‘পানি ভবন’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৩ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

‘পানি ভবন’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:১২ ১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১২:৩৫ ২ অক্টোবর ২০২০

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ‘পানি ভবন’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- পিআইডি

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ‘পানি ভবন’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- পিআইডি

রাজধানীর গ্রিন রোডে প্রায় ২৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২তলা বিশিষ্ট নবনির্মিত ‘পানি ভবনের’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি পানি ভবনের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ভবনের যখন নামকরণ করি তখন বলেছিলাম পানি ভবনে যেন পানি থাকে ও জলাধার থাকে। মূল পরিকল্পনা ও নকশাটি সেভাবেই করা হয়েছে।

জীববৈচিত্র ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় নতুন জলাধার সৃষ্টি এবং বিদ্যমান জলাধারগুলোতে পানির ধারণক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে পূর্ববর্তী সামরিক সরকারগুলোর বিরুদ্ধে দেশের জলাধার ধ্বংস করারও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান পানি ভবনের কাছে পান্থপথে এক সময় বিরাট বিল থাকলেও সেখানে কোনো জলাধার না রেখে বক্স কালভার্ট করারও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, সারাদেশে যত খাল, বিল, হাওর, পুকুর, নদী আছে সবগুলোর যেন নাব্যতা থাকে, সেগুলো খনন করা, সেখানে পানি ধারণক্ষমতা বাড়াতে হবে। তাতে আমাদের জীববৈচিত্র রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং মৎস্য উৎপাদনও বাড়বে। সেই সঙ্গে মানুষের চহিদাটাও আমরা পূরণ করতে পারবো।

জলাধার বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষের পানির চাহিদা মেটাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, যে পানির জন্য এক সময় হাহাকার ছিলো সেই হাহাকারটা বন্ধ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষকে সুপেয় পানি দিতে হবে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের আওতায় এসেছে। ঢাকা শহরে পানির সমস্যা দূর করতে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।

ভূ-গর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ভূ-উপরস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিতে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা গবেষণার ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, গবেষণা ছাড়া কোনো কাজেই উৎকর্ষতা সম্ভব না। এক্ষেত্রে দেশের নদীগুলো ড্রেজিং এবং নাব্যতা বৃদ্ধিতে সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারের যেখানে স্থাপনা নির্মাণ হোক না কেন সেখানে যেন অন্তত বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যায় সেজন্য জলাধার থাকে সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দৃষ্টি দিতে হবে।

তিনি বলেন, তার নির্দেশনা অনুযায়ী স্থাপনা তৈরি হলে আমাদের পরিবেশটাও যেমন সুন্দর থাকবে তেমনি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর যেটি কমে যাচ্ছে, সেটিও আর কমে যাবে না। দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি গণস্বাস্থ্যের জন্যও উপযোগী হবে।

সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছিল বলেই আজকে করোনার মধ্যেও তার সরকার গতিশীল রয়েছে। বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে এবং সেগুলো জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে পারছে-এমন অভিমত ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা নির্মিত এবং নির্মাণাধীন স্থাপনাগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণের পরামর্শ দেন। তিনি নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলোর কাজ যথাসময়ে এবং যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্যও এ সময় সংশ্লিষ্ট মহলকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে/জেডআর