দাওয়াতের কথা বলে ডেকে নিয়ে স্কুলছাত্রকে নির্যাতন

ঢাকা, সোমবার   ৩০ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৭ ১৪২৭,   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

দাওয়াতের কথা বলে ডেকে নিয়ে স্কুলছাত্রকে নির্যাতন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৩:৪৮ ২০ নভেম্বর ২০২০  

স্কুলছাত্রকে নির্যাতন

স্কুলছাত্রকে নির্যাতন

কুষ্টিয়ায় ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া লাবিব আলমাস নামে এক ছাত্রকে বন্ধুরা দাওয়াতের কথা বলে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার বিকেলে হাউজিং চাঁদাগারের মাঠে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই বলছে, কুষ্টিয়ায় কিশোরদের অপরাধ প্রবণতা প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখনই এই অপরাধ প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ঘটবে বড় ধরনের দুঘর্টনা। কিশোরদের এই অপরাধ প্রবণতা কমাতে হলে পরিবারকেই শক্ত হাতে দায়িত্ব নিতে হবে।

এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ছাত্র লাবিবের বাবা বলেন, আমার ছেলে লাবিব আলমাস কুষ্টিয়া নামকরা একটি স্কুলের ছাত্র। সে স্কুলে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে যায়। পরে তার বন্ধু অভি, রাতুলের সঙ্গে দেখা হলে তারা আমার ছেলেকে তাদের বাসায় দাওয়াত আছে বলে জানায়। আমার ছেলে বিকেলে তাদের বাসা কোর্টপাড়াতে গেলে ওখান থেকে রিকশা যোগে হাউজিং চাঁদাগার মাঠের মধ্য নিয়ে যায়। আগে থেকেই ওকে মারার পরিকল্পনা করেছিল ওর বন্ধুরা। চাঁদাগার মাঠে পৌঁছানোর পর আমার ছেলেকে অভি ও রাতুল শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাটি দেখে এগিয়ে আসে এবং আমার ছেলেকে রিকশা করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

তিনি আরো বলেন, আমার ছেলে অল্পের জন্য জীবন রক্ষা পেয়েছে। এ ধরনের ন্যাক্কাজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তির দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রের মা।

এ ঘটনায় নির্যাতিত ছাত্র লাবিব আলমাস জানায়, আমি এই বন্ধুর সঙ্গে একই স্কুলে পরতাম। স্কুলে খারাপ কাজ করায় স্কুল থেকে তাকে টিসি দিয়ে বের করে দেয়া হয়। তারপর থেকে আমাদের কথা হয় ফেসবুকের মাধ্যমে। আমি সকালে স্কুলে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে গেলে তার সঙ্গে দেখা হয় এবং আমাকে বিকেলে দাওয়াত আছে বলে জানায়। পরে দাওয়াত তো দূরের কথা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাকে তিন থেকে চারজন মিলে এলোপাতাড়ি মারধর করে।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে প্রধান শিক্ষক জানান, লাবিব আলমাস সে আমাদের স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। তাকে কি কারণে মেরেছে বিষয়টি এখনো জানতে পারি নাই। তবে এ বিষয়টি নিয়ে আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রাহমান জানান, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম