সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে মৃত নারীদের ধর্ষণ করতো বিকৃত মস্তিষ্কধারী মুন্না

ঢাকা, সোমবার   ৩০ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৭ ১৪২৭,   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে মৃত নারীদের ধর্ষণ করতো বিকৃত মস্তিষ্কধারী মুন্না

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:০৭ ২০ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ০৯:২৮ ২০ নভেম্বর ২০২০

মুন্না ভগত

মুন্না ভগত

মামার সঙ্গে সহযোগী হিসেবে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে কাজ করতো মুন্না ভগত। তার বয়স ২০ বছর। কিন্তু জঘন্যতম একটি অপরাধের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। 

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—মর্গে থাকা মৃত নারীদের ধর্ষণ করতো মুন্না। সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন স্থান থেকে যেসব মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেয়া হতো, সেসব লাশের মধ্য থেকে মৃত নারীদের ধর্ষণ করতো মুন্না।

আরো পড়ুন: গভীর রাতে শাড়ি-ব্লাউজ পরে ফিরলেন নিখোঁজ ৩ সন্তানের বাবা

সিআইডির অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক সৈয়দ রেজাউল হায়দার বলেন, ঘটনাটি খুবই ন্যক্কারজনক। শুক্রবার (২০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

সিআইডি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেফতার হওয়া মুন্না ভগত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে ডোম জতন কুমার লালের সহযোগী হিসেবে কাজ করতো। দুই-তিন বছর ধরে সে মর্গে থাকা মৃত নারীদের ধর্ষণ করে আসছিল। সম্প্রতি এ রকম একটি অভিযোগ পেয়ে মুন্নার বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুন্না মৃত নারীদের ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।

আরো পড়ুন: বাংলাদেশের ‘রহস্যময়’ জাহাজের দেখা মিললো নিষিদ্ধ নর্থ সেন্টিনেল দ্বীপে

সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, মৃত নারীদের ধর্ষণ করা পৃথিবীর জঘন্যতম একটি কাজ। সুস্থ ও স্বাভাবিক কেউ এমন জঘন্যতম কাজ করতে পারে না। গ্রেফতার হওয়া মুন্না বিকৃত মানসিকতার। তা না হলে এমন কাজ তার করার কথা নয়।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে দায়িত্বরত ডোম ও মুন্নার মামা জতন কুমার লাল জানান, মুন্না গত দুই/তিন বছর ধরে তার সহযোগী হিসেবে মর্গে কাজ করতো। তার বাবার নাম দুলাল ভগত। গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজারে। সে আরো দুই/তিন জনের সঙ্গে মর্গের পাশে একটি কক্ষেই রাতে থাকতো।

আরো পড়ুন: ২৪৩ মাইল পাড়ি দিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলো প্রেমিক জুটি

তিনি জানান, মুন্নাকে হঠাৎ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ। এ কারণে তারা বৃহস্পতিবার সন্ধ‌্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নম্বর- ১২৩৬) দায়ের করেছেন।

মুন্নার বিরুদ্ধে মৃত নারীদের ধর্ষণের অভিযোগ প্রসঙ্গে জতন লাল কুমার বলেন, মুন্না মাঝে মধ্যে গাঁজা বা নেশাটেশা করতো। কিন্তু এ রকম একটি কাজ সে করতে পারে, তা ভাবতেই পারছি না।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএ/জেডআর