রোগ নিয়ে কাটাতে হবে না দিন, সহজেই মিলবে সেবা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১১ ১৪২৮,   ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

রোগ নিয়ে কাটাতে হবে না দিন, সহজেই মিলবে সেবা

শাকের মোহাম্মদ রাসেল, লক্ষ্মীপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০৪ ১৪ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৮:৪৩ ১৫ অক্টোবর ২০২১

হেলথ কার্ড

হেলথ কার্ড

চরাঞ্চলের মানুষ অনেকটাই অসচেতন। নেই স্বাস্থ্য সচেতনতা। সন্তানরাও তাদের মতোই হয়। ফলে রোগ-বালাই নিয়েই করেন জীবনযাপন। তবে এবার লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন চরাঞ্চলের মানুষের সচেতনতায় তিন লাখ শিক্ষার্থী পাচ্ছে হেলথ কার্ড। এতে মিলবে স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ। এ কার্ডের সুবিধা পাবেন বয়স্করাও। এখন আর রোগ নিয়ে দিন কাটাতে হবে না, সহজেই মিলবে স্বাস্থ্যসেবা।

শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিকভাবে বেড়ে উঠতে ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ১১ অক্টোবর দুপুরে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর বাদাম ইউনিয়নের চরসীতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্কুল হেলথ কার্ড’ বিতরণ ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। মুজিববর্ষ উপলক্ষে সঠিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে এ কার্যক্রম শুরু করে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন।

শিক্ষার্থীদের হাতে হেলথ কার্ড, মাঝেই রয়েছেন ডিসি মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ

ঐ দিন চরসীতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০৪ শিক্ষার্থীর মাঝে এ কার্ড বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ডিসি মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ। পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাকি শিক্ষার্থীদেরও স্কুল হেলথ কার্ড বিতরণ করা হবে বলে জানান ডিসি। এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সচেতন মহল।

জানা গেছে, জেলার সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন, রামগতি উপজেলার চরাঞ্চল, কমলনগরের চরাঞ্চল ও রায়পুরের চরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুরা লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত। শহরের চেয়ে তারা অনেকটা অবহেলিত। কোনো ধরনের স্বাস্থ্য সচেতনতা নেই। রোগ-বালাই নিয়ে জীবনযাপন করে তারা। শুধু শিশুরাই নয়, বয়স্করাও অসচেতন। জেলা শহর ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দূরে থাকায় এসব মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে সবসময় বঞ্চিত থাকেন। তবে হেলথ কার্ড ও স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বয়স্করাও সুবিধা পাবেন। এখন আর ছেলে-মেয়েদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে বাড়তি চিন্তা করতে হবে না অভিভাবকদের।

শিক্ষার্থীদের মাঝে হেলথ কার্ড বিতরণের সময়

অভিভাবকরা জানান, এমন আয়োজনে তারা খুব খুশি। সরকারের এমন উদ্যোগে তাদের সন্তানরা স্বাস্থ্য সচেতন হবে। কার্ডের মাধ্যমে তারা নিয়মিত নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখবে। সন্তানদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও সচেতন থাকবেন।

হেলথ কার্ড বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের ডিসি মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ বলেন, বিভিন্ন দেশে স্কুলভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম রয়েছে। আমরাও শুরু করেছি। এ সেবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভালো ভূমিকা রাখবে। এর আওতায় প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থা যাচাই করা হবে। তাদের পুষ্টি ও শারীরিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে হেলথ কার্ডে লেখা হবে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকরা কার্ডের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা দেবেন। পাশাপাশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নির্দিষ্ট টিম গঠন করে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। ফলে এসব শিশু শিক্ষার্থী থেকেই অনেকে ক্ষুদে ডাক্তার হবে। তারাই তাদের সহপাঠীদের স্বাস্থ্য বিষয় নিয়ে হেলথ কার্ডে লিখবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর/এইচএন