সেলসম্যান মনির থেকে যেভাবে তিনি গোল্ডেন মনির

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১০ ১৪২৭,   ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২

সেলসম্যান মনির থেকে যেভাবে তিনি গোল্ডেন মনির

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০০ ২১ নভেম্বর ২০২০  

র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার গোল্ডেন মনির- ফাইল ছবি।

র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার গোল্ডেন মনির- ফাইল ছবি।

কাপড়ের দোকানের একজন সেলসম্যান থেকে কোটি কোটি টাকা মালিক হয়েছেন মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনির। তার নিজের রয়েছে দুটি প্রাডো গাড়ি। এরই মধ্যে রাজধানীর আনাচে-কানাচে থাকা অনেক প্লটের মালিক তিনি।সময়ের ব্যবধানে তার আর্থিক অবস্থার বদল হয়। এমনকি সেলসম্যান মনিরের নামও বদলে হয়ে যায় গোল্ডেন মনির।

মনির হোসেনের নাম বিবর্তনের ব্যাপারে র‌্যাবের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, নব্বইয়ের দশকে গাউছিয়া মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানের সেলসম্যান ছিলেন মনির। পরে মৌচাকের একটি ক্রোকারিজ দোকানে চাকরি নেন। চাকরির সময় এক লাগেজ ব্যবসায়ীর সঙ্গে মনিরের সখ্য গড়ে উঠে। সেই সখ্য থেকেই ব্যবসায়ীর সঙ্গে লাগেজ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন মনির। 

এক পর্যায়ে ঢাকা-সিঙ্গাপুর-ভারত রুটে লাগেজের ব্যবসার আড়ালে কর ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন পণ্য পাচার করতে শুরু করেন মনির। সেই পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে, কাপড়, কসমেটিক, ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটার সামগ্রী, মোবাইল, ঘড়িসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। লাগেজের ভেতরে এসব পণ্য বিদেশ থেকে দেশে, দেশ থেকে বিদেশে আনা-নেয়া করছিলেন মনির। 

তিনি আরো বলেন, লাগেজে ভরে কর ফাঁকি দিয়ে পণ্য পাচারের সময় কখনো ধরা পড়েননি মনির। তাই একই পদ্ধতিতে স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এক পর্যায়ে চোরাচালানের কাজে সহায়তার জন্য বায়তুল মোকাররমে একটি জুয়েলারি দোকানও খুলেন। 

সময়ের ব্যবধানে মনির বড় ধরনের স্বর্ণ চোরাচালানকারী হিসেবে পরিচিতি পেয়ে যান। তার নামেরও বিবর্তন হয়। তিনি হয়ে যান গোল্ডেন মনির। তার বিরুদ্ধে চোরাচালানের অভিযোগে ২০০৭ সাল বিশেষ ক্ষমতা আইনে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার ১৩ নম্বর রোডের ৪১ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মনির ওরফে গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। শুক্রবার রাত ১১টায় অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও বিদেশি মুদ্রা রাখার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার বাসা থেকে বিদেশি একটি পিস্তল, চারটি গুলি, চার লিটার বিদেশি মদ, ৩২টি নকল সিল, ২০ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল, ৫০১ ইউএস ডলার, ৫০০ চাইনিজ ইয়েন, ৫২০ রুপি, ১ হাজার সিঙ্গাপুরের ডলার, ২ লাখ ৮০ হাজার জাপানি ইয়েন, ৯২ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, হংকংয়ের ১০ ডলার, ১০ ইউএই দিরহাম, ৬৬০ থাই বাথ জব্দ করা হয়েছে। এগুলোর মূল্যমান ৮ লাখ ২৭ হাজার ৭৬৬ টাকা। এ ছাড়া ৬০০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ কোটি ৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া গোল্ডেন মনিরের বাসার নিচ থেকে দুটি প্রাডো গাড়িও পাওয়া গেছে। দুটি গাড়ির কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি মনির বা তার পরিবার। দুটির মধ্যে একটি প্রাডো গাড়ি মনির ব্যবহার করতেন, আর অন্যটি তার পরিবার ব্যবহার করতো। তাছাড়া অটোকার সিলেকশন থেকে মনিরের মালিকানাধীন তিনটি অবৈধ গাড়িও উদ্ধার করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ