‘সমুদ্রের নিচের জীববৈচিত্র্য হতে পারে অর্থনীতির বড় শক্তি’

ঢাকা, বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৬ ১৪২৭,   ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

‘সমুদ্রের নিচের জীববৈচিত্র্য হতে পারে অর্থনীতির বড় শক্তি’

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:২৬ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১১:৫৭ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সমুদ্রের নিচের জীববৈচিত্র্য হতে পারে আমাদের অর্থনীতির বড় শক্তি। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ পূর্বক আমাদের পর্যটন করতে হবে। 

এক অনলাইন ওয়েবিনারে রোববার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এসব কথা বলেন। বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২০ উপলক্ষে সাগরের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিয়ে আন্দোলনকারী সংগঠন ’সেভ আওয়ার সি’ এর আয়োজন করে।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে সংযুক্ত হয়ে উন্নত সমৃদ্ধ এবং টেকসই বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কনসারভেশন ভ্যালুজ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন মো. শাহাব উদ্দিন।

পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, সামুদ্রিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সরকার দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড এর ১ হাজার ৭ শত ৩৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকা মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফলে বিভিন্ন প্রজাতির বিপন্ন সামুদ্রিক ডলফিন, তিমি এবং হাঙ্গর এর সংরক্ষণ ও বংশ বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে।  

তিনি বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপ সংলগ্ন ১ হাজার ৭ শত ৪৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া হিসেবে ঘোষণা করার কার্যক্রম চলমান আছে। বঙ্গোপসাগরে জলজ সার্বিক জীববৈচিত্র্য বিশেষ করে ডলফিন সংরক্ষণের টেকসই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষার জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সেন্টমার্টিন দ্বীপ, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত এবং সুন্দরবনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করেছে। এসব এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমসহ পরিবেশ সংরক্ষণে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকার ঘোষিত ইসিএ যথাযথভাবে কার্যকরের মাধ্যমে এ সব এলাকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

এছাড়া উপকূলের দূষণ প্রতিরোধে ৫২টি স্থানকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে দূষণ প্রতিরোধে কাজ করা হচ্ছে। সমুদ্রের বায়োডাইভার্সিটি এসেসমেন্টের জন্যও প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ভবিষ্যতে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে যুগান্তকারী ১০০ বছরের ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন করছে। এই প্ল্যান অনুযায়ী অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হবে। 

পর্যটন বিষয়ে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ পূর্বক আমাদের পর্যটন করতে হবে। সেভ আওয়ার সি’র উদ্যোগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দেশে এবং বিদেশে অবস্থানরত ডাইভারদের পানির নিচের সৌন্দর্যের স্টিল ও ভিডিও চিত্র প্রদর্শন নিশ্চয়ই প্রশংসার দাবিদার। 

তিনি বলেন, আমাদের দেশের ডাইভারদের এর মাধ্যমে স্কিল যেমন প্রদর্শন হচ্ছে, একই সঙ্গে তাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমুদ্রের তলের ট্যুরিজমের যে অপার সম্ভাবনা রয়েছে তাও বিশ্বের দরবারে ছড়িয়ে পড়বে।

অনুষ্ঠানে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ সভাপতিত্ব করেন। এতে অনলাইন এক্সিবিশন ও ওয়েবিনারে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারি, অ্যাকুয়াকালচার এবং মেরিন সায়েন্স বিভাগের ডিন প্রফেসর ড. কাজী আহসান হাবিব, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুসলেম উদ্দিন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক রাকিব আহমদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/এইচএন