মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না

ঢাকা, শুক্রবার   ৩০ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৬ ১৪২৭,   ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০২:৪২ ১৮ অক্টোবর ২০২০  

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাব ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন ই বিগান।

সদ্যসমাপ্ত তিন দিনের ঢাকা সফরকালে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তার দেশ বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করে। রিপাবলিকান বা ডেমোক্রেট যারাই হোয়াইট হাউসে আসুক এ অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি সুপরিকল্পিত কৌশলের আওতায় ঢাকার সঙ্গে তার সম্পর্কের রূপরেখা তৈরি করে থাকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অতীতের উদাহরণ থেকে দেখা যায় যে, প্রশাসনের পরিবর্তনের ফলে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির দ্রুত কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বৃহস্পতিবার বিগানের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতায় যে কেউ আসুক বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি এর শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা ঢাকার দিকে মার্কিন আগ্রহ আকর্ষণ করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মার্কিন স্বার্থ বিবেচনায় রাখে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের প্রতিধ্বনি করে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে হোক বা ওবামা প্রশাসনের অধীনে হোক বাংলাদেশের প্রতি মার্কিন নীতি পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, এখন তারা (মার্কিন) আইপিএস (ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল) গ্রহণ করেছে। তবে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত তাৎপর্যে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বিগান তার সফরের সময় অন্য এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মূল অংশীদার হিসেবে দেখে এবং আমরা একটি অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিককে এগিয়ে নিতে এ ক্ষেত্রে আমাদের অংশীদারিত্ব বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ হবে এই অঞ্চলে আমাদের কাজের একটি কেন্দ্রস্থল।

তবে তিনি স্বীকার করেন, এই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ ও উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোকে উদ্বিগ্ন করেছে।

ঢাকা রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের আরো বেশি সম্পৃক্ততা এবং প্রভাব কামনা করে।

অন্যদিকে বিগান বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ বাসভূমিতে ফিরিয়ে নিতে রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সেখানে অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য এ অঞ্চলের বড় বড় দেশগুলোকে মিয়ানমারের সরকারের প্রতি আরো ‘ব্যাপক ও ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠে’ আহ্বান জানানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সামরিক সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাসের আলোকে ঢাকার সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতেও আগ্রহী। -বাসস

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএ