নব্বই দশকের সেলসম্যান এখন হাজার কোটি টাকার মালিক

ঢাকা, সোমবার   ৩০ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৭ ১৪২৭,   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

নব্বই দশকের সেলসম্যান এখন হাজার কোটি টাকার মালিক

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৫ ২১ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৪:৫৬ ২১ নভেম্বর ২০২০

র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার গোল্ডেন মনির। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার গোল্ডেন মনির। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নব্বইয়ের দশকে কাপড়ের দোকানের সেলসম্যান হিসেবে চাকরি শুরু করেন মনিরুল হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনির। এরপর লাগেজ ব্যবসা, সোনা চোরাচালান ও ভূমি দখলের মাধ্যমে বনে যান হাজার কোটি টাকার মালিক। 

শনিবার অবৈধ অস্ত্র ও মাদকসহ রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় নিজ বাড়ি থেকে গাড়ি ও সোনা ব্যবসায়ী গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতারের পর এ তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ।

এদিন দুপুর ১২টায় ঘটনাস্থলে সংবাদ সম্মেলনে আশিক বিল্লাহ বলেন, সেলসম্যানের চাকরি ছেড়ে শুরু করেন ক্রোকারিজের ব্যবসা। এরপর লাগেজ ব্যবসা অর্থাৎ ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে মালামাল আনতেন। এক পর্যায়ে জড়িয়ে পড়েন সোনা চোরাকারবারের সঙ্গে। এরপর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অবৈধভাবে সোনা চোরাচালান ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভূমি দখল করে এখন তিনি হাজার কোটি টাকার মালিক।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, বিপুল পরিমাণ সোনা অবৈধপথে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন গোল্ডেন মনির। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে তার সোনা চোরাকারবারের রুট ছিল ঢাকা-সিঙ্গাপুর-ভারত। এ সবই তিনি ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে করেছেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, তিনি মূলত একজন হুন্ডি ব্যবসায়ী, সোনা চোরাকারবারি এবং ভূমির দালাল। তার একটি অটোকার সিলেকশন নামে শো-রুম আছে। পাশাপাশি রাজধানীর গাউছিয়ায় একটি সোনার দোকানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা তার বাসা থেকে অনুমোদনহীন বিলাসবহুল দুটি বিদেশি গাড়ি উদ্ধার করেছি। যার প্রত্যেকটি দাম প্রায় তিন কোটি টাকা। এর পাশাপাশি কার সিলেকশন শো-রুম থেকেও আমরা তিনটি বিলাসবহুল অনুমোদনহীন গাড়ি উদ্ধার করেছি।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩ শুক্রবার রাত ১১টায় মেরুল বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায় অবস্থান নেয়। অভিযানে গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতারের পর তার হেফাজত থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, বিদেশি মদ এবং প্রায় ৯ লাখ টাকার বিদেশি মুদ্রা পাওয়া যায়। তার বাসা থেকে আট কেজি সোনা ও নগদ এক কোটি ৯ লাখ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/জেডআর