নিভৃত বিচারের বাণী: রক্তে লেখা ‘এ’ প্লাস ‘আর’

ঢাকা, সোমবার   ২৩ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১০ ১৪২৭,   ০৬ রবিউস সানি ১৪৪২

নিভৃত বিচারের বাণী: রক্তে লেখা ‘এ’ প্লাস ‘আর’

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি   ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:২৮ ২০ নভেম্বর ২০২০  

স্বামী এমতিয়াজের সঙ্গে একান্ত মুহূর্তে কুসুম

স্বামী এমতিয়াজের সঙ্গে একান্ত মুহূর্তে কুসুম

স্বামীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার পর সিলিং ফ্যানে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন কুলসুম আক্তার কুসুম নামে এক গৃহবধূ। কিন্তু আত্মহত্যার আগে ওই গৃহবধূ জীবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে লিখে গেছেন মাত্র দুটি অক্ষর। অক্ষর দুটি হলো ‘এ’ প্লাস ‘আর’। 

গৃহবধূর স্বজনদের মতে, রক্ত দিয়ে লেখা ওই দুটি অক্ষর শুধু অক্ষরই নয়। নিভৃত এক বিচারের বাণী। এরমধ্যে নিহিত আছে কুলসুমের ওপর চলা মানসিক নির্যাতনের প্রতিবাদ।

আরো পড়ুন: রক্ত দিয়ে গৃহবধূ লিখে গেলেন জীবনের শেষ প্রতিবাদের দুটি অক্ষর

বৃহস্পতিবার রাতে যশোরের অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের প্রফেসরপাড়া এলাকায় এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। কুলসুম আক্তার ব্যবসায়ী এমতিয়াজ আবাবিল মোহাম্মদ ইয়াসিনের স্ত্রী। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ইনজেকশন সিরিঞ্জ ও মরদেহ উদ্ধার করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গৃহবধূর মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলে আছে। অভয়নগর থানা পুলিশের উপস্থিতিতে মরদেহ নামানো হচ্ছে। ঘরের মেঝেতে রক্ত দিয়ে লেখা রয়েছে ‘এ’ প্লাস ‘আর’। তার পাশে পড়ে আছে রক্তমাখা একটি ইনজেকশন সিরিঞ্জ। 

আরো পড়ুন: সিরাজগঞ্জে আস্তানা থেকে বেরিয়ে চার জঙ্গির আত্মসমর্পণ

মৃতের একমাত্র কন্যা জান্নাতুল ফেরদৌস মিম জানান, রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার সময় মা ঢাকায় অবস্থানরত বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে বলতে নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। রাত ৮টার সময় বাবা আমাকে মোবাইল করে বলেন তোমার মাকে বাঁচাও। এসময় প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙ্গে দেখি গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মার দেহ সিলিং ফ্যানে ঝুলে আছে। সে আরো জানায়, তাঁর বাবা ঢাকায় ব্যবসা করেন। 

নিহতের এক আত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিহত কুলসুম আক্তারের সঙ্গে প্রায় ৬ বছর আগে রাজধানী ঢাকার আব্দুল মালেকের ছেলে এমতিয়াজের বিয়ে হয়। তাদের মেয়ে মিমের বয়স এখন ১৮। এমতিয়াজের প্রথম স্ত্রী ফাতেমা আক্তার রুমার মেয়ে মিম। রুমার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর এমতিয়াজ অভয়নগরে আসে এবং কুলসুমকে বিয়ে করে। এরপর থেকে কুলসুম ও মিম প্রফেসরপাড়ায় সাবেক শিক্ষক মতিয়ার রহমানের বাড়ি ভাড়া করে বসবাস শুরু করে। 

আরো পড়ুন: মা-বাবাকে মেরে হাসপাতালে পাঠাল মেয়ে!

পরবর্তীতে এমতিয়াজ তার প্রথম স্ত্রী রুমার সঙ্গে পুনরায় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুললে এমতিয়াজ ও কুলসুমের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। এরই জের ধরে নিজের রক্ত দিয়ে এমতিয়াজের ‘এ’ এবং রুমার ‘আর’ লিখে সে আত্মহত্যা করেছে। এমতিয়াজ একজন বহু বিবাহের প্রতারক, আমাদের কুলসুমের মৃত্যুর জন্য সে দায়ী। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

অভয়নগর থানার এসআই শাহ আলম জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়েছে আত্মহত্যার ঘটনা। তদন্ত চলছে। সম্ভবত গৃহবধূ তার বাম হাতে ইনজেকশন সিরিঞ্জ ব্যবহার করে রক্ত বের করেন এবং ‘এ’ প্লাস ‘আর’ লিখেছিলেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ