এক ছুরি দিয়েই মা-বাবা ও ভাইকে খুন, স্বীকারোক্তি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১১ ১৪২৮,   ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মীরসরাইয়ে ট্রিপল মার্ডার 

এক ছুরি দিয়েই মা-বাবা ও ভাইকে খুন, স্বীকারোক্তি

মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৫৫ ১৪ অক্টোবর ২০২১  

ঘাতক সাদেক হোসেন সাদ্দাম ও উদ্ধার করা ছুরি

ঘাতক সাদেক হোসেন সাদ্দাম ও উদ্ধার করা ছুরি

মীরসরাইয়ে একই পরিবারের ৩ জনকে খুন করার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে খুন হওয়া মোস্তফা, তার স্ত্রী জোসনা আরা ও মেঝো ছেলে আহমদ হোসেনকে খুনের কথা স্বীকার করেছে মোস্তাফার বড় ছেলে সাদেক হোসেন সাদ্দাম। 

সাদ্দাম জানান, তার বদ ও উগ্র মেজাজী স্ত্রী আইনুন নাহারের সঙ্গে প্রতিনিয়ত তার বাবা-মায়ের ঝগড়া, আপন শ্যালিকা তথা ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ঘরে না তোলা এবং মেঝো ভাইকে ৪ শতাংশ জমি লিখে দেয়ার কারণে বাবা-মা ও ছোট ভাইকে নিজেই ছুরি দিয়ে খুন করার কথা স্বীকার করে সাদ্দাম। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞাপ্তিতে এসব কথা জানা যায়। 

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাদ্দাম জানান, গত ১৫ দিন আগে বাবা-মা ও ভাইকে খুন করার চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেন। তিনি পরিকল্পনানুযায়ী কর্মস্থল থেকে বাড়িতে ফেরার পথে ১৩ অক্টোবর বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম শহরের বায়েজিদ এলাকা থেকে একটি স্টিলনেস স্টিলের ছুরি কিনেন। বিকেলে বাড়িতে এসে নিজ ঘরে বসেই খুনের পরিকল্পনা করে। সে অনুযায়ী সবাই যখন রাতে ঘুমিয়ে পড়ে বৃহস্পতিবার ভোর ৪ টার দিকে প্রথমে বাবা-মায়ের কক্ষে গিয়ে ঘুমন্ত বাবা মোস্তফার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করতে থাকে। এ সময় মা জোসনা আরা জাগ্রত হলে তাকেও একই কায়দায় ছুরিকাঘাত করে। পরে তারা রক্তাক্ত হয়ে ঘরের করিডোরে চলে আসে। এ সময় পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা ছোট ভাই আহমদ বাবা-মায়ের চিৎকার শুনে তাদেরকে রক্ষা করতে আসলে ভাইয়ের গলায় ছুরি চালিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে। এতে ৩ জনই ঘটনাস্থলে মারা যায়। 

সুরতহালে দেখা যায় বাবা ও ভাইয়ের শরীরে ২২ টি করে এবং মায়ের শরীরে ২৩ টি ছুরির আঘাত দেখা যায়। ঘটনার পরপর ঘাতক ছুরিটাকে ঘরের পশ্চিম পাশের পুকুরে ফেলে দিয়ে বাড়ির ছাদে উঠে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করতে থাকে। প্রতিবেশীরা ছুটে এলে দেখেন বাড়ির মূল ফটকসহ সব বন্ধ। পরে সাদ্দাম নিজেই তালা খুলে দিলে প্রতিবেশীরা বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা খুনের ঘটনা দেখে পুলিশকে খবর দেয়। 

পুলিশ জানায়, সাদ্দামের দেখানো মতে বাড়ির পুকুর থেকে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ছুরি উদ্ধার করা করা হয়। এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ওসি নুর হোসেন মামুন বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আটক যুবককে বিজ্ঞ আদালত পাঠানো হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে