জানা গেল প্লাস্টিকের ড্রামে পাওয়া লাশের পরিচয়

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১০ ১৪২৭,   ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২

জানা গেল প্লাস্টিকের ড্রামে পাওয়া লাশের পরিচয়

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৫৬ ২২ নভেম্বর ২০২০  

হত্যার পর ড্রামে ভরে বাসে ওঠানো হয় সাবিনার লাশ

হত্যার পর ড্রামে ভরে বাসে ওঠানো হয় সাবিনার লাশ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা বাসট্যান্ডে ড্রামের ভেতর পাওয়া লাশের পরিচয় জানা গেছে। লাশটি সাবিনা ইয়াসমিন নামে এক নারীর। তিনি মুলাদী উপজেলার নাজিরপুরের সাহেব আলীর মেয়ে ও গৌরনদীর দিয়াসুর এলাকার প্রবাসী শহিদুল ইসলাম হাওলাদারের স্ত্রী।

জানা গেছে, স্বামী কাতারে থাকায় সাবিনা ইয়াসমিন তিন সন্তান নিয়ে নারায়গঞ্জের ফতুল্লায় বসবাস করতেন। লাশটি শনাক্ত করেন নিহতের দেবর মনির হাওলাদার।

তিনি জানান, শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জ থেকে সন্তানদের নিয়ে গৌরনদীতে আসেন সাবিনা। সকাল ১০টার দিকে মোবাইলে কারো সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এরপর সন্তানদের রেখেই বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। সেই থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

শুক্রবার রাতে গৌরনদীর ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ডে অভ্যন্তরীণ রুটের পিএস ক্লাসিক পরিবহন নামে একটি বাসে ড্রামের ভেতর বোরকা পরা নারীর লাশ পাওয়া যায়। এর আগেই বাস থেকে পালিয়ে যান ড্রামের সঙ্গে থাকা এক পুরুষ। শনিবার বিকেলে লাশের পরিচয় শনাক্ত ও নিহতের দেবরের সন্ধান পায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, নিহতের স্বামী শহিদুল হাওলাদারের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রায় ১০ মাস আগে চার লাখ টাকা দেয় গৌরনদীর মাহিলাড়া এলাকার খালেক হাওলাদার। এর মধ্যে করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেয়ায় সে বিদেশে যেতে অসম্মতি জানায়। এ কারণে সাবিনা তাকে দেড় লাখ টাকা ফেরত দেন। শুক্রবার সকালে তাকে মোবাইলে ডেকে নেন খালেক হাওলাদার। ওই রাতে তার লাশ পাওয়া যায়।

গৌরনদী থানার ওসি আফজাল হোসেন জানান, ধারালো কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করে সাবিনাকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে লাশ গুম করার জন্য বাসে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। লাশ উদ্ধারের পর মর্গ থেকে তার আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেয়া হচ্ছে। শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর