গাছে গাছে পাখির বাসা, পাঁচ বাগানমালিককে সরকার দিচ্ছে বাসা ভাড়ার টাকা

ঢাকা, সোমবার   ৩০ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৭ ১৪২৭,   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

গাছে গাছে পাখির বাসা, পাঁচ বাগানমালিককে সরকার দিচ্ছে বাসা ভাড়ার টাকা

রাজশাহী প্রতিনিধি     ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২৯ ২১ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ২০:৫০ ২২ নভেম্বর ২০২০

শনিবার সকালে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ওই এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন আমবাগানে পাখির বাসা পরিদর্শন করেন

শনিবার সকালে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ওই এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন আমবাগানে পাখির বাসা পরিদর্শন করেন

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামে আমবাগানে পাখির বাসা ভাড়ার জন্য টাকা দেয়া হয়েছে। শনিবার সকালে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ওই এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন আমবাগান পরিদর্শন করেন। সেখানে যেসব গাছে পাখির বাসা রয়েছে ও বাচ্চা ফুটেছে ওইসব বাগানমালিককে অর্থ বরাদ্দের কথা জানান তারা। মোট পাঁচজন বাগানমালিককে পাখির বাসার জন্য ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা দেয়া হচ্ছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১ নভেম্বর পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে বন অধিদফতরকে খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের আমবাগানে শামুকখোল পাখির বাসার জন্য আমচাষিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

যে পাঁচজন বাগানমালিক এ বরাদ্দ পাচ্ছেন তারা হলেন-খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের মঞ্জুর রহমান, সানার উদ্দিন, সাহাদত হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও ফারুক আনোয়ার।

আমবাগান পরিদর্শন করেন প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল ঢাকার বন সংরক্ষক মিহির কুমার, রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) জিল্লুর রহমান, রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মেহেদীজ্জামান, বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রাহাত হোসেন, ওয়াইল্ড লাইফ রেঞ্জার হেলিম রায়হান ও বন্য প্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবীর।

এ সময় তারা বাগানমালিক ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

কর্মকর্তারা জানান, অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই স্থানীয় ইউএনও’র মাধ্যমে আমবাগানের মালিকদের কাছে এ টাকা পৌঁছে দেয়া হবে।

বেশ কয়েক বছর ধরে বর্ষাকালের শেষে শামুকখোল পাখিরা বাচ্চা ফোটানোর আগে খোর্দ্দ বাউসার এই আমবাগানে বাসা বাঁধে। গত বছর অক্টোবরের শেষে পাখিরা বাচ্চা ফোটানোর পর আমবাগানের ইজারাদাররা বাগানের পরিচর্যা করার জন্যে  পাখির  বাসা ভেঙে আমগাছ খালি করতে চান। একটি গাছের কিছু বাসা ভেঙেও  দিয়েছলেন তারা। এমতাবস্থায় স্থানীয় পাখিপ্রেমী কিছু মানুষ তাদের বাসা না ভাঙার জন্য অনুরোধ করলে ইজারাদাররা পাখিদের সরিয়ে দেয়ার জন্য ১৫ দিন সময় বেঁধে দেন। এমনকি ১৫ দিনের মধ্যে বাসা না ছাড়লে পাখিদের বাসা ভেঙে দেয়ার ঘোষণা দেন।এ বিষয়ে একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি আদালতের নজরে এনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার আর্জি জানান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রজ্ঞা পারমিতা রায়। আদালত স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ এক আদেশে কেন ওই এলাকাকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চান।

এ বিষয়ে একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিষয়টি আদালতের নজরে এনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার আর্জি জানান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রজ্ঞা পারমিতা রায়। আদালত স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ এক আদেশে বলেন, কেন ওই এলাকাকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

ঘোষিত আদেশে বলা হয়েছে, এলাকাটি অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হলে বাগানমালিক ও বাগানের ইজারাদারের ক্ষতির সম্ভাব্য পরিমাণ নিরূপণ করে ৪০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ নিয়ে জেলা প্রশাসন থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সদস্যরা পাখির বাসার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮টি আমগাছ চিহ্নিত করেন। তারা ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করেন। তাদের বিভিন্ন প্রস্তাবের মধ্যে ছিল পাখি থাকা সাপেক্ষে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। কারণ পাখিরা সব সময় একই জায়গায় বাসা বাঁধে না; এক স্থানে কয়েক বছর বাস করার পর নতুন জায়গায় চলে যায়। প্রস্তাবনার মধ্যে পাখির বিষ্ঠায় স্থানীয় মানুষের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে নজর রাখতে বলা হয়। এছাড়া পাখির অসুস্থতার ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিতে এবং সর্বোপরি পাখি সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় লোকজনের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করতে বলা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/এইচএন