চাকরির অপেক্ষায় বসে না থেকে উদ্যোক্তা হচ্ছেন নারীরা

ঢাকা, বুধবার   ২৫ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১১ ১৪২৭,   ০৮ রবিউস সানি ১৪৪২

চাকরির অপেক্ষায় বসে না থেকে উদ্যোক্তা হচ্ছেন নারীরা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০০:৪৩ ২২ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ২০:৪৮ ২২ নভেম্বর ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

করোনাকালে যেখানে ব্যবসা বাণিজ্যে মন্দাভাব, সেখানে ময়মনসিংহে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন নারী উদ্যোক্তা। চাকরির অপেক্ষায় না থেকে, ব্যবসায় নেমেছেন তারা।

এসব উদ্যোক্তারা অনলাইনে বিক্রি করছেন ঘরে তৈরি নানান খাবার ও পণ্য। চলমান সময়ে বাড়ছে বেচা-বিক্রি। তাদের দেখে উৎসাহিত হয়ে অনলাইন ব্যবসায় আসছেন নতুন নতুন নারী উদ্যোক্তা।

মাস ছয়েক আগে নিজের বাড়ির সামনের গাছের আমের আচার দিয়ে অনলাইন কেন্দ্রিক ব্যবসায় আসেন ময়মনসিংহ শহরের অনি ওয়াহিদ। অনি'স কিচেন নামে ফেসবুকে পেজ খুলে শুরু হয় বেচা-বিক্রি। শুরুতে ৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন তিনি। এরপর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তার। তার ফেসবুক পেজে যোগ হচ্ছে নিত্য-নতুন পণ্য।

তিনি জানান, অনলাইনে ব্যবসা নারীদের জন্য সহজ ও নিরাপদ। আর করোনার সময়ে ঘরে বসেই এসব করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই খাতে অনেকে আগ্রহী হচ্ছে। তাদের প্রশিক্ষণ ও পুঁজির ব্যবস্থা হলে উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি হবে অনেকের কর্মসংস্থান।

ময়মনসিংহ নগরীর কাচিঝুলি এলাকার তরুণী জান্নাতুল নাঈম রাত্রি। আনন্দ মোহন কলেজে মাস্টার্সে পড়াশোনা করছেন তিনি। পুঁতি দিয়ে তৈরি করতে পারেন সুন্দর সুন্দর মালা-গহনা। শুরুতে ১১৭ টাকা বিনিয়োগে একটি পুঁতির মালা দিয়ে অনলাইন ব্যবসায় নাম লিখিয়ে গত সাত মাসে তার আয় ৫০ হাজার টাকা।


 
নিজের চুলের যত্ন নিতে হাতে তৈরি তেল ব্যবহার করেন ইন্দিরা পাড়ার নাজনীন আরা মেঘলা। সম্প্রতি সেই তেল দিয়েই শুরু করেন অনলাইন ব্যবসা। ম্যাজিক হেয়ারওয়েল নামে এই তেল তৈরি করে তার অনলাইন ব্যবসা ২৫০ টাকা দিয়ে শুরু করলেও গত ৯ মাসে তিনি আয় করেছেন ৫ লাখ টাকা।

কাশর এলাকার গৃহিণী মারিয়া রাদিয়াতুল রহমান। বিয়ের ৫ বছর পর অনুভব করেন নিজের কিছু একটা করা দরকার। শ্বশুরবাড়িতে তার সুনাম ভালো রাঁধুনী হিসেবে। তাই ঠিক করেন রান্নাবান্নার গুণ কাজে লাগানো যায় কীভাবে। ছয়মাস আগে অনলাইনে ফ্রেস কিচেন নামে একটি পেজ খোলেন তিনি। গরুর মাংসের তেহারী দিয়ে যাত্রা শুরু তার। বর্তমানে গড়ে দিনে পাঁচ হাজার টাকার তেহারী বিক্রি করেন তিনি।

দ্রুত এক্সপ্রেসের মালিক মুফতি মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ স্থানীয় একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করার পাশাপাশি অনলাইনে কাজ করছেন। তিনি জানান, ময়মনসিংহে মারিয়া রাদিয়াতুল রহমানের মতো ২৫ জন নারী উদ্যোক্তাদের পণ্যের ডেলিভারির কাজ করছেন। আটজন যুবককে দিয়ে সাইকেলে অনলাইনে অর্ডার করা পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন গ্রাহকদের কাছে। 

করোনাকালে ময়মনসিংহের অন্য একজন নারী উদ্যোক্তার নাম ফারজানা তাসমিম। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স পাশ করে গৃহিণী হিসেবেই চলছিল জীবন। সেলাই ও তুলির কাজ ভালো জানেন। এক মাস আগে সভ্যতার ছোঁয়া কালেকশন নামে একটি পেজ খুলে শুরু করেন অনলাইন বিজনেস।  ধীরে ধীরে বিক্রি বাড়তে থাকে তার। 

তিনি বলেন, স্বল্প সুদে বা বিনা সুদে ঋণ পাওয়া গেলে অনেক উদ্যোক্তা তৈরি হবে। নিত্য পণ্য অনলাইনে বেচা-বিক্রি হচ্ছে বেশি। তাই চাহিদা রয়েছে, এখন প্রয়োজন উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসা। 

লা লেডিসের স্বত্বাধিকারী ফাতেমা ইয়াসমিন বলেন, অনেকে চিন্তা করছেন অনলাইন ব্যবসা করবেন। তবে তারা শঙ্কায় ভুগছেন। তাদের বলবো বেশি পুঁজি নিয়ে নামার দরকার নেই। অল্পতেই শুরু করে দিন। পরিশ্রম করলে এখানে সফলতা আসবেই।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব উদ্যোক্তাদের জন্য কী করা হচ্ছে এমন প্রশ্ন ছিল ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমানের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসায় নারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় কাজ করছেন তারা। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে তাদের কাজে সহায়তা করার জন্য যেসব নারী উদ্যোক্তা মফস্বলে থাকেন সেখানকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সংযুক্ত করে দিচ্ছি। যাতে তারা তাদের সমস্যাগুলো সহজে সমাধান করতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/এইচএন/আরএম