কেন আপন ঘরে বাড়ছে হত্যার ঘটনা?

ঢাকা, রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১০ ১৪২৭,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কেন আপন ঘরে বাড়ছে হত্যার ঘটনা?

ইদ্রিস আলম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৩০ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:৩৯ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

একটি মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় আপন ঘর। আর পৃথিবীতে সবচেয়ে আপন হচ্ছে পরিবারের মানুষগুলো। সেখানেই এখন বেড়েছে দূরত্ব। সেই সঙ্গে বেড়েছে বিশ্বাস, ভালোবাসা ও আস্থার। তাই আপন ঘরেই স্বামীর হাতে স্ত্রী এবং স্ত্রীর হাতে স্বামী, সন্তানের হাতে বাবা-মা, আবার বাবা-মায়ের হাতে সন্তান খুনের মতো নেক্কারজনক ঘটনা ঘটছে। 

ব্যক্তিগত নৈতিক স্খলন থেকে শুরু করে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনায় একে অন্যের হাতে বাড়ছে খুনের ঘটনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের মতো নৃশংস এমন অপরাধের পেছনে সামাজিক-আর্থিক টানাপোড়েনের সঙ্গে রয়েছে হতাশা। পরকীয়া আর আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো কারণ। সঙ্গে করোনার মতো অস্থির পরিস্থিতিতে বাড়ছে হত্যার মতো ঘটনা।

অন্যদিকে সরকারি হিসাব বলছে, বছরে দেশে মোট হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪০ শতাংশ হচ্ছে পারিবারিক। একটি ঘটনার নৃশংসতা ছাড়িয়েছে আরেকটিকে। এমন কিছু ঘটনা জন্ম দিচ্ছে যা দেশজুড়ে আলোচনার-সমালোচনার প্রধান হয়ে পড়েছে। পারিবারিক এসব হত্যাকাণ্ডের বড় অংশের শিকার নারী ও শিশু। 

একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে, চলতি বছরের ৮ মাসে দেশে স্বামীর হাতে খুন হয়েছেন ১৬৩ জন নারী। 

গত শুক্রবার রাজধানীর দক্ষিণখানে মাদকাসক্ত সৎ ছেলে ইয়াসিনের হাতে খুন হয়েছেন বাবা মোহর উদ্দীন মিলন (৪০)। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দক্ষিণখান থানার কোটবাড়ি চড়ইটেক এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের ভাই হৃদয় জানায়, আগের স্ত্রী মারা যাওয়ায় সৎ ছেলে ইয়াসিনের মাকে বিয়ে করেন মোহর উদ্দীন মিলন। ইয়াসিন মাদকাসক্ত হওয়ায় প্রায় তাদের মধ্যে বিবাদ হতো। শুক্রবার রাতে বিবাদের এক পর্যায়ে ইয়াসিন ছুরি দিয়ে মোহর উদ্দীনকে আঘাত করে। তাকে উদ্ধার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে রাত সাড়ে ১০টায় চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের দক্ষিণখান জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হাফিজুর রহমান রিয়েল জানান, নিহত মিলন শেখের সৎ ছেলে ইয়াছিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

এদিকে আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশনের  সূত্র মতে, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতেই ঘটে নৃশংস এক ঘটনা। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স লিমিটেডে (বিটিসিএল) কর্মরত রাকিব আহমেদ নামের এক প্রকৌশলী নৃশংসভাবে খুন করে নিজের দুই শিশু সন্তানসহ স্ত্রীকে। খুনের পর ভিক্ষুক ও পাগলের বেশে দুই মাস পালিয়ে বেড়ায়। পরে ৮ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর থানা এলাকা থেকে লিটনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

রাকিব আহমেদ বলেন, পাওনাদারদের টাকার চাপে তিনি তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় আলোচনা করলেও তার পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজন তার জুয়া খেলার কারণে বিশ্বাস করত না। তখন পাওনাদারদের বিভিন্ন চাপের কারণে স্ত্রী মুন্নী ও তার ছেলে ফারহান তাকে বলে, ‘এভাবে বেঁচে থেকে লাভ কি? আমাদের কাউকে দিয়ে মেরে ফেল, এভাবে বেঁচে থাকতে ভালো লাগে না।’ পাওনাদারদের চাপ, আত্মীয়স্বজনদের অবিশ্বাস এবং স্ত্রী-সন্তানদের বিভিন্ন কথা তার অসহ্য লাগে তার কাছে। এর জের ধরে তাদের হত্যা করে পালিয়ে যান। 

জুয়ায় আসক্ত রাকিবের মতো এমন মানসিকতায় পৌঁছানোর কারণ একটি নয়। নানান পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে যোগ হয়েছে সাম্প্রতিক করোনার মতো অস্থির সময়ও। যদিও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে আইন হয়েছে ১০ বছর আগে। 

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ উপ-কমিশনার মসিউর রহমান বলেন, ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের জন্য সামাজিক একটা অস্থিরতা কাজ করে। তাই নানা সময় নিজের আপনজনদের সঙ্গে ঘটে যাচ্ছে অপ্রত্যাশিত হত্যার মত ঘটনা। 

আইনজীবী জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, এই করোনাকালে অপরাধ বেড়েছে। পারিবারিক ঘটনা বেশি ঘটেছে দীর্ঘ সময় ঘরে থাকার কারণে। এছাড়াও আর্থিক অভাব একটি বড় কারণ।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/জেডআর