ধর্ষণ প্রতিরোধে কুইক রেসপন্স টিমের যাত্রা শুরু

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৯ ১৪২৭,   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

ধর্ষণ প্রতিরোধে কুইক রেসপন্স টিমের যাত্রা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৩৫ ২৭ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২০:৫৭ ২৭ অক্টোবর ২০২০

ধর্ষণ প্রতিরোধে কুইক রেসপন্স টিমের যাত্রার উদ্বোধন করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

ধর্ষণ প্রতিরোধে কুইক রেসপন্স টিমের যাত্রার উদ্বোধন করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

ধর্ষণ বা নারী নির্যাতনের ঘটনা সরাসরি প্রতিরোধ করার উপায় একটু কঠিন। এজন্য কুইক রেসপন্স টিম গঠন করে হটলাইন চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় অবস্থিত উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের কুইক রেসপন্স টিমের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা জানান। 

উদ্বোধনের সময় কুইক রেসপন্স টিমের জন্য একটি গাড়ি ও হটলাইন ০১৩২০০৪২০৫৫ নম্বরসহ মোবাইল হস্তান্তর করেন ডিমএপি কমিশনার। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার বলেন, সামাজিক অপরাধগুলো, বিশেষ করে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা সরাসরি প্রতিরোধ করার উপায় একটু কঠিন। এজন্য কুইক রেসপন্স টিম গঠন ও হটলাইন চালু করা হয়েছে। নারীরা রাস্তায় বা অন্য কোথাও অনিরাপদ বোধ করলে বা বিপদে পড়লে এই টিমের হটলাইনে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিক সাহায্য নিতে পারবেন। 

তিনি আরো বলেন, নারীদের অসুবিধা শুনতে ও সামাজিক নির্যাতন প্রতিরোধ করতে একটি বিশেষ টিমের প্রয়োজন থেকেই কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। বিপদাপন্ন নারীকে সহায়তা দিতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে কুইক রেসপন্স টিম অপরাধ প্রতিরোধ করবে বলে আশাবাদী।

পুলিশ সদস্যদের মানবিক হওয়ার শিক্ষা দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, থানায় ভিকটিম আসলে কীভাবে মানবিক সহায়তা দিতে হবে তা শেখানো হচ্ছে। প্রতিটি থানায় নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্ক রাখা হয়েছে, যেখানে নারী কর্মকর্তাদের পদায়িত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে, আমাদের নারী কর্মকর্তার সংখ্যা এখনো পর্যাপ্ত নয়।

অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ভিকটিম ও অপরাধী আমাদের সন্তান। পরিবার থেকে তাদের সুশিক্ষা দিয়ে এই সমস্যা সমাধান করা যায়। আসুন আমরা সন্তানকে মানুষ বানাই, ধর্ষক না। আমার সন্তানকে ধর্ষক হওয়া থেকে বিরত রাখতে পারলে অন্যের সন্তান নিরাপদ থাকবে।

এর আগে উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হামিদা পারভীন তার স্বাগত বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে অত্র বিভাগের সাফল্য চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠাকাল থেকে উইমেন সাপোর্ট এন্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ প্রায় তিন হাজার ৫০০ নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলা তদন্ত করেছে। যার মধ্যে প্রায় তিন হাজার ৩০০ মামলার তদন্ত নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ভিকটিমকে সেবা দেয়া হয়েছে। 

এছাড়াও প্রায় দুই হাজার শিশুকে এনজিও সংস্থার সহায়তায় স্থায়ী পুনর্বাসন করা হয়েছে। প্রায় আড়াই হাজার নিখোঁজ শিশুকে তার অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এই বিভাগ থেকে ভিকটিমকে কাউন্সিলিং, সহায়তা, আইনি পরামর্শ, পুনর্বাসন, অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরসহ নানাবিধ কাজ করা হচ্ছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, জাতীয় মানববাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিরা ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ/টিআরএইচ