জাতিসংঘের জোরালো ভূমিকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা, শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৭,   ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

রোহিঙ্গা সংকটসহ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়

জাতিসংঘের জোরালো ভূমিকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:৪১ ২৪ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৯:০৯ ২৪ অক্টোবর ২০২০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

রোহিঙ্গা সংকটসহ বিদ্যমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘকে আরো সুনিশ্চিত ও জোরালো ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতিসংঘের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখনো এমন কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে রোহিঙ্গা সংকটের মতো অনেক জটিল চ্যালেঞ্জ সমাধানে জাতিসংঘ আরো সুনির্দিষ্ট ও শক্তিশালী ভূমিকা নিতে পারে।

তিনি বলেন, বিশ্ব এখনো দারিদ্র্য, ক্ষুধা, সশস্ত্র সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ, নিরাপত্তাহীনতা ও জলবায়ু পরিবর্তন সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং বৃহত্তর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, আমরা জাতিসংঘের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ঘোষণায় একাত্মতা প্রকাশ করেছি। আজ আমাদের চ্যালেঞ্জগুলো পরস্পর সংযুক্ত এবং কেবল পুনরুজ্জীবিত বহুপক্ষীয়তার মাধ্যমেই এর সমাধান করা যেতে পারে। আমরা কেবল এক সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমেই ভবিষ্যতের মহামারি এবং অন্যান্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের ধকল কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা তৈরি করতে পারি।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে জাতিসংঘ সনদে অন্তর্ভুক্ত নীতি ও লক্ষ্যগুলোর প্রতি তার অটল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এই বছরটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রথম বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু বিশ্ব শান্তির প্রতি তার দ্ব্যর্থহীন প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন; বিভিন্ন দেশের মধ্যে সংহতির ওপর জোর দেন; বহুপক্ষীয়তার পক্ষে কথা বলেন এবং জাতীয় ও বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন উন্নয়নের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা তার প্রাজ্ঞ দর্শন এবং দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিচালিত হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের কারণে ২০২০ একটি চ্যালেঞ্জিং বছর এবং এ সালের প্রথম দিক থেকে মহামারিটি সারা বিশ্বকে বিধ্বস্ত ও বিপর্যস্ত করে চলেছে। তিনি বলেন, এটি আমাদের সমাজ, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, জীবন ও জীবিকা, ব্যবসা এবং রফতানি আয়ের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে। কেবল এক সঙ্গে এবং সংহতি নিয়ে কাজ করার মাধ্যমেই আমরা এ মহামারির অবসান ঘটাতে পারি এবং এর পরবর্তী প্রভাব কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৭৫ বছরে জাতিসংঘের অনেক অর্জন রয়েছে এবং এটি স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছে, আন্তর্জাতিক উন্নয়নের রীতিনীতি রূপদান করেছে, সংঘাত নিরসনে সহায়তা করেছে এবং মানবিক পদক্ষেপের মাধ্যমে লাখো মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। তিনি আরো বলেন, এটি নারী-পুরুষের সমান অধিকারসহ সবার জন্য মানবাধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিত ও সুরক্ষায় কাজ করেছে।

বাংলাদেশ জাতিসংঘের একটি সক্রিয়, অবদানকারী ও দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাপী শান্তি ও সুরক্ষা বজায় রাখার প্রয়াসে বাংলাদেশ তার দীর্ঘদিনের ‘শান্তির সংস্কৃতি’র প্রতি অনুগত থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, আমাদের সরকার এসডিজি বাস্তবায়ন, নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারে অ্যাক্সেস বৃদ্ধি, খাদ্য সুরক্ষা অর্জন এবং বৈষম্য হ্রাস করার ক্ষেত্রে অনুকরণীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

তিনি আরো বলেন, গত ১১ বছর ধরে আমাদের অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স দুর্দান্ত। ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশ এবং ২১০০ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ বদ্বীপে পরিণত হওয়ার অভিযাত্রায় আমরা সঠিক পথে রয়েছি।

আজকের বিশ্ব ৭৫ বছর আগে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময়ের চেয়ে আলাদা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ ও সুযোগের এই পরিবর্তনশীল বিশ্বে জাতিসংঘ সব দেশের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ গড়ার একটি সুনির্দিষ্ট ও অর্থবহ রোডম্যাপের সাহায্যে জাতিসংঘ আমাদের সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ গড়ার প্রয়াসে আমাদের পথ নির্দেশক হতে পারে, যেখানে নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত হবে এবং মানবাধিকার সুরক্ষিত হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ, টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়বিচারের বিশ্ব গঠনের জন্য সব অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে একত্রে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। -বাসস

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএ/এইচএন