দেশীয় শিল্পের অনুকূলে নীতিমালা সাজানোর পরামর্শ শিল্প প্রতিমন্ত্রীর

ঢাকা, সোমবার   ৩০ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৭ ১৪২৭,   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

দেশীয় শিল্পের অনুকূলে নীতিমালা সাজানোর পরামর্শ শিল্প প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:১৬ ১৯ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৮:১৬ ১৯ নভেম্বর ২০২০

শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার-ি ফাইল ছবি।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার-ি ফাইল ছবি।

দেশীয় শিল্পের অনুকূলে আমদানি-রফতানি নীতি, ব্যাংকিং নীতি ও শিল্প নীতিকে ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দিয়েছেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার।

বৃহস্পতিবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘শিল্পোন্নত বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভার্চুয়ালি তিনি এ পরামর্শ দেন।

সভায় ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত প্রণোদনার অর্থ দ্রুত বিতরণের জন্য ব্যাংকগুলোর প্রতি আহবান জানান শিল্প প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে যেসব শিল্প পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে, সেগুলো আমদানির ক্ষেত্রে কর বৃদ্ধি করতে হবে এবং দেশীয় পণ্যের রফতানি উৎসাহিত করতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিশেষ ইনসেন্টিভ দিতে হবে। বিসিক ও এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তা নিশ্চিত এবং বিটাকের মাধ্যমে এ সব উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। এ সময় খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকগুলোকে আরো তৎপর হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশের সর্বত্র স্থানীয় কাঁচামালভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। যেসব জমিতে ফসল হয় না সেখানে জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত অবকাঠামো উন্নয়ন করে শিল্প কারখানা স্থাপন করা হবে। শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ও দেশের শিল্পখাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর শিল্প কারখানাসমূহ জাতীয়করণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সমবায়ভিত্তিতে বাংলাদেশকে একটি সুখী-সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেন।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশকে রক্তের ঋণে আবদ্ধ করে রেখেছেন। আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে যার যার দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশকে একটি শিল্পোন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করে জাতির পিতার রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

সভায় মুখ্য আলোচক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন ভার্চুয়ালি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য নির্মূল ও আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনর্নির্মাণে জাতির পিতা কৃষির পাশাপাশি শিল্পকেও যথাযথ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর শিল্প কারখানার পাকিস্তানি মালিকরা পালিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু এ সব কারখানাকে জাতীয়করণের মাধ্যমে রক্ষা করেন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ও বৈষম্য রোধকল্পে সামাজিক ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যাক্তি খাতকেও প্রাধান্য দিয়েছিলেন। বিশেষ করে, নিজস্ব প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে যাতে ক্ষুদ্র, কুটির ও অতি ক্ষুদ্র শিল্পখাত যাতে এগিয়ে যেতে পারে সেজন্য বঙ্গবন্ধু প্রথম পঞ্চবার্ষিকীতে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে মাথাপিছু আয় ও বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ইস্যুতে প্রতিবেশি দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

বিসিআইসি'র চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্ব ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি), বিটাকের মহাপরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, বিসিআইসি'র আওতাধীন শিল্পকারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ