বিশ্বের দর্শনীয় এসব স্থানে গিয়ে মানুষ কেন আত্মহত্যা করে?

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১০ ১৪২৭,   ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২

বিশ্বের দর্শনীয় এসব স্থানে গিয়ে মানুষ কেন আত্মহত্যা করে?

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:২০ ২১ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:১৭ ২১ নভেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

জাপানে একটি বন রয়েছে যেটি সুইসাইড ফরেস্ট নামেই পরিচিত। বছরে শত শত মানুষ সেখানে গিয়ে আত্মহত্যা করে। কেউ গাছের সঙ্গে ঝুলে আবার কেউ বিষপান করে কেউবা নিজেকে গুলি করে।

আরো পড়ুন: দুর্ধর্ষ হীরা চোর, মানুষের সামনেই উধাও করেন কোটি টাকার অলঙ্কার 

দীর্ঘদিন মানসিক অবসাদে ডুবে থাকলে মানুষ তার জীবনের প্রতি ভালোবাসা হারায়। এরপর নিজেকে হত্যা করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। তাই বলে ঘুরতে গিয়ে দর্শনীয় বিভিন্ন স্থানে আত্মহত্যার ঘটনা অনেকটা অবাক করার মতো বটে। 

আরো পড়ুন: বাংলার বধূর সিরিয়াল কিলার হয়ে ওঠার পেছনে করুণ ইতিহাস

বিশ্বে এমন কয়েকটি স্থান রয়েছে যেখানে ঘুরতে গিয়ে মানুষ আত্মহত্যা করে। এগুলোর কোনো কোনো স্থান খাড়া পর্বত তো আবার উঁচু ভবন। আবার অনেকে তো জলন্ত আগুনের মধ্যে ঝাপিয়ে আত্মহত্যাও করে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক বিশ্বের কুখ্যাত সব স্থান সম্পর্কে, যেখানে গিয়ে মানুষ আত্মহত্যা করে-

মাউন্ট মিহারামাউন্ট মিহারা

জাপানিরা বেশি মানসিক অবসাদে থাকে। এজন্যই তাদের মধ্যে আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি। মাউন্ট মিহারা টোকিওর প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে একটি ছোট দ্বীপ আইজু অমিমার উপর অবস্থিত একটি আগ্নেয়গিরি। মাউন্ট মিহারা নিয়ে একসময় প্রচুর কল্পকাহিনী প্রচলিত ছিল। 

আরো পড়ুন: ভোগবিলাসে মত্ত রানির কারণেই ফ্রান্স হয় ফকির, ঘটে ‘ফরাসি বিপ্লব’!

হাঠাৎ করে এই সুন্দর দ্বীপটি আত্মঘাতী দ্বীপের তকমা পায়। হতাশদের জন্য পছন্দসই স্থান হয়ে ওঠে দ্বীপটি। ভাবুন একবার, জীবনের প্রতি কতটা বিরক্ত হলে মানুষ জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরিতে ঝাপ দেয়। প্রায় এক হাজার মানুষ এই আগুনে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এসব দেখে কর্তৃপক্ষ অবশেষে নিরাপত্তা বাড়িয়ে সেখানে আত্মহত্যা বন্ধ করেছেন।

ইস্ট সাসেক্সইস্ট সাসেক্স

পাহাড় ও সমুদ্রের দৃষ্টিনন্দন এই স্থানটিও সুইসাইড এর জন্য বিখ্যাত। ৫০০ ফুট খাড়া পাহাড়ের সঙ্গেই গভীর সমুদ্র। প্রতিবছর গড়ে ২০ জন অন্তত এই খাড়া পাহাড় থেকে সমুদ্রে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন। ইউরোপের একটি দাতব্য সংস্থা সামারিটানস অবশ্য এখন বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে সেখান থেকে সুইসাইড কমাতে পেরেছে।

নিউ ইয়র্ক স্কাইলাইননিউ ইয়র্ক স্কাইলাইন

যুক্তরাষ্ট্রের মানুষেরা আত্মহত্যার জন্য দালান থেকে বেশি লাফ দিয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে গত ৩০ বছরে যেসব সুইসাইড হয়েছে তার অধিকাংশই ঘটেছে উঁচু দালান থেকে লাফ দেয়ার মাধ্যমে। ২০০৮ পর্যন্ত ৩০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫০০০ মানুষ উঁচু দালান থেকে লাফ দিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছে। এসব দালানের মধ্যে ১০০০ ফিট উচ্চতার নিউ ইয়র্ক স্কাইলাইন কুখ্যাতি অর্জন করেছে। ৮৬ তলার অভজারভেশন ডেক থেকে বিগত কয়েক বছরে ৪০ জন দর্শক আত্মহত্যা করেছে। 

নায়াগ্রা জলপ্রপাতনায়াগ্রা জলপ্রপাত

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নায়াগ্রা জলপ্রপাত দেখতে দর্শনার্থীরা ভীড় জমায়। দুঃখের বিষয় হলেও সত্যি যে, এটি শুধু একটি বিখ্যাত পর্যটন গতন্তব্য নয়, এটি কুখ্যাত সুইসাইড স্পট হিসেবে কুখ্যাত। ১৬৫ ফুট উপর থেকে জলপ্রপাতে পড়লে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থাকে না। প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন মানুষ নিখুঁত জলের মধ্যে আত্মহত্যা করে এই জলপ্রপাতে। ১৮৫৬ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত নায়াগ্রা জলপ্রপাতে ২৭৮০ জন আত্মহত্যা করে। 

নানজিং ইয়াংটিজ ব্রিজনানজিং ইয়াংটিজ ব্রিজ

চীনের এই ব্রিজ থেকে লাফিয়ে পড়ে অনেকেই আত্মহত্যা করে। খুবই সুন্দর এই ব্রিজটি দর্শণীয় স্থান হিসেবে জনপ্রিয়। বিশাল জনসংখ্যা চীনে সারাবিশ্বে মোট আত্মহত্যার এক তৃতীয়াংশ ঘটে। নানজিং ইয়াংটিজ নদীতে অবস্থিত ৫ কি.মি. ইস্পাত এবং কংক্রিটের বিস্তারে তৈরি সেতু যাতে নদীটির ২০০ ফুট উপরে দু’টি ডেকের উপর গাড়ি ও ট্রেন চলাচল করে। সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন হয় ১৯৬৮ সালে। এর পর থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২০০০ মানুষ ব্রিজ থেকে লাফিয়ে মৃত্যুবরণ করে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে স্থানটিতে আত্মহত্যা করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস