জাতীয় দলের দরজা তার জন্য খুলে যায় ১৯৮১ সালে। সে বছর ফেব্রুয়ারি মাসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট খেলেন তিনি। ওয়ানডে ম্যাচে আত্মপ্রকাশও সে বছরই। প্রথম প্রতিপক্ষ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

রবি শাস্ত্রীক্যারিয়ারের শুরুতে শাস্ত্রী ছিলেন শুধুমাত্র বাঁ হাতি স্পিনার। তারপর ক্রমাগত খেলার ধরন পাল্টে নিজেকে তুলে ধরেন অলরাউন্ডার হিসেবে। তার আস্তিনে লুকিয়ে রাখা বিভিন্ন শটের মধ্যে সবথেকে অভিনব ছিল ‘চাপাটি শট’। তবে স্পিনারদের বিরুদ্ধে মারকুটে শাস্ত্রীই আবার ফাস্ট বোলারদের মুখোমুখি হয়ে কিছুটা গুটিয়ে যেতেন।

হাঁটুতে চোটের জন্য মাত্র ৩১ বছর বয়সে অবসর নিতে বাধ্য হন শাস্ত্রী। এক দশক পেরিয়ে যাওয়া ক্যারিয়ারে ৮০ টেস্ট খেলে মোট ৩,৮৩০ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। সর্বোচ্চ স্কোর ২০৬। এছাড়া ১৫০টি ওয়ানডে-তে রান করেছেন ৩১০৮। সর্বোচ্চ ১০৯। মোট উইকেট শিকার করেছেন ১২৯টি।

অবসরের পরে শাস্ত্রী যেন ক্রিকেটের সঙ্গে আরো বেশি জড়িয়ে পড়েন। কার্যত নতুন ইনিংস শুরু হয় তার জীবনে। ধারাভাষ্যকার হিসেবে দীর্ঘদিন তাকে পেয়েছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। এরপর ধারাভাষ্য থেকে সরে এসে ২০১৪ সালে ডিরেক্টর হিসেবে জাতীয় দলের দায়িত্ব পান তিনি।

বোর্ড ডিরেক্টর থাকার সময় শাস্ত্রী২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ পর্যন্ত ডিরেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন শাস্ত্রী। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে তিনি নিযুক্ত হন জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে। সঞ্জয় বাঙ্গার এবং অনিল কুম্বলের সংক্ষিপ্ত মেয়াদের পরে ২০১৯ সালে শাস্ত্রী আবার নতুন করে এই পদ পান। আপাতত ২০২১ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে রয়েছেন।

কোচের দায়িত্বে শাস্ত্রীর আসা-যাওয়ার সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাম্প্রতিক বিতর্ক। বিভিন্ন মহলের ধারণা, বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলীর সঙ্গে রবি শাস্ত্রীর শীতল সম্পর্কের সঙ্গে এই বিতর্ক জড়িয়ে আছে।

মনে করা হয়, সৌরভের অপছন্দের কারণেই কোচের পদ থেকে খারিজ হয়ে গিয়েছিলেন রবি শাস্ত্রী। দায়িত্ব পেয়েছিলেন অনিল কুম্বলে। কিন্তু অধিনায়ক বিরাট কোহালির সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন কুম্বলে। কোহালির বিরাগভাজন হয়ে ইস্তফা দিতে হয় কুম্বলেকে। আবার দায়িত্বে আসেন রবি শাস্ত্রী।

অমৃতা সিংয়ের সঙ্গে শাস্ত্রীতবে পরে শাস্ত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি কোনরকম তিক্ততা মনে রাখতে চান না। তার সাম্প্রতিক টুইটবার্তা অবশ্য সে কথা বলছে না। চলতি বছর করোনা মহামারির আবহে আইপিএল প্রথম থেকেই ছিল অনিশ্চিত। 

শেষ অবধি মরুশহরে চোখ ধাঁধাঁনো আইপিএল সুসম্পন্ন হয়। এর নেপথ্য কারিগর হিসেবে বিসিসিআই-এর সেক্রেটারি জয় শাহ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সিইও হেমাঙ্গ আমিনকে ধন্যবাদ জানান শাস্ত্রী। কিন্তু এক বারের জন্যেও তিনি বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলীর নাম উল্লেখ করেননি। 

ব্যক্তিগত পরিসরেও বার বার বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন শাস্ত্রী। আশির দশকে অভিনেত্রী অমৃতা সিং এবং রবি শাস্ত্রীর জুটি ছিল গুঞ্জনের শীর্ষে। নিউ ইয়র্কের রেস্তোরাঁতেও দু’জনকে নিভৃত মুহূর্তে দেখা গিয়েছিল। শোনা গিয়েছিল, বিয়ে করতে চলেছেন দুই তারকা।

সিনে পত্রিকার প্রচ্ছদের ফটোশ্যুটে শাস্ত্রী ও অমৃতাগুঞ্জন আরো তীব্র হয়েছিল বিখ্যাত সিনে পত্রিকার প্রচ্ছদের দু’জনের অন্তরঙ্গ ফটোশ্যুটে। কিন্তু সব জল্পনা কল্পনার ফানুস চুপসে যায় দ্রুত। ভেঙে যায় তাদের প্রেম। এক সাক্ষাৎকারে রবি শাস্ত্রী জানান, তিনি বলিউডের কোনো নায়িকাকে বিয়ে করতে চান না। তার স্ত্রী হবেন গৃহবধূ।

অন্যদিকে ক্যারিয়ারের শুরুতেই গৃহবধূ হতে রাজি ছিলেন না অমৃতা। তিনি বলেছিলেন, আরো বছর দু’য়েক পরে হয়তো অভিনয় ছাড়ার কথা ভাবতে পারেন। কিন্তু সে সময় ক্যারিয়ার ছাড়ার জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না।

রবি শাস্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পরে ১৯৯১ সালে সাইফ আলি খানকে বিয়ে করেন অমৃতা। তাদের ১৩ বছরের দাম্পত্য ভেঙে যায় ২০০৪ সালে। অমৃতার বিয়ের আগের বছর সাতপাকে বাঁধা পড়েছিলেন শাস্ত্রীও। বিয়ে করেছিলেন ঋতুকে।

নিমরত কউরের সঙ্গে রবি শাস্ত্রীশাস্ত্রীর বিতর্কিত দাম্পত্য বার বার খবরের শিরোনামে এসেছে। বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যমে এটাও প্রকাশিত হয়েছে যে রবি এবং তার স্ত্রী ঋতু আলাদা থাকছেন। পরে তাদের ডিভোর্স নিয়েও গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল।

বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে শোনা গিয়েছিল, আরেক অভিনেত্রী নিমরত কউরের সঙ্গে রবি শাস্ত্রীর সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৮ সালে তাদের গোপন প্রেম নিয়ে বেশ কিছু জায়গায় খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

রবি শাস্ত্রীর সঙ্গে একটি গাড়ির প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিমরতের আলাপ হয়েছিল। নিমরত পরে শাস্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই প্রসঙ্গে তিনি তীব্র অসন্তোষও প্রকাশ করেন।

রবি শাস্ত্রীডিভোর্সের কথা অস্বীকার করেন শাস্ত্রীও। তার অভিযোগ, সংবাদ মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন খবর প্রচার করা হয়েছে। তিনি এ কথাও জানান, তার স্ত্রীও বিরক্ত এই রটনায়। তাকেও নানা রকম প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বর্তমানে সুখেই আছেন শাস্ত্রী-ঋতু দম্পতি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল