দেশের পঞ্চম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের খসড়া অনুমোদন

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৮ ১৪২৭,   ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দেশের পঞ্চম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের খসড়া অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:১৬ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৩:২৩ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সচিবালয় প্রান্তে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ সভায় সভাপতিত্ব করেন- পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সচিবালয় প্রান্তে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ সভায় সভাপতিত্ব করেন- পিআইডি

উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণা কর্মে উৎকর্ষ সাধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে খুলনায় দেশের পঞ্চম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা, আইন, ২০২০’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই ভার্চুয়াল বৈঠকে যুক্ত হন। 

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, এই আইনের মাধ্যমে চিকিৎসা শাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, সেবার মান এবং সুযোগ-সুবিধার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন ঘটবে। প্রস্তাবিত মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে খুলনা বিভাগে উন্নত চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারিত হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, চিকিৎসা শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ-গবেষক তৈরি করার লক্ষ্যে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা এবং স্নাতক পর্যায়ে চিকিৎসা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষার মান সংরক্ষণ ও উন্নয়নে খুলনা বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে খুলনা অঞ্চলের যত মেডিকেল কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউট বা অন্যান্য চিকিৎসা সংক্রান্ত যেসব ইনস্টিটিউট থাকবে সবই এই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলে আসবে বলে জানান তিনি।

এর আগেও এটি নীতিগত অনুমোদনের জন্য এসেছিল উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরো বলেন, তখন বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করে এটার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছিল এবং লেজিসলেটিভ বিভাগের মতামত পাওয়ার পর স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ থেকে এটা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল।

তিনি বলেন, এর আগে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যে আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একই রকম আইন করা হয়েছে। এখন দেশে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা হচ্ছে পাঁচটি ।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর  থাকবেন। সমাবর্তন বা অন্য কোনো অনুষ্ঠান, যেখানে রাষ্ট্রপতি থাকার কথা, সেখানে যদি তিনি থাকতে না পারেন, তবে রাষ্ট্রপতি যাকে নির্বাচন করে দেবেন, তিনি তার পক্ষে সেখানে প্রধান হিসেবে থাকবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নতুন আইনে মোট ৫৫টি ধারা রয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, এখতিয়ার ও ক্ষমতার বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। পরিদর্শন ও আর্থিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ভূমিকা উল্লেখ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া, ক্ষমতা ও দায়িত্ব বর্ণনা করা হয়েছে আইনে। বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, অনুষদ বিভাগ প্রয়োজনীয় কমিটি ও শৃঙ্খলা বোর্ড গঠন এবং এদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব বর্ণনা করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরো বলেন, ২০ ধারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে রাষ্ট্রপতি এবং স্পিকারের মনোনীত প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অংশীজন ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিন্ডিকেট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সিন্ডিকেটে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এদিন মন্ত্রিসভা ‘চিকিৎসা ডিগ্রি (দ্য মেডিকেল ডিগ্রিস) (রহিতকরণ) আইন, ২০২০’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বলেও জানান আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, মেডিকেল কলেজের ডিগ্রি ও মান সবকিছু নির্ধারিত হতো দ্য মেডিকেল ডিগ্রি অ্যাক্ট, ১৯১৬ দিয়ে। পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে বিএমডিসি বা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ করা হল।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১৯১৬ সালের আইনের যতো প্রভিশন ও মোডিফিকেশন প্রয়োজন ছিল সবই ২০১০-এর আইনে নিয়ে আসা হয়েছে। ফলে ‘দ্য মেডিকেল ডিগ্রিস অ্যাক্ট, ১৯১৬’ এর কোনো কার্যকারিতা নেই। সেজন্য মন্ত্রিসভা এটা (চিকিৎসা শিক্ষা বিভাগ) রহিত করার প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন।

এছাড়া, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন আইন ২০২০ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছে মন্ত্রিসভা। একইসঙ্গে বাংলাদেশ এবং সেন্ট কিটস এন্ড নেভিসের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন সংক্রান্ত যৌথ ঘোষণাপত্রের খসড়া অনুসমর্থনের প্রস্তাব এবং বাংলাদেশ এবং কনওয়েলথ অব ডোমিনিকা’র মধ্যে কূটনেতিক সম্পর্ক স্থাপন সংক্রান্ত যৌথ ঘোষণাপত্রের খসড়া অনুসমর্থনের প্রস্তাব ও অনুমোদন করেছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আগামী অক্টোবরের শেষে ও নভেম্বরে দ্বিতীয় দফায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা করছে সরকার। আর এ জন্য মন্ত্রিসভায় বিদ্যমান অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রস্তুতির নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশবাসীকে মাস্ক পরিধানের ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়, বলেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ/এইচএন