গরিব-দুঃখীদের সেবক থেকে এমপি, আমতলাতেই তার অফিস

ঢাকা, শুক্রবার   ২৭ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৩ ১৪২৭,   ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

গরিব-দুঃখীদের সেবক থেকে এমপি, আমতলাতেই তার অফিস

জাফর আহমেদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২৪ ১৫ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৮:২১ ১৫ অক্টোবর ২০২০

শরীয়তপুর-১ আসনের এমপি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ইকবাল হোসেন অপু

শরীয়তপুর-১ আসনের এমপি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ইকবাল হোসেন অপু

চার দেয়ালের বদ্ধ এসি রুমে নিজের রাজনীতিকে আবদ্ধ করে রাখেননি। দাঁপিয়ে বেড়ান মাঠে। আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সম্মুখের আমতলায় বসেই মানুষকে সেবা দিয়ে এমপি হয়েছেন ইকবাল হোসেন অপু। আর এই আমতলায়ই তার অফিস।

একজন সাদা মনের রাজনীতিবিদ শরীয়তপুর-১ আসনের এমপি ইকবাল হোসেন অপু। তার নির্বাচনী এলাকার মানুষ যেকোনো বিষয় নিয়ে যখন-তখন তাকে কল দিয়ে জানায়। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাও নেন তিনি। এজন্য আরো বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন এমপি ইকবাল।

সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনের আমতলায় সারাদিন বসেন থাকেন তিনি। নেতা-কর্মীরাও সারাদিনই তাকে ঘিরে বসে থাকে এখানে। অনেকেই বলে, ‘অপু ভাইয়ের আমতলা’।

সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর আর্দশ ধারণ করে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ে তোলা ও নির্বাচনী এলাকার মানুষের আস্থা ভালোবাসা অর্জনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শরীয়তপুর-১ আসনের এমপি ইকবাল হোসেন অপুর সঙ্গে কথা হয় ডেইলি বাংলাদেশের।

ইকবাল হোসেন অপু বলেন, সাধারণ মানুষ কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই যাতে আমার কাছে আসতে পারে- এজন্য চার দেয়ালের বদ্ধ এসি রুমে অফিস করিনি। খোলা আকাশের নিচেই আমার অফিস। এলাকার সবাই আমার প্রিয়, তারা এলে আমার ভালো লাগে।

নির্দিষ্ট সময় ছাড়া আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে লোক-সমাগম তেমন থাকে না। কিন্তু নেতা-কর্মীরা জানেন, সকাল-সন্ধ্যা পার্টি অফিসের সামনের আমতলায় কেউ না থাকলেও ইকবাল হোসেন অপুকে পাওয়া যাবে।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনের আমতলায় বসে থাকেন এমপি ইকবাল হোসেন অপু। এখানে বসেই অফিসিয়াল ও নির্বাচনী এলাকার কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের ২০ ও ২১তম জাতীয় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী সদস্য নির্বাচিত হন ইকবাল হোসেন অপু। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। এরপর অনেকেই ধারণা করেছিলেন- এবার বুঝি ইকবাল হোসেন অপু নিজের কাজে বাইরে থাকবে। কিন্তু না; ঢাকায় থাকলে নিয়মিতই পার্টির নেতা-কর্মীদের আমতলায় সময় দেন তিনি। অনেক ক্ষেত্রে অফিসিয়াল ও নির্বাচনী এলাকার কাজকর্মের কাগজপত্রে স্বাক্ষরও করেন এই আমতলায়। সবসময় মানুষের কাতারেই থাকতে চান নির্লোভ এই এমপি।

এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হোসেন অপু বলেন, এমপি হলে মানুষ পাল্টে যায়- এটা ভুল। এমপি হলে মানুষকে ঘিরে কাজ আরো বেড়ে যায়। তাই খুব সাধারণ জায়গায়, সাধারণভাবে থাকলে মানুষ এমপির কাছে আসতে পারে। আর আমি এটাই চাই, কোনো মানুষ যেন আমার কাছ থেকে দূরে সরে না থাকে। তাদের সেবা দেয়া আমার দায়িত্ব এবং এটা আমার ভালো লাগে।

তিনি আরো বলেন, আমতলায় সবাইকে নিয়ে ভালো আছি। আমি মনে করি আন্তরিকতা থাকলে সব জায়গায় বসে কাজ করা যায়। জনগণের জন্য সেবার ব্রত নিয়ে রাজনীতিতে এসেছিলাম, এখনো আছি। আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে সমাজ ও দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছি। শুধু জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন মানুষ হয়ে তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের সেবক হিসেবে থাকতে চাই।

সাদাসিধে এ এমপি বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হলে সমাজের-মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয়ে যায়। মানুষ জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আস্থাশীল হলে সমাজে সন্ত্রাস, নৈতিকতার অবক্ষয়, দুর্নীতি, শোষণ,অপরাধ ও সমাজের অসংগতি দূর করা সম্ভব। আর এর মাধ্যমেি বঙ্গবন্ধুর আর্দশ সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা উল্লেখ করে অপু বলেন, মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন একজন মানুষ জনগণের কল্যাণে, রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করে মানুষের কতটা কাছাকাছি যাওয়া যায় তার প্রমাণ মেলে বঙ্গবন্ধুকে অনুসরণ করলে। আমি বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শ বাস্তবায়নে অবিচল।

তিনি মনে করেন, মানুষ যত ভালো আর উত্তম কাজ করে- ততই তার সৎ আর দৃঢ় মানবিক মূল্যবোধের প্রকাশ ঘটে। আর তিনি যদি হন একজন রাজনীতিবিদ, তাহলে তাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের হাজারো স্বপ্ন তৈরি হয়। আস্থা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জাআ/এআর