মৃত্যুশোকে গাঁথা হলো ৮ পরিবারের ভাগের ‘ধান’

ঢাকা, সোমবার   ২৩ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১০ ১৪২৭,   ০৬ রবিউস সানি ১৪৪২

মৃত্যুশোকে গাঁথা হলো ৮ পরিবারের ভাগের ‘ধান’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:০৩ ১৯ নভেম্বর ২০২০  

স্বজনদের আহাজারি ও নিহতদের কবর

স্বজনদের আহাজারি ও নিহতদের কবর

একই গ্রামে সবার বসবাস। কেউ নিয়মিত শ্রমিক আবার কেউ মৌসুম এলে কাজ করেন। তাই বাড়ি থেকে ৭৩ কিলোমিটার দূরে একসঙ্গে ১৫ জন শ্রমিক হিসেবে ধান কাটতে গিয়েছিলেন। ধান কাটা শেষে ২২ দিন পর বাড়ি ফেরার পথে বাবা-ছেলেসহ লাশ হলেন আটজন।

বৃহস্পতিবার ভোরে হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সাঁকোপাড়া এলাকায়। নিহতদের বাড়ি একই উপজেলার বালিয়াদিঘী গ্রামে।

এদিন এশার পর এক এক করে তাদের লাশ কবরস্থানে নিচ্ছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। শোকের ছায়া নেমে এসেছে বালিয়াদিঘী গ্রামে।

ডিগ্রি পরীক্ষার্থী ছিলেন মিজানুর রহমান মিলু। আটজনের মধ্যে মিলুসহ তিনজনের বিয়েও হয়েছিল কয়েক মাস আগে। তিন অন্তসত্ত্বা গৃহবধূ হলেন বিধবা। নিহত আহাদের চার মাসের নববধূ আসমা, মিজানুর রহমান মিলুর নববধূ আমেনা বেগম ও মিঠুনের নববধূ হয়ে গেলেন বিধবা। একই গ্রামের আটজনের ভাগের ধান নিয়ে ফিরলেও ফেরেনি তাদের প্রাণ। জীবনের বিনিময়ে পাওয়া ধানের ‘ভাত’ কীভাবে খাবেন স্বজনরা।

স্বজনদের আহাজারিতে দেখতে যাওয়া মানুষদের চোখেও নেমে আসে পানি। লাশের খাটিয়া নিয়ে যেতে স্বজনদের সঙ্গে যোগ দেয় পাশের গ্রামের মানুষ। একই সঙ্গে পাশাপাশি সাতজনকে দাফন করা হয়।

দায়পুকুরিয়া ইউনিয়নের বারিকবাজার-সোনাপুর ভাঙ্গাসাকো এলাকায় রাস্তার পাশে খাদে পড়ে নসিমন উল্টে যায়। ধানের বস্তার নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই সাতজন ও পরে একজন মারা যান।

প্রাণে বেঁচে যাওয়া আহত এমারুল ইসলাম ও আলিম হোসন বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চল থেকে ধানকাটা শেষে মজুরির ১৫০ মণ ধান নিয়ে নসিমনে চালকসহ আমরা ১৬ জন বাড়ি ফিরছিলাম। আমি ও আরেকজন সামনের সিটে বসলাম। পথে সোনাপুর গ্রামের ভাঙা রাস্তায় পৌঁছালে বামে সড়কের পাশে গর্তের পানিতে পড়ে উল্টে যায় নসিমনটি। এতেই সব শেষ হয়ে যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর