শখের বশেই শ্রাবন্তীর কুইলিং, সম্মান মিলছে দেশের বাইরেও

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৬ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১২ ১৪২৭,   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২

শখের বশেই শ্রাবন্তীর কুইলিং, সম্মান মিলছে দেশের বাইরেও

রুমান হাফিজ, চবি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৪৮ ১৯ নভেম্বর ২০২০  

শ্রাবন্তী শিকদার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছেন

শ্রাবন্তী শিকদার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছেন

পাখি বানাতে চান নাকি প্রজাপতি? নৌকা, মাছ, বই, ফুল, শো-পিস, গয়না সবই যদি বানানো যায় একটুকরো কাগজ দিয়ে তাহলে কেমন হয়? মন থেকে ভালো না বলে উপায় আছে! তেমনই একজন শ্রাবন্তী সন্ধ্যা সিকদার। যিনি কাগজ দিয়ে তৈরি করছেন আকর্ষণীয় সব জিনিস। ফুল, পাখি, প্রজাপতির বাইরে ডাকবক্স, পুতুল, প্রকৃতির দৃশ্যকে জাদুর মতো বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন কুইলিং করে। 

কুইলিং নিয়ে কথা

পেপার কুইলিং একটি সৃষ্টিশীল ও মজার শিল্প। ওরিগ্যামি, কিরিগ্যামি সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। তবে এসব শিল্প ছাড়াও কাগজ দিয়ে আরো অনেক কিছু হয়। সেরকমই একটি কাগজশিল্প হচ্ছে কুইলিং। কাগজের তৈরি শুভেচ্ছা কার্ড, শো-পিস বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় উপহার সামগ্রী। সুতা/ ফিতার মতো লম্বা চিকন রঙিন কাগজকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে, রোল করে বিভিন্ন ধরনের আকৃতি দেয়া হয়। এরপর তা ব্যবহার করা হয় নানান ধরনের জিনিস বানানো ও ডেকোরেট করার কাজে। 

কুইলিংয়ের মাধ্যমে কার্ড, গয়না, শো-পিস কার্ড, শোপিস, চাবির রিং, বক্স, জুয়েলারি, বিমূর্ত শিল্প (Abstract art), ফটোফ্রেম, মিনিয়েচার ইত্যাদি তৈরি করা হয়। কাগজকে নির্দিষ্ট মাপে কেটে, আঠা দিয়ে জুড়ে করা হয় পেপার কুইলিং। সাধারণত এ কাজে রঙিন, লম্বা, মজবুত ও চিকন কাগজের টুকরো ব্যবহৃত হয়।

শুরুর গল্প

শ্রাবন্তী শিকদার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছেন। তিনি বলেন, কুইলিংয়ের শুরুটা ২০১৭ সালের দিকে। খুব ছোট্টবেলা থেকে টুকিটাকি আঁকা-আঁকি, ওরিগ্যামি, ক্রাফটিং করার ঝোঁক ছিল। যখন যে ক্রাফটের ছবি বা ভিডিও দেখতাম, বানাবার চেষ্টা করতাম হাতের কাছে পাওয়া জিনিসগুলো দিয়ে। গুগল বা ফেসবুকে কুইলিংয়ের ছবি দেখে আগ্রহ জন্মেছিল কুইলিংয়ের প্রতি। এরপর কয়েক প্যাকেট কাগজ হাতে নিয়ে নিতান্ত শখের বশে কুইলিংয়ে পথচলা শুরু হয়। তখন কুইলিং টুলস সম্পর্কে কোন ধারণা ছিল না। হলের সিনিয়র আপু আমার আগ্রহ দেখে তার কুইলিং টুলগুলো ধার দিয়েছিলেন একদিন। আমি ভীষণ খুশি হয়ে ছোট্ট একটি ওয়ালম্যাট বানিয়েছিলাম। সেই থেকে শুরু, তিন বছরের বেশি সময় ধরে কুইলিং আমার অবসরের প্রিয় সঙ্গী। 

অর্জনের ঝুলিতে:

রেনেসাঁ যুগে ফ্রেঞ্চ ও ইটালিয়ানরা কুইলিংয়ের মাধ্যমে ধর্মীয় ও অন্য গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের প্রচ্ছদের নকশা করত। ১৮ শতকে কুইলিং ইউরোপের নারীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করে। বাংলাদেশেও কুইলিংয়ের প্রচার বেশ বাড়ছে। আয়োজন হচ্ছে নানা ইভেন্ট। দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে শ্রাবন্তীর কুইলিং পরিচিত বাইরের দেশেও। 

দেশের বাইরে অর্জন নিয়ে বলেন, কুইলিংয়ের জন্য পাওয়া অর্জন বলতে প্রচুর মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। ভালোবাসা পেয়েছি, সম্মান পেয়েছি৷ ছোট্ট ছোট্ট কাজের জন্য পাওয়া এত এত মানুষের ভালোবাসা, শুভকামনা আমার কাছে সত্যি অনেক বড় পাওয়া৷ কুইলিং করার সুবাদে ‘Robin's Nest’ নামের বিদেশি ডিজাইন টিমে ও ‘Indian Quilling Challenge’ এর ডিজাইন টিমে কাজ করার সুযোগ হয়েছে৷ এছাড়া ‘পিপড়ের দল’ নামের কোলকাতার এক ই ম্যাগাজিনেও বেশ কিছুদিন কাজ করার সুযোগ হয়েছে। পরিচিত হয়েছি দেশ বিদেশের অনেক ক্রাফটার, আর্টিস্টদের সঙ্গে। এগুলোই আমার কাছে অনেক সম্মানের৷ 

স্বপ্নের কথা জানালেন তিনি, আমার খুব ইচ্ছে আছে নিজের ছোট একটি স্টুডিও থাকবে, যেখানে আমার কাজগুলো সাজানো থাকবে। আর একটু পরিণত হলে এক্সিবিশন করারও ইচ্ছে আছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম