সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংশোধন বিল-২০২০ পাস

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৬ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১২ ১৪২৭,   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২

সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংশোধন বিল-২০২০ পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৩১ ১৯ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ২১:১১ ১৯ নভেম্বর ২০২০

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

জাতীয় সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংশোধন বিল-২০২০ পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বিলটি সংসদে পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে বিলের ওপর দেয়া জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করা হয়।

গত ৮ নভেম্বর বিলটি সংসদে তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে সেটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বলা আছে, সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করবে এবং প্রত্যেক ট্রাইব্যুনালে অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে বিচারক নিয়োগ করা হবে।

কোনো জেলায় অতিরিক্ত জেলা জজ না থাকলে, ওই জেলায় দায়রা জজ নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালন করবেন। আর ট্রাইব্যুনাল স্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তি করবেন।

তবে প্রশাসনিক কারণে অদ্যাবধি মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন বা জেলা বা দায়রা জজকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এই ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। ফলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অসংখ্য মাদক অপরাধ সংক্রান্ত মামলা হলেও তা বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে, মামলার সংখ্যাও বাড়ছে।

ইয়াবার উৎপাদন, পরিবহন, বিপণনের জন্য সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ২০১৮ সালের অক্টোবরে জাতীয় সংসদে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিল ২০১৮’ পাস হয়। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর থেকে আইনটি কার্যকর করা হয়।

২০১৮ সালের আইনে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে মাদকদ্রব্যের সব অপরাধ বিচার করার কথা বলা ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শুধু ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে মামলা করতে গেলে দীর্ঘ সময় লাগে। নিষ্পত্তি এবং আপিলের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়, সেজন্য আইনটি সংশোধন করা হচ্ছে।

বিলে বলা হয়েছে, এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতকে মামলা প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে। কেউ আপিল করতে চাইলে রায় দেয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তা করতে হবে।

এর আগে গত ১১ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় সংসদে উপস্থাপনের জন্য ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংশোধন বিল, ২০২০’ এর রিপোর্ট চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

কমিটির সভাপতি মো. শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে  সংসদ ভবনে এক সভা হয়েছিল। সভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, মো. হাবিবর রহমান, সামছুল আলম দুদু, ফরিদুল হক খান, পীর ফজলুর রহমান, নূর মোহাম্মদ এবং সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। 

সভায় ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২০’ এর উপর বিস্তারিত আলোচনা ও পরীক্ষা করার পাশাপাশ সংসদে বিলের রিপোর্ট প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছিল।

ওই সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব, দুই বিভাগের অধীনস্থ সংস্থা প্রধান, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ