বাধ্য হয়েই অবসরে যেতে চান স্মার্ট ঝাল মুড়িওয়ালা

ঢাকা, সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১২ ১৪২৭,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বাধ্য হয়েই অবসরে যেতে চান স্মার্ট ঝাল মুড়িওয়ালা

জাফর আহমেদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:১৬ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৫:৪১ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

ডিজিটাল স্মার্ট ঝাল মুড়িওয়ালা জুলহাস হাওলাদার- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ডিজিটাল স্মার্ট ঝাল মুড়িওয়ালা জুলহাস হাওলাদার- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চোখে চশমা, কানে এয়ারফোন, চকচকে শার্ট, গলায় টাই, পায়ে কালো সু। পকেটে রাখা মোবাইল ও কলম, হাতে সিলভার রংয়ের ঘড়ি। পরিপাটি সাজগোজ করা ৪৭ বছর বয়সের এই ব্যক্তির দেখা মেলে রাজধানী শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের ফুটপাতে। তিনি আর কেউ নন একজন স্মার্ট ঝাল মুড়িওয়ালা জুলহাস হাওলাদার। তবে দীর্ঘ দশ বছরের স্বপ্নের এই পেশা ছেড়ে জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়েই এখন অন্য পেশায় যেতে চান তিনি। 

করোনায় ঝাল মুড়ি আগের মতো এখন আর মানুষ খায় না। তাই বেচা-বিক্রি না হওয়ায় বউ বাচ্চা নিয়ে রীতি মতো হিমসিম খেতে হচ্ছে জুলহাসকে।

ছবি সংগৃহীতজুলহাসের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনে না চাইলেও বাধ্য হয়েই ছাড়তে হচ্ছে দীর্ঘ দশ বছরের এই পেশা। মুড়ি বিক্রি করা আমার পেশার চেয়েও নেশা বেশি। করোনার কারণে এখন আমার মুড়ি চলে না। সারা দিনে ৫শ’ টাকাও বিক্রি করতে পারি না। যে টাকা লাভ হয় তা দিয়ে বউ বাচ্চা নিয়ে রীতি মতো সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই ছাড়তে হচ্ছে মুড়ি বিক্রি করা। দাঁড়িয়ে যখন কথাগুলো বলছিলেন ৪৭ বছরের বয়সী ঝাঁলমুড়ি বিক্রেতা জুলহাস হাওলাদার তখন তার চোখে-মুখে পড়ে আবেগের ছাপ।

আগে বাসা-বাড়িতে কেয়ারটেকারের কাজ করতেন তিনি। তা ছেড়ে ঝালমুড়ির দোকান দিয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, সৎ পথে থেকে এই ব্যবসার মাধ্যমে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোই ছিলাম; কিন্তু করোনার প্রথম থেকে ঘর বসে ছিলাম এখন দোকান খোললেও মুড়ি আগের মতো চলে না। আমি একজন ডিজিটাল-স্মার্ট ঝালমুড়ি বিক্রেতা এটাই আমার অহংকার। আগে পরিপাটি পোশাকে স্মার্ট এ ঝালমুড়ি বিক্রেতা জুলহাসকে ঘিরেই উৎসুক মানুষের ভিড় লেগে থাকতো। করোনার কারণে এই ভিড় এখন একদিনও চোখে পড়ে না। 

ছবি সংগৃহীতজুলহাস জানান, গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর। তিন ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের পেছনে ছোট একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। বড় ছেলেটা একটি জটিল রোগ ভুগছেন।

ফুটপাতে মুড়ি বিক্রি করলেও পাশেই রাখা আছে ময়লার ঝুড়ি। সাধারণ মানুষ মুড়ি খেয়ে কাগজ, ময়লা সেই ঝুড়িতে রাখছেন। সঙ্গে রাখেন সাবান, পানি ও টিস্যু। 

তিনি আরো বলেন,পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে ভালো পোশাকে থাকার চেষ্টা করি সবসময়। আমি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বলে ক্রেতারাও আমাকে সম্মান দেয়, ভালোবাসে। আমি নিজেকে ডিজিটাল-স্মার্ট ঝালমুড়িওয়ালা পরিচয় দিতে ভালোবাসি। আমার বাবা একজন মুক্তিযুদ্ধা ছিলেন। তার আদর্শে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা, বাংলাদেশকে ভালোবাসি। তাই আমার আদর্শ বঙ্গবন্ধুর ছবিতে ফুলের মালা দিয়ে রাখি সবসময়। পাশেই আমার বাবার মুক্তিযুদ্ধের সনদও রাখি। এটাই আমার আদর্শ।

ডেইলি বাংলাদেশ/জাআ/এমআরকে