নিলামের গাড়ি বিক্রির নামে প্রতারণা, গ্রেফতার ৬

ঢাকা, বুধবার   ২৫ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১১ ১৪২৭,   ০৮ রবিউস সানি ১৪৪২

নিলামের গাড়ি বিক্রির নামে প্রতারণা, গ্রেফতার ৬

চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০২:১৭ ২০ নভেম্বর ২০২০  

নিলামের গাড়ি বিক্রির নামে প্রতারণার ঘটনায় গ্রেফতার ৬

নিলামের গাড়ি বিক্রির নামে প্রতারণার ঘটনায় গ্রেফতার ৬

চট্টগ্রাম বন্দরে নিলামের জন্য রাখা গাড়ি বিক্রির কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় বন্দরের তিন কর্মচারীসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেফতারের বিষয়টি সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়। এর আগে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- বন্দরের সিকিউরিটি গার্ড নুরুল আবছার, অস্থায়ী পিয়ন রুহুল আমিন ও মো. ইউসুফ এবং প্রতারক চক্রের তিন সদস্য মো. মহিদুল ইসলাম সরকার প্রকাশ নজরুল, মো. মোবারক হোসেন প্রকাশ সুমন ও মো. আনোয়ার হোসেন।

সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ বলেন, বন্দরে নিলামের জন্য রাখা গাড়ি বিক্রির কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ এনে গত ১ ফেব্রুয়ারি বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন মানিকগঞ্জের গাড়িচালক শাহিনুর রহমান হালিম। মামলাটির তদন্তভার সিআইডির কাছে এলে প্রথমে অভিযান চালিয়ে মহিদুল ইসলাম সরকার প্রকাশ নজরুলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, বন্দর থেকে নিলামে গাড়ি কিনতে বন্ধু রুবেলের সঙ্গে আলোচনা করেন গাড়িচালক হালিম। তখন রুবেলের মাধ্যমে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। পরিচয়ের পর আনোয়ার হোসেন তাকে নিয়ে যান মোবারক হোসেন প্রকাশ সুমনের কাছে। সুমন নিজেকে ‘কাস্টমস অফিসার’ মহিদুল ইসলাম সরকার প্রকাশ নজরুলের ভাগ্নে বলে পরিচয় দেন। পরে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি গাড়ি দেখানোর উদ্দেশ্যে হালিমকে নিয়ে চট্টগ্রামে আসেন সুমন।

চট্টগ্রামে আসার পর মহিদুলের সঙ্গে দেখা করলে তিনি নিজেকে ‘কাস্টমস অফিসার’ নয়, বরং কাস্টমসের ‘সহকারী কমিশনার’ সানোয়ার হোসেন প্রকাশ সাখাওয়াতের পিএস হিসেবে পরিচয় দেন। একপর্যায়ে বন্দরের পিয়ন ইউসুফ, রুহুল আমিন ও সিকিউরিটি গার্ড নুরুল আবছারের সঙ্গে চুক্তি করে হালিমের বন্ধু আমিনুল ইসলামকে নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করেন মহিদুল। সেখানে ‘এক্স নোহা ২০০৫ মডেল’ এর একটি গাড়ি দেখান তাকে।

গাড়িটি কিনতে সম্মত হলে ১২ জানুয়ারি হালিমকে কাস্টমস হাউজের পেছনে নিয়ে যান সুমন। সেখানে আগে থেকে একটি প্রাইভেট কারে অপেক্ষায় ছিলেন কাস্টমসের ‘সহকারী কমিশনার’ পরিচয় দেয়া সানোয়ার। ওই কারে বসে তাদের ১০ লাখ ১৯ হাজার টাকা বুঝিয়ে দেন হালিম। টাকা বুঝে পেয়ে গাড়ির কাগজপত্র ঠিক করা হচ্ছে এবং বন্দরের ৪ নম্বর গেট দিয়ে গাড়িটি বের হবে বলে হালিমকে জানান সানোয়ার। এরপর হালিমকে সেখানে দাঁড় করিয়ে রেখে প্রাইভেট কারে করে চলে যান সুমন ও সানোয়ার। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর গাড়ি ও তারা ফিরে না আসায় প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন হালিম। পরে তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন।

মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ বলেন, টাকাগুলো নিয়ে হোটেল আল-ফয়সালে চলে যায় চক্রটি। সেখানে চলে ভাগ ভাটোয়ারা। এরমধ্যে সুমন ২ লাখ, মহিদুল ১ লাখ ১০ হাজার, ইউসুফ ৬৬ হাজার ও আনোয়ার ৫০ হাজার টাকা পান এবং বাকি টাকা পান সানোয়ার। 

তিনি বলেন, কাস্টমসের ‘সহকারী কমিশনার’ পরিচয় দেয়া সানোয়ার মূলত প্রতারক চক্রের মূলহোতা। এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন সাখাওয়াত। নগরীর ডবলমুরিং থানার একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম