জাতি বিনির্মাণে মানুষের মনন তৈরিতে গণমাধ্যম অনন্য: তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৬ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১২ ১৪২৭,   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২

জাতি বিনির্মাণে মানুষের মনন তৈরিতে গণমাধ্যম অনন্য: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:১৮ ২৯ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৯:৫১ ৩০ অক্টোবর ২০২০

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ- ফাইল ছবি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ- ফাইল ছবি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, নতুন প্রজন্মের মনন গঠনে গণমাধ্যমের সুষ্ঠু বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একইসঙ্গে সরকারের পথচলা ও কর্মসম্পাদনে গণমাধ্যমের সমালোচনা সরকারের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিন্টু রোডে সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-ডিআরইউ’র রজতজয়ন্তী উপলক্ষে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত তিনদিনের স্মারক বক্তৃতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 

বাংলাদেশের মানুষের স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য মানুষের মনন তৈরিতে গণমাধ্যম এবং গণমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকদের ভূমিকা রয়েছে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন  ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে তা লেখা থাকবে। 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্মের মনন গঠনে গণমাধ্যমের সুষ্ঠু বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পথচলা, সুষ্ঠুভাবে কাজের ক্ষেত্রেও গণমাধ্যমের সমালোচনা সহায়ক ভূমিকা রাখে। সে কারণে আমরা সমালোচনাকে সমাদৃত এবং সমালোচকদের পুরস্কৃত করার সংস্কৃতিটাও লালন করি। খারাপ কাজের সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজের প্রশংসাও প্রয়োজন। তাতে ভালো কাজ উৎসাহিত হয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১২ বছরে গণমাধ্যমের বিস্ময়কর প্রসার এবং চলতি করোনার সময়ে সাংবাদিকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে সহায়তা বিশ্বে অনন্য নজির স্থাপন করেছে। 

গণমাধ্যমে পুঁজি বিনিয়োগ ভালো। একইসঙ্গে লক্ষ্য রাখতে হবে, গণমাধ্যম যেন পুঁজির স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়। মূলধারার গণমাধ্যম পত্র-পত্রিকা, বেতার ও টেলিভিশন যেন সুষ্ঠুভাবে বিকশিত হয় সেজন্য প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। যে সমস্ত পত্রিকা নিয়মিত বের হয় না সেগুলো আসলে গণমাধ্যমের সুষ্ঠু বিকাশে কতটুকু সহায়ক সেটি নিয়ে অনেকের প্রশ্ন আছে। পত্রিকার প্রচার সংখ্যাও যেন বাস্তব নির্ভর হয়, এ নিয়েও কাজ চলছে।
 
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলা বিজ্ঞাপন থেকে কোনো আয়কর পাচ্ছিল না সরকার। সম্প্রতি সেখানে ভ্যাট যুক্ত করাসহ এ খাতে শৃঙ্খলা আনতে তথ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিভাগ সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশের পণ্যের বিজ্ঞাপন বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে দেখানো পুরোপুরিভাবে বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি। এছাড়াও যা কয়েক দশকে সম্ভব হয়নি, সেই বাংলাদেশ টেলিভিশন গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে সমগ্র ভারতে ফ্রি ডিশের মাধ্যমে প্রদর্শিত হচ্ছে। 

এ সময় ডিআরইউকে রিপোর্টারদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও গণমাধ্যমকর্মীদের একটি বলিষ্ঠ সংগঠন হিসেবে অভিহিত করে ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাদের অভিনন্দন জানান তথ্যমন্ত্রী।

ডিআরইউ-এর সাবেক সভাপতি শাহজাহান সরদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা পরিচালনা পর্ষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ফিনান্সিয়াল হেরাল্ডের সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল উপস্থাপিত স্মারক বক্তৃতার ওপর আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিক, ডিআরইউ’র সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সহ-সভাপতি নজরুল কবীর, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী প্রমুখ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ/আরএইচ