ধান উদ্ভাবনকারী বিজ্ঞানী তমাল লতা আর নেই

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৭ ১৪২৭,   ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ধান উদ্ভাবনকারী বিজ্ঞানী তমাল লতা আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:০৭ ১ অক্টোবর ২০২০  

ড. তমাল লতা আদিত্য

ড. তমাল লতা আদিত্য

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) পরিচালক (গবেষণা) ও প্রখ্যাত ধান বিজ্ঞানী ড. তমাল লতা আদিত্য (৫২) আর নেই। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ১২টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। 

তার মৃত্যুতে ব্রি পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়াত আত্মার চিরশান্তি কামনা করেছেন মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর। 

তিনি শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ধান গবেষণার মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে তার অসামান্য অবদান জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখবে। 

বিজ্ঞানী তমাল লতা ১৯৯৪ সালে ব্রি-তে যোগ দেন। এরপর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি প্রায় ১৫টি জাত উদ্ভাবনে সরাসরি জড়িত ছিলেন। এছাড়া পরোক্ষভাবে আরো বেশ কিছু জাত উদ্ভাবন প্রক্রিয়াতে নিয়োজিত ছিলেন। তার উদ্ভাবনী ও ধান উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ‘ধান কন্যা’ হিসেবে বেশ সমাদৃত ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই পুত্র, চিকিৎসক স্বামীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

উল্লেখ্য, ড. তমাল লতা আদিত্য ৩১ অক্টোবর ১৯৬৭ সালে ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার কুন্ডল বালিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মৃত্যুঞ্জয় আদিত্য এবং মাতার নাম সুনীতি রাণী আদিত্য। 

তিনি ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং ২০০২ সালে ইম্পেরিয়াল কলেজ, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদ প্রজনন এবং বায়োটেকনোলজি বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। 

এছাড়া তিনি ২১ নভেম্বর ১৯৯৪ সালে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে ব্রির উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগে যোগ দেন। পরবর্তীতে ৯ আগস্ট ২০১০ সালে মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে পদন্নোতি লাভ করেন। এছাড়া গত ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর তিনি পরিচালক গবেষণা (চলতি দায়িত্ব) পদে যোগদান করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ পদে কর্মরত ছিলেন।

ধান প্রজননবিদ হিসেবে অনেকগুলো ধানের জাত উদ্ভাবন, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের কাজে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। বিশেষ করে ব্রি ধান ৫৭, ব্রি ধান ৫৮, ব্রি ধান ৬৩, ব্রি ধান ৭০, ব্রি ধান ৮০, ব্রি ধান ৮১, ব্রি ধান ৮২, ব্রি ধান ৮৮, ব্রি ধান ৯০ এবং ব্রি ধান ৯৫ ধানের জাতগুলো উদ্ভাবনে তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন। এছাড়াও ব্রি ধান ৪৬, ব্রি ধান ৪৯, ব্রি ধান ৫০, ব্রি ধান ৫৬, ব্রি ধান ৭১ ধানের জাতসমূহ উদ্ভাবনে তার অবদান ছিলো।

ধান গবেষণায় কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ড. তমাল লতা আদিত্য বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হন। তার নেতৃত্বে ব্রি-র উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার অর্জন করে। ড. আদিত্য আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জয়া আলোকিত নারী ২০২০ সম্মাননায় ভূষিত হন। ড. তমাল লতা আদিত্য ব্রির গবেষণা কর্মসূচি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গবেষণা জার্নালে তার ৩০টির বেশি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি পেশাগত কারণে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অষ্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, ভারত, নোপাল, ভুটানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। তিনি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, প্লান্ট ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিক্স সোসাইটি অব বাংলাদেশ, ব্রি সাইন্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সসহ নানাবিধ পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয় সদস্য হিসিবে নিয়োজিত ছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/এমআরকে