বিমান বাহিনীর ৫০ বছর পূর্তির ক্ষণগণনা শুরু

ঢাকা, বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৩ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বিমান বাহিনীর ৫০ বছর পূর্তির ক্ষণগণনা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:০২ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ০১:০৮ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী জনাব আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, এমপি সোমবার বিএএফ শাহীন হলে বিমান বাহিনীর প্রতিষ্ঠার সূবর্ণ জয়ন্ত্রীর ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানে উদ্ভোধনী কেক কাটেন। -আইএসপিআর

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী জনাব আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, এমপি সোমবার বিএএফ শাহীন হলে বিমান বাহিনীর প্রতিষ্ঠার সূবর্ণ জয়ন্ত্রীর ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানে উদ্ভোধনী কেক কাটেন। -আইএসপিআর

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আগামী বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করতে যাচ্ছে।  এ লক্ষ্যে সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বিএএফ শাহীন হলে ‘বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ৫০ বছর পূর্তির ক্ষণগণনার’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি দুইটি স্মারক ডাক টিকিটও উন্মোচন করেন। 

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানিয়েছে। আইএসপিআর আরো জানায়, প্রধান অতিথি অনুষ্ঠান স্থলে পৌঁছালে বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত তাকে স্বাগত জানান।

বিমানবাহিনী সুবর্ণ জয়ন্তীতে বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যের শুরুতেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এছাড়া, তিনি বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী সব শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। 

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্ম নেয়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের লক্ষ্যে বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নিঃসন্দেহে তা নব প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত করবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের আপামর জনতার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিমান বাহিনীর অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পক্ষ ত্যাগ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাগণ সেক্টর কমান্ডারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করে ছিলেন।

রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের সে উত্তাল দিনগুলোতে যুদ্ধের গতি-প্রকৃতিকে সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য একটি স্বতন্ত্র বিমান বাহিনী গঠনের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়। আর এ লক্ষ্যে ১৯৭১ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর একটি অটার বিমান, একটি ড্যাকোটা বিমান ও একটি অ্যালুয়েট হেলিকপ্টার এবং ৫৭ জন বাঙালি বৈমানিক, কারিগরি পেশার বিমান সেনা ও বেসামরিক বৈমানিকদের সমন্বয়ে ভারতে নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে ‘কিলো ফ্লাইট’ নামে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী যাত্রা শুরু করে। মহান মুক্তিযুদ্ধে ৫০টি বিমান অভিযান সাফল্যের সঙ্গে পরিচালনার মাধ্যমে ‘কিলো ফ্লাইট’ বিজয়কে ত্বরান্বিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।

উক্ত ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সদস্যদের অবদান, আত্মত্যাগ, স্বাধীনতার চেতনা এবং দেশ প্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রতিষ্ঠার উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘কিলোফ্লাইট’ এবং মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান এর অবদানের উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাঃ লেঃ মতিউর রহমান’ প্রদর্শন করা হয়।

এ ছাড়াও, একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বিমান সদরের প্রিন্সিপাল ষ্টাফ অফিসার, আমন্ত্রিত অতিথিগণ এবং কিলো ফ্লাইটের বীর যোদ্ধাসহ উর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএ