বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্

ঢাকা, বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৩ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৫১ ১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৪:২৯ ২ অক্টোবর ২০২০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘ম্যুরাল’ ও ‘মুজিব কর্নার’, এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নবনির্মিত ‘টার্মিনাল ভবন’ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘ম্যুরাল’ ও ‘মুজিব কর্নার’, এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নবনির্মিত ‘টার্মিনাল ভবন’ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিমান পরিবহন চুক্তির বিষয় উল্লেখ করে বলেছেন, তার সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ স্থাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানের নিরাপত্তা এবং সেবা বৃদ্ধিতে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার চাহিদা অনুযায়ী যথাযথভাবে আইনগুলো প্রণয়ন করে সেই আইনও আমরা পাশ করে দিয়েছি যেন আমাদের বিমান পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাঠাতে পারি। আর অন্য দেশ থেকেও যেন আসতে পারে। সেদিকেও আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিয়েছি।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গ্রীনরোডে নবনির্মিত ‘পানি ভবনের’ উদ্বোধনের সময় একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একইসঙ্গে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্মুখে নির্মিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘ম্যুরাল’ ও বিমানবন্দরের অভ্যন্তরস্থ ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের নবনির্মিত প্রধান কার্যালয় ‘পর্যটন ভবন’ উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপনের মাধ্যমে নির্মাণ কাজেরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ধন্যবাদ জানাই আমাদের এয়ারলাইন্সকে; কারণ আজকে দেখলাম, আমেরিকারর সঙ্গে একটা চুক্তি হয়েছে, যেখানে আমাদের বিমান যেতে পারবে।

বাংলাদেশ বিমানের আধুনিকায়নে তিনি আমেরিকার বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর এ পর্যন্ত অত্যাধুনিক ১৩টি বিমান আমাদের বিমানবহরে যুক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা যখন বোয়িং বিমানগুলো কিনি তখন থেকেই এটা একটা প্রচেষ্টা ছিলো, যেন আমেরিকায় আমাদের বিমান নিতে পারি। কারণ, সেখানে আমাদের অনেক বাঙালি বসবাস করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে বাঙালিরা থাকে (বসবাস করে) সেখানে ঢাকা থেকে সরাসরি যেন আমাদের বিমান পাঠাতে পারি। ঢাকা থেকে টরেন্টো, নিউইয়র্ক ও টোকিওসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেন আমরা যেতে পারি সেজন্য কিছু বিমানও আমরা ক্রয় করেছি।

‘কাজেই সবার সঙ্গে একটা সমঝোতা করে এই শিল্পটাকে আমাদের আরো উন্নত করতে হবে, এই যোগাযোগটাকেও বাড়াতে হবে সেজন্যই আমরা বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছি যোগ করেন তিনি।’

বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত ৩০ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বিমান পরিবহন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এখন থেকে এই চুক্তি দুটি দেশের মধ্যে বিমান চালনা পুনরায় শুরু করার প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। 

চুক্তি অনুসারে, বাংলাদেশ ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই কোড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ফ্লাইট পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। 

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহিবুল হক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার স্ব স্ব সরকারের পক্ষে ঢাকায় এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, বেসামরিক বিমান পরিবহন এবং পর্যটন মন্ত্রী মো.মাহবুব আলী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহিবুল হক এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং গ্রীন রোডের নবনির্মত পানি ভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন।

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এবং পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী একেএম এনামুল করিম শামীম ও পানি ভবন থেকে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস গণভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

এছাড়া সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সম্পর্কিত একাধিক ভিডিও চিত্র অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম শুরু করলেও পরবর্তীতে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা আর সেটিকে অব্যাহত রাখেননি।

‘কমিশনবাজি আর নিজেদের পকেট ভারি করাই তাদের উদ্দেশ্য থাকায় বিমানের আর অগ্রগতি হয়নি’- এমন অভিমত ব্যক্ত করে তিনি বলেন, প্রথমবার ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালীনই তার সরকার চট্টগ্রামে বিমানবন্দর তৈরি করে সেটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে। সেই সঙ্গে সিলেট বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকমানের করাসহ ঢাকার বিমানবন্দরে বোর্ডিং ব্রিজ থেকে শুরু করে কার পার্কিং নির্মাণ করে। কারণ ১৯৯৬ সালে বিমানবন্দরে কোন বোর্ডিং ব্রিজ না থাকায় সে সময় বিমানে পায়ে হেঁটে গিয়ে চড়তে হতো, বলেন তিনি।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, প্রাচ্যের সঙ্গে পাশ্চাত্যের সংযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব থেকে একটা আদর্শ জায়গা হতে পারে, যদি আমরা একে সেভাবে উন্নত করতে পারি।

জাতির পিতা বাংলাদেশকে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড (সুইজারল্যান্ড অবদি ইষ্ট) হিসেবে গড়তে চেয়েছিলেন বলেও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক এয়ার রুটের মধ্যে থাকায় আমাদের সে সম্ভাবনাটা রয়েছে। যদি আমরা সেটাকে কাজে লাগাতে পারি তাহলে এয়ারলাইন্সই আমাদের অনেক টাকা উপার্জন করে দিতে পারে।

শেখ হাসিনা তার সরকারের বিমান এবং পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা এবং সিলেট, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আরো উন্নত করার প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এতে নেপাল, ভুটান এবং ভারতসহ পাশ্ববর্তী দেশগুলো ব্যবহার করতে পারবে এবং পর্যটনের একটা বিশাল সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। পাশাপাশি বরিশাল এবং বাগেরহাটের খানজাহান আলী বিমানবন্দরসহ অভ্যন্তরীণ রুটের বিমানবন্দরগুলোও নতুন করে চালু করা হয়েছে।

এভাবেই নৌপথ, সড়ক পথ, রেল পথ এবং আকাশ পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে তার সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা যত সহজ হবে তত দেশের অর্থনীতি গতিশীলতা পাবে, উন্নত হবে। পাশাপাশি মানুষের যাতায়াত ও সহজ হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন নতুন রেলপথ সৃষ্টি এবং সংস্কার এবং রেলের সংখ্যা বৃদ্ধি ও রেলপথের উন্নয়নের মাধ্যমেও দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করছে তার সরকার।

জেট ফুয়েল যেন সরাসরি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আসতে পারে সেজন্য পাইপলাইন নির্মাণের কাজ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ কাজও তার সরকার শুরু করেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে/জেডআর